বিশ্ব ওরাল হেলথ ডে: সুস্থ দাঁত, সুন্দর জীবন
শবনম জাবীন চৌধুরী | Monday, 21 March 2022
প্রতি বছর ২০ মার্চ বিশ্বজুড়ে ওরাল হেলথ ডে (বিশ্ব মুখগহ্বর স্বাস্থ্য দিবস) হিসেবে পালন করা হয়। এফডিআই ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে এই দিবসটি পালিত হয়। মূলত মুখের সুস্বাস্থ্যের গুরুত্ব, মুখের নানারকম অসুখ সম্পর্কে সচেতনতা এবং দাঁতের সঠিক পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদানের জন্য এই দিবসটি পালিত হয়।
এ বছর ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডের স্লোগান “বি প্রাউড অব ইওর মাউথ ফর ইওর হ্যাপিনেস অ্যান্ড ওয়েল বিইং।”
দ্য গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ স্টাডি ২০১৯ এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫০ কোটি মানুষ নানারকম ওরাল ডিজিজে ভুগছে এবং এর মধ্যে দাঁত ক্ষয়ের সমস্যা সবচেয়ে প্রকট। এছাড়াও দাঁতের মাড়ির অসুখ, হার্পিস এবং মুখের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।
আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই চিত্র আরো ভয়াবহ। ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব ফার্মাসিউটিক্যাল সাইয়েন্সে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কোনো না কোনো মুখের সমস্যায় ভুগছে। এই হার শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে অনেক বেশি। পেরিওডোনাইটিস, জিঞ্জিভাইটিস, দাঁত ক্ষয়, অ্যালভেওলার অ্যাবসেস, দাঁতের সিস্ট, মুখগহ্বরের কারসিনোমা এগুলো বাংলাদেশের জনসাধারণের মধ্যে বহুল পরিচিত অসুখ।
বাংলাদেশে ওরাল ডিজিজে আক্রান্তদের সংখ্যা এত বেশি কেন?
প্রথমত, গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে এ সম্পর্কে জ্ঞান একেবারে শূণ্যের কোঠায়। দাঁত মাজার ক্ষেত্রে তারা সাধারণত নিমের ডাল বা ছাই ব্যবহার করে থাকে। চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে কোনো রকম সমস্যায় ভুগলেও তারা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত।
বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পান-সুপারি খাওয়ার নিয়মিত অভ্যাস রয়েছে। এর ফলে দাঁতের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
খাবারে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ এবং ধূমপানের ফলে মুখ ও দাঁতের ক্ষতি হয়।
শুধু কি তাই? ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করানোর ব্যাপারে বাবা-মায়ের বেশ অনীহা এবং অসচেতনতা লক্ষ্য করা যায়।
খুব অদ্ভুত শোনালেও এটা সত্যি যে দাঁতের নানারকম অসুখ নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেকরকম কুসংস্কার কাজ করে যা দাঁতের সমস্যাগুলোকে আরো ভয়াবহ করে তোলে।
ওরাল হেলথ একজন মানুষের সর্বোপরি সুস্বাস্থের জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
সঠিক ওরাল হেলথ বজায় থাকলে মুখ, দাঁত এবং দাঁতের মাড়ি সুরক্ষিত থাকে। সুন্দর এবং সুস্থ দাঁত শারীরিক সৌন্দর্যেরও একটি বিশেষ অংশ। দাঁত এবং মুখের সমস্যা থেকে নানারকম শারীরিক জটিলতা, যেমন-হৃদযন্ত্রের ব্যামো, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, স্ট্রোক, স্থূলতা এমনকি গর্ভবতী মায়েদের সঠিক সময়ের পূর্বেই সন্তান প্রসবের ঝুঁকির মতো সমস্যাগুলোর সূত্রপাত ঘটে থাকে।
ওরাল হেলথ বজায় রাখার জন্য যে কাজগুলো প্রত্যেকের করা উচিত
ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মাঝে নিয়মিত দাঁত মাজার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে এবং খাবারে কম চিনি গ্রহণের অভ্যাস করতে হবে।
ধূমপানের অভ্যাস, পান-সুপারি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করতে হবে। ওরাল হাইজিনের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে (যেমন-দাঁত ক্ষয় ও মাড়ির অসুখ একজনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কাজের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসকে কমিয়ে দেয়)।
চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে নিয়মিত চেকআপ করাতে হবে।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com