মুঠোফোন-ল্যাপটপের বাড়তি ব্যবহার: সচেতন হবেন যেভাবে
তানজিম হাসান পাটোয়ারী | Monday, 11 October 2021
করোনাকালীন সময়ে স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপের ব্যবহার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এসব ডিভাইসের ওপর অতি নির্ভরতা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যারও সৃষ্টি করতে পারে। জেনে নেওয়া যাক এসব দ্বারা সৃষ্ট কিছু সমস্যার রকমফের ও সচেতনতার কিছু পদক্ষেপ।
দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
অনেকক্ষণ ধরে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে এর থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মি চোখের ক্ষতি করে। এতে ক্ষীণদৃষ্টি জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে যাকে ডাক্তারি ভাষায় ‘মায়োপিয়া’ বলা হয়। এছাড়া চোখে জ্বালাপোড়া বা থেকে থেকে পানি আসার মতো সমস্যাও হতে পারে।
অনিদ্রা
স্মার্টফোন বা ল্যাপটপসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস অতিরিক্ত ব্যবহারের আসক্তি ঘুম কমিয়ে দেয় এবং অনিদ্রাজনিত বিভিন্ন অসুখের সৃষ্টি করে।
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া
মুঠোফোন কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকেই হেডফোনে অতিরিক্ত শব্দে গান শোনেন। এর ফলে অল্প বয়সেই শ্রবণশক্তি কমে যায়।
অস্থিতে সমস্যা
দীর্ঘসময় ধরে মুঠোফোন কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহারের কারণে অনেকে আঙ্গুলের অস্থিতে ব্যথা অনুভব করেন। বিশেষ করে ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। একনাগাড়ে বাঁকা (ধনুকাকৃতি) হয়ে বসে কাজ করার ফলে ঘাড় ও পিঠের মাংসপেশী ও অস্থিতেও ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
মস্তিষ্কের রোগ
ব্যবহারের সময় মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ থেকে বিচ্ছুরিত রশ্মি মস্তিষ্কের উপর মারাত্নক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা যায়, এসব ডিভাইসগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ব্রেইন টিউমারও হতে পারে। বড়দের তুলনায় ছোটদের ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে।
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
একনাগাড়ে অনেকক্ষণ ফোনে কথা বলার ফলে মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলশ্রুতিতে অল্প বয়সেই স্মৃতিশক্তি কমে যাতে পারে।
মানসিক সমস্যা
বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, বেশি মাত্রায় এসব ডিভাইসে যারা আসক্ত তারা ব্যক্তিজীবনে প্রায়ই হতাশায় ভুগে থাকেন। এছাড়া শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে অলসতা বেড়ে যায়। প্রযুক্তিখাতে অতিরিক্ত আসক্তির ফলে মানুষ প্রায়ই পরিবার-পরিজনকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না যা পারিবারিক জীবনে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
প্রয়োজন সচেতনতা
মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় যখন সিগন্যাল কম থাকে তখন রেডিয়েশন বেশি হয়। আর যত বেশি রেডিয়েশন হবে তা শরীরের উপর তত বিরুপ প্রভাব ফেলবে। তাই বদ্ধ স্থানের পরিবর্তে খোলামেলা স্থানে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
এছাড়াও মুঠোফোন কেনার সময় এসএআর (স্পেসিফিক অ্যাবজরপশন রেইট) নম্বর দেখে কেনা উচিৎ। এসএআর লেভেল ১.৬ পার কিলোগ্রামের কম হলে তা ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ।
এছাড়াও হেডফোনের ব্যবহার কমানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রিণ, ইত্যাদিও সহায়ক হতে পারে। রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে থেকে ডিভাইস না ব্যবহার করাই ভালো।
ল্যাপটপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চেয়ার-টেবিলেই কাজ করা শ্রেয়, বিছানায় শুয়ে-বসে ল্যাপটপ চালানোর প্রবণতা নানা ধরনের ব্যথার কারণ হতে পারে। মুঠোফোন ব্যবহারের সময় ঘাড় না বাঁকিয়ে সোজাসুজি ধরতে হবে।
প্রযুক্তির উপর অতি মাত্রায় আসক্তি নানা ধরণের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা ডেকে আনতে পারে। তাই মুঠোফোন কিংবা ল্যাপটপের মত গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসগুলোকে সঠিক মাত্রায় ও সাবধানে ব্যবহারের মাধ্যমে এগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তানজিম হাসান পাটোয়ারী বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
tanjimhasan001@gmail.com