বিক্রি হওয়া অগ্রিম টিকিটের কী হবে, সে বিষয়ে জানেন না রেলমন্ত্রী
Tuesday, 11 January 2022
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচলের নির্দেশনা থাকলেও অনলাইনে বিক্রি হওয়া অগ্রিম টিকেটের কী হবে সে বিষয়ে কিছু জানেন না রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
আগেই টিকেট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখ থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল কীভাবে করবে, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন।
মঙ্গলবার রেল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “পাঁচ দিন আগেরও টিকেট বিক্রি হয়। তাই ১৩ জানুয়ারির টিকেট কতগুলো বিক্রি হয়েছে- তা জানতে হবে।”
টিকেট বেশি বিক্রি হলে ১৩ জানুয়ারি ট্রেন কীভাবে চলবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি বলছি না যে, সরকারের বিধি নিষেধ মানব না। যেহেতু অনলাইনে টিকেট বিক্রি হয়েছে। তাই বিষয়টি জানতে হবে আর স্বাস্থ্য বিধি তো অবশ্যই মানতে হবে।
দেশে আবার করোনাভাইরাসের বিস্তার বাড়ায় ১১ দফা বিধি-নিষেধ আরোপ করে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
সেখানে বাস ও ট্রেনে অর্ধেক আসনে যাত্রী বহনের পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থানে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
১৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে রেলমন্ত্রী বলেন, “অতীতে আপনারা দেখেছেন, সরকার ঘোষিত বিধি নিষেধ ট্রেন মেনে চলেছে। সব যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে ট্রেন করোনা ভাইরাসের সময় অর্ধেক যাত্রী নিয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনেছে।”
২০২০ সালে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু হলে মার্চের শেষ দিকে দেশজুড়ে লকডাউন জারি করা হয়, যা দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলে। সেই লকডাউনে জরুরি সেবার পরিবহন এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যে কারও চলাচল ছিল বারণ।
সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ওই বছরের ২৩ জুন থেকে যাত্রীবাহী সব ধরনের পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন চালুর কথা জানানো হয় এক সপ্তাহ পর। সেসময় বাতিল হওয়া ট্রেনের অগ্রিম টিকেট ক্রেতাদের টাকা ফেরত দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে চট্টগ্রামে রেলওয়ে স্টেশন রোডে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভূমিতে শপিংমলসহ হোটেল ও গেস্ট হাউজ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেন রেলমন্ত্রী।
৪০ বছর মেয়াদী এই চুক্তিতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ দশমিক ২৫ কোটি টাকা, যার নির্মাণ শেষ হবে চার বছরের মধ্যে।
এর আওতায় প্রায় ২৭ কাঠা জমির উপর হোটেল, শপিং মল, সিনেমা হল, কনভেনশন সেন্টার ও অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে তোলা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জমির মালিকানা রেলওয়ের থাকবে এবং ৪০ বছর পর ওই স্থাপনা রেলওয়ের শতভাগ মালিকানায় পরিচালিত হবে।
রেলমন্ত্রী বলেন, সরকার রেল খাতকে লাভজনক করার উদ্যোগ নিয়েছে, এটি পিপিপির অধীনে রেলে দ্বিতীয় চুক্তি।