logo

বাণিজ্যমেলা বন্ধ চায় কোভিড পরামর্শক কমিটি

এফই অনলাইন ডেস্ক | Tuesday, 25 January 2022


ওমিক্রনের বিস্তারের কারণে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি; বাণিজ্য মেলা বন্ধেরও সুপারিশ এসেছে সেখানে।

মঙ্গলবার এসব সুপারিশ সরকারকে পাঠানো হয়েছে বলে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে বিধিনিষেধ কঠোর করতে সরকারকে কয়েক দফা সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশের বাস্তবায়নও জরুরি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

 “শুধু নির্দেশনা দিলেই হবে না, এটার বাস্তব প্রয়োগও দরকার। অর্থাৎ গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী, সবাই মাস্ক পরবে, অফিস-আদালত অর্ধেক জনবল দিয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। এগুলো ভালোভাবে হচ্ছে।

“কিন্তু বাণিজ্যমেলা চলছে, যা খোলা রাখা উচিত না। এখন এইগুলোর যদি বাস্তব প্রয়োগ না হয়, তাহলে ভালো ফলাফল আসবে না। এজন্য আমরা বলেছি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।”

করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১০ জানুয়ারি সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করে, যা কার্যকর করা হয় ১৩ জানুয়ারি থেকে।

সেসময় বাণিজ্য মেলার পরিচালক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেছিলেন, “মাস্ক ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মেলার ভেতরেও মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর রাখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।”

এরপর দ্রুত পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় ২১ জানুয়ারি নতুন বিধিনিষেধের ঘোষণা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সেখানে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যে কোনো ধরনের অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি যারা উপস্থিত থাকবেন, তাদের টিকা সনদ অথবা কোভিড নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়।

সব অফিস, কারখানাতেও কর্মীদের নোভিড সনদ লাগবে বলে সেদিন জানানো হয় সরকারের তরফ থেকে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সেদিন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, “যে কোনো জনসমাগমে যেতে হলে টিকা সনদ নিয়ে যেতে হবে। এটা সব জায়গায় প্রযোজ্য হবে। বই মেলা, স্টেডিয়াম, বাণিজ্যমেলাসহ সবখানেই এখন থেকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে। সব জায়গায় নিয়ন্ত্রণ করা হবে।”

ওমিক্রনের ধাক্কায় গত এক দিনে ১৬ হাজার ৩৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর এসেছে, যা মহামারীর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দৈনিক শনাক্তের হার আগের দিনই ৩২ শতাংশ পেরিয়ে গেছে।

এ অবস্থায় আবার লকডাউন দেওয়ার কোনো সুপারিশ করা হয়েছে কি না- এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক সহিদুল্লা বলেন, “লকডাউন এই মুহূর্তে দিয়ে খুব লাভ হবে না। লকডাউন দেওয়ার আগে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা জরুরি।

“ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে। যখন দেখব হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ সামাল দিতে পারছি না, তখন লকডাউন দেব। লকডাউনে কিছু সুবিধা হবে, কিন্তু জীবিকার ওপর যে প্রভাব পড়বে, তাও কম না। এই বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে।”