logo

ভারতে করোনায় মৃত্যু ৫ লাখ ছাড়াল

এফই অনলাইন ডেস্ক | Friday, 4 February 2022


ভারতে সরকারি হিসাবে কোভিডে মৃত্যু ৫ লাখ ছাড়ানোর তথ্য দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যদিও অনেক গবেষকের ধারণা, দেশটি গতবছরই মৃত্যুর এ সংখ্যা অতিক্রম করেছিল, কিন্তু ভুলভাল জরিপ ও পশ্চিমাঞ্চলে অগণিত মৃত্যুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা উঠে আসেনি।

বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে কোভিডে মৃত্যুতে চতুর্থ স্থানে থাকা ভারত গত বছরের জুলাইয়েই সরকারি হিসাবে ৪ লাখ মৃত্যু রেকর্ড করেছিল; সেসময় দেশটি করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের দাপটে দিশেহারা দিন পার করেছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরকারি হিসাবে ভারতে কোভিডে যত মৃত্যু, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত আমাদের গবেষণায় ২০২১ এর মাঝামাঝিই ভারতে কোভিডে আনুমানিক ৩০ লাখ মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে তিনটি আলাদা ডাটাবেস ব্যবহার করেছি আমরা,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন গবেষণা প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক আহমেদাবাদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের সহকারী অধ্যাপক চিন্ময় টুম্বে।

গত মাসে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারত সরকার গবেষকদের ওই প্রতিবেদনকে উড়িয়ে দিয়েছে। বলেছে, জন্ম ও মৃত্যু অন্তর্ভুক্ত করার শক্তিশালী ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা রয়েছে তাদের।

ভারতের রাজ্যগুলো মূলত তাদের জেলাগুলোর কাছ থেকে কোভিডে মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি রাজ্য তাদের কোভিডে মৃত্যুর তথ্যের সংশোধনী দিয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটি রাজ্য সর্বোচ্চ আদালতের চাপে পড়ে এমনটা করতে বাধ্য হয়েছে। তবে বেশিরভাগ সময়ই কর্তৃপক্ষ দেরিতে নিবন্ধন ও অন্যান্য প্রশাসনিক ত্রুটির কথা বলে দায় সারে।

ভারত এখন করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের দাপটে সৃষ্ট তৃতীয় ঢেউ অতিক্রম করছে। অতি সংক্রামক এই ধরনটি এখন ভারতজুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা শীর্ষ সংক্রামক বিশেষজ্ঞদের; যদিও আক্রান্তদের বেশিরভাগেরই উপসর্গ মৃদু, বলছেন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারা।

গত মাসে ভারত সরকার তাদের কোভিড শনাক্তকরণ পরীক্ষার নীতিমালা শিথিল করে; করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বৃদ্ধ এবং অন্যান্য অসুস্থতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের বাধ্যতামূলক শনাক্তকরণ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নিয়ম বাতিল করতে রাজ্যগুলোকে বলে তারা।

মোট শনাক্তকরণ সংখ্যা কমে আসার পর সংশোধিত নতুন এক নির্দেশনায় সরকার আবার বিভিন্ন রাজ্যকে সাবধান করে জানায়, আক্রান্তদের শনাক্ত করা না গেলে ভাইরাসের বিস্তারের সঠিক তথ্য জানতে পারবে না তারা।

কিন্তু আক্রান্তদের অনেকেই পরীক্ষা না করানোর সুযোগ কাজে লাগানোয় ভারত এখন দৈনিক শনাক্তের যে তথ্য দিচ্ছে তাতে সত্যিকারের অবস্থা ও রোগের তীব্রতা প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মত সংক্রমণ বিস্তারের পথ ও গতি অনুসরণ করা অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ ও জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক গৌতম মেননের।

সরকারি হিসাবেই ভারতে মোট কোভিডে আক্রান্ত সংখ্যা ৪ কোটি ২০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে; যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে এত রোগী আর কোথাও শনাক্ত হয়নি।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে ভারত তাদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছিল; দেশটি এরই মধ্যে তাদের ৯৩ কোটি ৯০ লাখ প্রাপ্তবয়স্কের তিন-চতুর্থাংশকে ভ্যাকসিনের দুই ডোজ দিতে পেরেছে। কর্মকর্তারা এখন দুর্গম এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে টিকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে কোভিডে এক হাজার ৭২ জনের মৃত্যুর খবর জানালে ভারতে সরকারি হিসাবে করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যু ৫ লাখ ৫৫ জনে পৌঁছায়।

এর মধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টায় কেবল কেরালাতেই ৩৩৫ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। দক্ষিণের এই রাজ্যটি অবশ্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই গত বছর যেসব মৃত্যুর তথ্য তালিকাভুক্ত হয়নি, সেগুলো টালিতে যুক্ত করে নিচ্ছে।

ভারতে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে যত মৃত্যুর খবর জানা গেছে তার ১১ শতাংশই হয়েছে কেরালায়।

আদালতের চাপে পড়ে কেরালার মতো কিছু রাজ্য আগে যেমৃত্যুগুলো তালিকাভুক্ত হয়নি, সেগুলো যুক্ত করে নিচ্ছে। যদিও সব রাজ্য এমনটা করছে না,” বলেছেন মেনন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাটে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর ক্ষতিপূরণ চেয়ে এক লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে; তারমধ্যে ৮৭ হাজার আবেদন মঞ্জুরও হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন এক সরকারি কর্মকর্তা।

অথচ সরকারি হিসাবে রাজ্যটিতে কোভিডে মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১০ হাজার ৫৪৫ জনের; আবেদনের পরিমাণ এর ১০ গুণেরও বেশি।

কোভিড-১৯ মৃত্যুর কোনো তথ্যই বাদ পড়েনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে উদার হতে হচ্ছে, এ কারণেই মৃত্যুর চেয়ে আবেদন বেশি পড়েছে,” বলেছেন ওই কর্মকর্তা।