logo

বন্ড বাজারে বিমা চালু করতে চায় কর্তৃপক্ষ

জসীম উদ্দিন হারুন | Wednesday, 1 September 2021


বন্ড বাজারে বিনিয়োগকারীদের মূলধন ও সুদ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে বন্ড প্রবর্তকদের জন্য বিমা সুবিধা চালু করতে চায় দেশের বিমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ।

সূত্র জানায়, ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ বা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ) ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের (এসবিসি) মহাব্যবস্থাপক বিবেকানন্দ সাহার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে।

এই কমিটি এখন পর্যন্ত দুটি সভা করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, "আমরা এখন বন্ড প্রবর্তকদের জন্য কিভাবে বিমা সুবিধার প্রচলন করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছি।"

তিনি বলেন, এ ধরণের বিমা সুবিধা চালু করতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ এ জাতীয় ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিশ্বে সীমিত সংখ্যক পুনর্বিমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়াও, বিশ্বের বিভিন্ন বন্ড বাজারে প্রচলিত বিমা সুবিধাগুলো এক রকম নয়।

তিনি বলেন, "আসলে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সূত্র নেই, কিন্তু আমরা প্রতিটি সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছি।"

উল্লেখ্য, বন্ড মূলত ঋণপত্র যা বাজারে ছেড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সুদহারের বিনিময়ে ঋণ গ্রহণ করে এবং কিস্তিতে সুদ বিনিয়োগকারীরেক পরিশোধ করা হয়। মেয়াদ শেষে আসল বা মূল পুঁজি বিনিয়োগকারীকে ফিরিয়ে দিতে হয়।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে আইডিআরএ বন্ড বাজারে বিমা প্রচলন নিয়ে একটি খসড়া নির্দেশিকা তৈরি করেছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং অংশীদারদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, এই বিমা বন্ড বাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

কোনো বন্ড প্রবর্তক বা বন্ড ইস্যুকারী বিনিয়োগকারীদের মূলধন এবং সুদ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে বিনিয়োগকারীদের মূলধন এবং সুদ ফেরত দেওয়াই হবে এই বিমার লক্ষ্য।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিমা আইন ২০১০ অনুযায়ী বন্ডের বিমাগুলো কোনোভাবেই জীবন বিমা হিসেবে গণ্য হবে না, হবে সাধারণ বিমা।

বন্ড ইস্যুর জন্য আবেদন করার আগে বিমা করিয়ে নেওয়াকে বন্ড অনুমোদনের পূর্বশর্ত হিসেবে জুড়ে দেয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে এই খসড়া নির্দেশিকায়।

এদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রস্তাবিত নির্দেশনার বিষয়ে এক পত্রে বলেছে যে বন্ড ছাড়ার জন্য বিমা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা যাবে না। তবে কোনো বন্ড ইস্যুয়ার বা প্রবর্তক যদি ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে চায়, তাহলে এই বিমা প্রযোজ্য হতে পারে।

বিএসইসির মতে, "বন্ড প্রবর্তক তার নিজস্ব আর্থিক শক্তির ভিত্তিতে বিমা সুবিধা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।"

এতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, বিমা প্রিমিয়ামের খরচ অবশ্যই ব্যাংক গ্যারান্টির চেয়ে কম হতে হবে, অন্যথায় তা লাভজনক হবে না।

'সুকুক' বা ইসলামিক সিকিউরিটিজের জন্যও বিমা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে বিএসইসি আরো বলেছে, অবশ্য শরিয়ার আলোকে এই সুবিধা দেয়ার সুযোগ আছে।

উল্লেখ্য, বন্ড প্রবর্তকদের খেলাপি হওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বন্ড বাজারে কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি।

কোনো ব্যাংক কোনো বন্ডে বিনিয়োগ করলে সেটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবিকে অবহিত করতে পারে। তবে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই।

কমিটির অনেক সদস্য অবশ্য বলেছেন যে  এই ধরনের বিমা দ্বিতীয় স্তরের বা সেকেন্ডারি বন্ড বাজার বিকাশে সাহায্য করতে পারে যা এখন ইক্যুইটি ভিত্তিক। বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মাত্র দু’টি বন্ড লেনদেন হচ্ছে। একটি হলো ইসলামী ব্যাংক পারপেচুয়াল বন্ড, আরেকটি হলো আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড অরূপান্তরযোগ্য বন্ড।

দেশে বন্ডের বিনিয়োগ মূলত প্রাথমিক বাজারেই আটকে আছে এবং তা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট বা পূর্ব-নির্ধারিত গ্রাহকের কাছে বিক্রির মাধ্যমে। ফলে, বন্ডের খোলা বাজার এখনো তৈরি হয়নি। 

বিএসইসির পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মধ্যকার সাত বছরে ১১০টি প্রতিষ্ঠান করপোরেট বন্ড ও ডিবেঞ্চার ছেড়েছে যা পূর্ব-নির্ধারিত বিনিয়োগকারী কিনে নিয়েছে।

এর মধ্যে ৯৪টি প্রতিষ্ঠান বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে ৩৭ হাজার ২১২ কোটি টাকা। আর ১৬টি প্রতিষ্ঠান ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে তুলেছে এক হাজার ১১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

২০১৯-২০ ও ২০২০২-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ড ছেড়ে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে যথাক্রমে চার হাজার ‍২৫০ কোটি ও ১৪ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা।

এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল রেটিং অনুসারে, বন্ড ইস্যুকারীদের খেলাপি সংখ্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান মার্কিন বন্ড বাজারে খেলাপি হয়েছে।

jasimharoon@yahoo.com