logo

বন্ধ হবে ‘আরও বেশকিছু’ অনলাইন নিউজ পোর্টাল: তথ্যমন্ত্রী 

এফই অনলাইন ডেস্ক | Tuesday, 14 June 2022


অসত্য সংবাদ পরিবেশন, গুজব রটানো এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও বেশ কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। 

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, ওইসব নিউজ পোর্টাল বন্ধের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  

চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। 

হাছান মাহমুদ বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায় এমন কার্যক্রম পরিচালনাকারী ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ১৭৯টি অনলাইন নিউজ পোর্টালের ডোমেইন বরাদ্দ বাতিলসহ লিংক বন্ধ করার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

“এছাড়া অসত্য নিউজ পরিবেশনা, গুজব রটানো এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডেরর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও বেশকিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” 

 সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকা জেলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকার সংখ্যা এক হাজার ১২৬টি। এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকা ৪৯৯টি, সাপ্তাহিক ৩৪৫টি ও মাসিক ২৮২টি। 

এদিন সংসদে চট্টগ্রাম-৩ আসনের মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, ২০০৯ সালের আগে দেশে বিদ্যুৎ সুবিধাভুক্ত মানুষ ছিল ৪৭ শতাংশ। গত ১৩ বছরে অবশিষ্ট ৫৩ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এনে শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন এলাকাসমুহে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করা যাচ্ছে।”  

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু দুর্গম এলাকা বাদে দেশের সকল উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়েছে।  

গণফোরামের মোকাব্বির খানের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, জনগণকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ দিতে সরকার প্রতি বছর ক্যাপটিভ রেন্টাল বা ভাড়ায় চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভর্তুকি দেয়। গত ২০১৯৯-২০ অর্থবছরে এক হাজার ৭১৪ কোটি ৭৭ লাখ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে এক হাজার ৩৭৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।  

নাটোর-২ আসনের শফিকুল ইসলাম শিমুলের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী মোট প্রাথমিক গ্যাস মজুদের পরিমাণ ৩৯ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।  

উত্তোলনযোগ্য মজুদের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৪২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। গত ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত ১৯ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন গ্যাস উত্তোলনের পরে জানুয়ারি ২০২২-এ মজুদের পরিমাণ ৯ দশমিক ৩০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।  

সরকারি দলের মোহাম্মদ এবাদুল করিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে দেশীয় গ্যাস ক্ষেত্র থেকে দৈনিক গড়ে দুই হাজার ৩০৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।  

বর্তমানে আটটি গ্রাহক শ্রেণির অনুমোদিত গ্যাস লোড অনুযায়ী দৈনিক চাহিদা তিন হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশের গ্যাস ক্ষেত্রে উৎপাদন কম হওয়ায় ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পুরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।  

সরকারি দলের বেনজীর আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেশে বর্তমানে উৎপাদনরত ২০টি গ্যাসক্ষেত্রের উত্তোলনযোগ্য গ্যাস কূপের সংখ্যা ১০৭টি। সর্বশেষ আবিষ্কৃত জকিগঞ্জ গ্যাস ক্ষেত্রের উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ৫৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ঘনফুট।”  

চট্টগ্রামের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন জানান, কর্ণফুলী পেপার মিলের উৎপাদিত চার হাজার ৯৫ মেট্রিক টন কাগজ অবিক্রিত রয়েছে।