বাচ্চাদের শাকসবজি খাওয়ানোর কৌশল
শবনম জাবীন জেবা | Saturday, 9 April 2022
শাকসবজি আর শিশুদের মাঝে সম্পর্কটা যেন অনেকটা আড়ি আড়ি ভাব। পাতে শাকসবজি থাকলে খাওয়া নিয়ে চলে লুকোচুরি খেলা। মায়ের চেষ্টা যে করেই হোক আজকে অন্তত কিছুটা হলেও বাচ্চাকে সবজি খাওয়াতেই হবে। আর বাচ্চার মন রীতিমত তখন অংক কষে চলে, আজ কোন অজুহাতে সবজি খাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়!
মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের একটু কৌশলী পদক্ষেপ কিন্তু খুব সহজেই শিশুর সাথে শাকসবজির নানা পদের এক স্বাস্থ্যসম্মত বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারে।
অনেক শিশুই আছে যারা শাকসবজি খেতে পছন্দ করে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিত্রটা সম্পূর্ণ বিপরীত হয়। শাকসবজি কি শুধুই শিশুর বৃদ্ধি বা বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা মেটায়? ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়।
ছোটবেলা থেকে সবরকম খাবারের পাশাপাশি শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করলে বড় হয়ে সে প্রায় সব খাবারেই অভ্যস্ত হয়ে উঠবে যা সুস্থাস্থ্যের পরিপূরক।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের তথ্য অনুযায়ী, ২ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিন অন্ততপক্ষে এক কাপ সমপরিমাণ শাকসবজি খাওয়া উচিত। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এবং কায়িক পরিশ্রমের উপর ভিত্তি করে এই পরিমাণ ১ থেকে ৩ কাপ সমপরিমাণ হয়ে থাকে।
পছন্দের খাবারের রেসিপিতে শাকসবজি যোগ করা
‘ফিউশন’ (বিভিন্ন স্বাদের মিশেল) খাবার তৈরির ক্ষেত্রে অনেকেই এ কাজটা করে থাকেন। বাচ্চারা যে খাবারগুলো খুব আগ্রহের সাথে খেতে পছন্দ করে, সেই খাবারের রেসিপির সাথে যায় এমন শাকসবজি যোগ করা যেতেই পারে।
পরিবেশনের সময় প্রথমে কেবলমাত্র শাকসবজির পদ পরিবেশন
টেবিলে অন্য কোনো খাবারের অপশন না দেখে ক্ষুধা পেটে বাচ্চারা শাকসবজি খেয়ে নেবে। শাকসবজির পদ খাওয়া শেষে বাচ্চাকে অন্যান্য খাবারগুলো পরিবেশন করা যায়।
শাকসবজির সাথে সস জাতীয় কিছু পরিবেশন করা
বাচ্চারা যেকোনো খাবার সসে ডুবিয়ে খেতে পছন্দ করে। তাই খাবারের সাথে বিভিন্ন ধরনের সস পরিবেশন করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সেগুলো অবশ্যই ঘরে বানানো হতে হবে।
শিশুদের অনুকরণপ্রিয় স্বভাবকে কাজে লাগানো
একটি শিশু একদিনেই সবজি খাওয়া শিখবে না। তাকে পাশে বসিয়ে রেখে বড়রা নিয়মিত খেলে একদিন ঐ বাচ্চাটাও অনুকরণ করে ঠিক খাওয়া শিখবে।
‘আজ কোনটা খেতে চাও’ - এমন অপশন দেওয়া
বাচ্চাদের মতের গুরুত্ব দিলে তারা বিষয়টি খুব ভালোভাবে গ্রহণ করে। টেবিলে সবজির দুটি পদ বানিয়ে ছোট্ট শিশুটিকে বলাই যায় ‘আজ কোনটা খেতে চাও’। সে খুব আগ্রহভরে দুটির মধ্য থেকে একটি বেছে নিয়ে খেতে আরম্ভ করবে বা কখনো দুটো খাবারই খেতে পারে।
বিভিন্নভাবে একই সবজি রান্না করা
গরম, ঠান্ডা, হালকা ভেজে, ভাপিয়ে নিয়ে, মশলা দিয়ে বেশ করে রান্না করে-একই সবজি নানাভাবে রান্না করা যেতে পারে।
স্যুপে বিভিন্ন সবজি যোগ করা
স্যুপের মাঝে সবজি লুকানোর খেলাটা বাচ্চারা খুব একটা ধরতে পারে না। বেশ মজা করে সবজিসহ পুরো স্যুপটাই খেয়ে ফেলে।
বাজার করা এবং রান্না করার সময় বাচ্চাদের পাশে রাখা
এই দুটি কাজ করার ফলে শাকসবজির সাথে বেশি বেশি পরিচিতি ঘটবে এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে নানান মজার গল্প বলে বাচ্চাদের মনে একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা যায় খুব সহজেই।
বিভিন্ন মজাদার আকৃতিতে শাকসবজির উপস্থাপন
কাঁচা চিবিয়ে খাওয়া যায় এমন সবজিগুলো বিভিন্ন চিত্তাকর্ষক আকৃতিতে উপস্থাপন করলে বাচ্চারা খুব আনন্দের সাথে তা খেয়ে ফেলবে। এর জন্য চাইলে বিভিন্ন মজাদার আকৃতির কাটারগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
রঙিন এবং চিত্তাকর্ষক পাত্রে পরিবেশন
একটি সুন্দর এবং রঙিন পাত্রে খেতে কে না ভালোবাসে? সুন্দর পাত্রে এবং দেখতে লোভনীয় খাবারের সমন্বয় বাচ্চাদের মনকে বিমোহিত করে খাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী করবে।
বারে বারে শাকসবজির সাথে পরিচিতি
বাচ্চারা খেতে না চাইতেই পারে - একবার, দুইবার বা বহুবার। অল্প পরিমাণে, ভিন্ন ভিন্ন রেসিপিতে বা একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন - এককথায় বারেবারে শাকসবজির পদগুলো বাচ্চাদের পরিবেশন করতে হবে। হালটা ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com