বিএসএফ ‘জুলুম’ চালায়, অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা সদস্যের
এফই অনলাইন ডেস্ক | Saturday, 13 November 2021
সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশি হত্যা নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে এবার দুষলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার এক সদস্য। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
উদয়ন গুহ নামে তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেতা বলেছেন, “যারা সীমান্ত এলাকায় থাকি, তারা জানি, কীভাবে বিএসএফ এর এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় জুলুম চালায়।”
বাংলাদেশের লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম সীমান্তের ওপারের দিনহাটা এলাকার বিধান সভা সদস্য উদয়ন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলেন বলে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে।
কয়েকদিন আগে ওই সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে উদয়ন এই অভিযোগ করেন। নিহত ওই তিনজনের দুজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় বলে খবর বেরিয়েছে।
বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়ে বরাবরই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীর সমালোচনায় রয়েছে বিএসএফ। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিএসএফের হামলায় অর্ধশত বাংলাদেশি নিহত হয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সীমান্তে হত্যা কমিয়ে আনার আশ্বাস বারবার দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন ঘটছে না।
উদয়ন গুহের অভিযোগের বিষয়ে বিএসএফের কোনো প্রতিক্রিয়া ভারতের সংবাদ মাধ্যমে দেখা না গেলেও এই বাহিনীর পক্ষ থেকে বরাবর বলা হচ্ছে, সীমান্তে গরুসহ বিভিন্ন পণ্যের পাচার বন্ধ এবং অপরাধীদের দমনেই তারা কেবল গুলি চালায়।
এই নিয়েও প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেতা উদয়ন বলেন, “বিএসএফের মদদ ছাড়া সীমান্তে কোনো কিছুই পাচার করা সম্ভব নয়। আমি সীমান্তবর্তী এলাকার বিধায়ক। অধিকাংশ কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের সমস্যার কথা আমি জানি। স্টিলের ব্লেড দিয়ে মোড়া কাটাতাঁরের বেড়া পেরিয়ে কী করে পাচার হয়? তা নিয়ে সকলের মনেই প্রশ্ন আছে।
“বিএসএফ মাঝে মধ্যে দু-একজনকে গ্রেপ্তার করে, গুলি চালায়, কিন্তু পাচার সব সময় চলতে থাকে। মাঝে মাঝে যখন পাচারকারীদের সঙ্গে টাকা পয়সার ভাগে সমস্যা হয়, তখন বিএসএফ গুলি চালায়। মনে রাখতে হবে, কাউকে হত্যা করার অধিকার বিএসএফের নেই। বিএসএফের দিকে কেউ পাথর ছুড়েছে, এ কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। এ সব অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি এই কাজের।”
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান লাগোয়া তিন রাজ্যের সীমান্তে বিএসএফের ক্ষমতা বাড়িয়েছে। তাতে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও পাঞ্জাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও যে কোনো কিছু জব্দের ক্ষমতা পেয়েছে এই বাহিনী।
তার সমালোচনা করে আসছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দল বলছে, এতে রাজ্য পুলিশের ক্ষমতা খর্ব হবে।
উদয়ন বলেন, “এতদিন ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিএসএফের এলাকা ছিল। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় এই এলাকায় বিএসএফ হস্তক্ষেপ করতে পারত। এখন নতুন আইন বলবৎ করার চেষ্টা হচ্ছে পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে ৫০ কিলোমিটার বিএসএফের আওতায় আনার চেষ্টা হচ্ছে।
“রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিবাদ করেছেন। আমরাও প্রতিবাদ করছি। কারণ, ৫০ কিলোমিটার হলে অনেকদূর পর্যন্ত এলাকা বিএসএফের এক্তিয়ারের মধ্যে চলে আসবে। আমাদেরও গাড়ি আটকে রেখে বারবার নাজেহাল করা হয়। এ বার সাধারণ মানুষও অত্যাচারের মুখে পড়বে। বিএসএফের উপর অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণ করুক। না হলে অশান্তি বাড়বে।”