logo

মারা যাওয়ার চেয়ে উৎসব বন্ধ রাখা ভালো: ডব্লিউএইচও

Tuesday, 21 December 2021


করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন দ্রুত ছড়াতে থাকায় বড়দিনের উৎসবের মৌসুমে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস। 

তিনি বলেছেন, “একটি জীবন হারানোর চেয়ে একটি অনুষ্ঠান বাতিল করাই শ্রেয়।”

সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় ডব্লিউএইচও সদর দপ্তরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক ‘উৎসব করে পস্তানোর চেয়ে’ বিশ্ববাসীকে তা পরে উদযাপনের ‘কঠোর সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়. করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন যুক্তরাষ্ট্রে আধিপত্য বিস্তার করার খবরের মধ্যেই এমন আহ্বান জানালেন ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, এর আগে বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করা করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন।

এর বিস্তার ঠেকাতে ফ্রান্স এবং জার্মানিসহ বেশ কিছু দেশ স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে ‘ভ্রমণ বিধিনিষেধ’ জারি করেছে। বড় দিনের সময় কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস।

‘জনগণের সুরক্ষার স্বার্থে’ লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে এবারের বর্ষবরণ উদযাপনের অনুষ্ঠান বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র সাদিক খান।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে গেব্রিয়েসুস বলেন, অনেক দেশেই উৎসবের সময় সামাজিক মেলামেশার কারণে সংক্রমণ বাড়বে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলবে এবং মৃত্যু বাড়বে- এ বিষয়ে ‘কোনো সন্দেহ নেই’।
“মহামারী নিয়ে আমরা সবাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমরা সবাই বন্ধু এবং স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই। আমরা সবাই আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে চাই।

“সবার স্বার্থে দ্রততম সময়ে সে অবস্থা ফেরানোর জন্য রাজনৈতিক নেতাসহ প্রত্যেককে, নিজের এবং অন্যদের রক্ষার জন্য আমাদের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

আর সেজন্য প্রয়োজনে বড়দিনের ছুটিতে উদযাপনের পরিকল্পনা বাতিল করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক।

গত নভেম্বররের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হওয়ার পর একে ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

২০২২ সালের মধ্যে মহামারীর অবসান ঘটাতে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বিশ্বের সব দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান।