বজ্রপাতে চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জে এক দিনে ১১ জনের মৃত্যু
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম | Sunday, 6 June 2021
চট্টগ্রামে বজ্রপাতে এক দিনে দুই নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও চারজন। আর সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলায় বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড উপজেলায় দুই জন করে এবং বোয়ালখালী ও মিরসরাইয়ে একজন করে মারা যান।
মৃতরা হলেন- সীতাকুণ্ড উপজেলায় আব্দুল জলিল (৪০) ও এসকান্দার আলী (৬০), ফটিকছড়িতে লাকী দাশ (৩৮) ও ভানু শীল (৪০), মিরসরাইয়ে স্কুল শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন (১৬) ও বোয়ালখালীতে মো. জাহাঙ্গীর (৩৯)।
আহতরা হলেন- মালতী রানী দাশ (৫০) ও শোভা রানী দাশ (৪৫), মোশারফ হোসেন (৫০) ও বদিউজ্জামান (১৮)।
তাদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন স্কুল শিক্ষার্থী এবং আব্দুল জলিল শিপ ইয়ার্ড শ্রমিক।
সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনির আহমদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, প্রিমিয়ার শিপ ইয়ার্ড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন জলিল। বিকালে বজ্রপাতে তিনি মারা যান।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, প্রিমিয়ার শিপ ইয়ার্ডের গেইটে দাঁড়ানো ছিলেন আব্দুল জলিল। এসময় বজ্রপাতে তিনি আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।”
উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুপ্তাখালী বাঁধে এসকান্দার আলী নামে একজন বজ্রপাতে মারা যান এবং বদিউজ্জামান নামে একজন আহত হন বলে জানান সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুরউদ্দিন রাশেদ।
তিনি বলেন, বিকালে দুইজনকে হাসপাতালে আনা হলে এসকান্দার আলীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, এসকান্দার ও বদিউজ্জামান বিকালে গুপ্তাখালী বেড়িবাঁধের কাছ থেকে গরু আনতে গিয়েছিলেন।
রোববার সকালে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর ওয়ার্ডের ডলুর পাড়ায় বজ্রপাতে লাকী দাশ ও ভানু শীল নামে দুই নারী মারা যান বলে ফটিকছড়ি থানার ওসি সো. রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালে বৃষ্টি শুরুর আগে লাকী, ভানু শীল, মালতী রানী, শোভা রানী ক্ষেতে মরিচ তুলতে গিয়েছিলেন। এ সময় সেখানে বজ্রপাত হলে তারা দগ্ধ হন।
“চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে লাকী ও ভানুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। অন্য দুইজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
হতাহতরা সবাই প্রতিবেশী বলে জানান ওসি রবিউল।
এদিকে মিরসরাই উপজেলার সায়েরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ডোমখালী গ্রামে সাজ্জাদ হোসেন নামে ১০ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মারা যায় বলে জানান মিরসরাই থানার এসআই আতাউর রহমান।
সায়েরখালী পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী জানান, বাবা মোশারফ হোসেনের সঙ্গে ধানের চারা রোপণ করছিলেন সাজ্জাদ। বজ্রপাতে তার বাবাও আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকায় পাহাড়ে লেবু বাগানে কাজ করার সময় জাহাঙ্গীর হোসেন নামে একজন মারা যান বলে জানান বোয়ালখালী থানার এসআই মো. মোস্তফা।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জাহাঙ্গীরকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিরাজগঞ্জ
রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া ও বেলকুচি উপজেলায় এসব বজ্রপাতের সময় একটি গরুও মারা গেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসন জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন, শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের চর আঙ্গারু গ্রামের আমানত হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৬), নরিনা ইউনিয়নের বাতিয়া গ্রামের আলহাজ বার্বুচি (৫০), উল্লাপাড়া উপজেলার বাগমারা গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪৫), উধুনিয়া ইউনিয়নের আগদিঘল গ্রামের শাহেদ আলীর ছেলে স্কুলছাত্র ফরিদুল ইসলাম (১৫) এবং বেলকুচি উপজেলার চরশমেসপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর স্ত্রী লাইলী থাতুন (৩৫)।
শাহজাদপুরের কায়েমপুর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালাম জানান, রোববার বিকেলে আব্দুল্লাহ বৃষ্টির মধ্যে কায়েমপুর ইউনিয়নের চর আঙ্গারু গ্রামে বাড়ির পাশে মাঠে ধান কাটছিলেন। এ সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল্লাহ মারা যান।
একই উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান, বিকেলে আলহাজ বার্বুচি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশেই মাঠে ধান শুকানোর কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জানান, বিকেলে ফরিদুল ইসলাম মাঠে ধান কাটছিলেন। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে ধান কাটা বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
একই উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফি কামাল শফি জানান, বিকেলে পাশের বাঙ্গালা ইউনিয়নের দড়িয়াল বিল থেকে হাঁসের বাথান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে রফিকুল মারা যান। এ সময় একটি গরুও মারা গেছে।
অপরদিকে, বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিসুর রহমান জানান, সন্ধ্যায় চর শমেসপুর গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে লাইলী খাতুন মারা গেছেন।