logo

ফেইসবুকে ২০২৩ পর্যন্ত নিষিদ্ধ ট্রাম্প

এফই ডেস্ক | Saturday, 5 June 2021


অন্তত ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ফেইসবুকে আর মনের কথা বলার সুযোগ হচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের।

ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছে, ওই সময় পর্যন্ত তারা ট্রাম্পকে সামাজিক যোগাযোগের এই জনপ্রিয় মাধ্যমে নিষিদ্ধ করেছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

ভবিষ্যতে নিয়ম ভঙ্গ করলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তারও একটি ঘোষণা এই সোশাল মিডিয়া কোম্পানি দিয়েছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার পর গত জানুয়ারিতে অস্থিরতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ফেইসবুক থেকে নিষিদ্ধ করা হয় ডনাল্ড ট্রাম্পকে, যখন তিনি প্রেসিডেন্টের মেয়াদের একেবারে শেষ দিকে ছিলেন। কোনো রাষ্ট্রনেতার ক্ষেত্রে এমন নিষেধাজ্ঞা নজিরবিহীন।

পরে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য ফেইসবুকের ২০ সদস্যের ওভারসাইট বোর্ডে যায়, যা ‘ফেইসবুকের সুপ্রিম কোর্ট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ওভারসাইট বোর্ড গত মে মাসে ওই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে ‘চিরতরে’ নিষিদ্ধের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার সমালোচনা করে বোর্ড বলে, ওই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে এমন একটি যৌক্তিক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যা সাধারণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

যৌক্তিক শাস্তি নির্ধারণ করতে বোর্ড থেকে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষকে ছয় মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত এক মাস পুরো হওয়ার আগেই জানিয়ে দিল ফেইসবুক।

ট্রাম্পের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছিল গত ৭ জানুয়ারি। ফেইসবুক জানিয়েছে, সেইদিন থেকে দুই বছরের জন্য ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

তাহলে ২০২৩ সালের জানুয়ারি ট্রাম্প তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট ফেরত পাবেন?

এক ব্লগে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ বলেছে, ট্রাম্পের কারণে সাধারণ মানুষ ঝুঁকিতে পড়বে না- এমন মনে হলেই কেবল তার অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হবে।

রয়টার্স লিখেছে, ফেইসবুকের এই সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া জানতে তার একজন মুখপাত্রের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছিল, তবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এখন পরিস্থিতি কেমন হলে তাকে ‘নাগরিক অস্থিরতা’ বলা হবে, কাকে ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ’ বিবেচনা করা হবে, কোন পর্যায়ে বিধিনিষেধের বিষয়গুলো আসবে, সেসব নির্ধারণ করতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসবে ফেইসবুক।

ফেইসবুক বলেছে, ট্রাম্প যদি আবারও কখনও নিয়ম ভাঙেন, তখন তার ক্ষেত্রে আবারও নিষেধাজ্ঞা আসবে এবং এক পর্যায়ে তাকে স্থায়ীভাবে ‘বহিষ্কার’ করা হতে পারে।

ফেইসবুকের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান নিক ক্লেগ বলেন, “পরিস্থিতির গুরুত্বের কারণেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, তার কর্মকাণ্ড আমাদের নিয়ন কানুন ভীষণভাবে লঙ্ঘন করেছ এবং এর মাত্রা আমাদের নতুন নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থার আওতায় পড়ে।”

রয়টার্স লিখেছে, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী জাতীয় নির্বাচনের আগের সময়টাতে ট্রাম্প তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে ২০২৪ সালে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমে ফেরার সুযোগ পেতেও পারেন।

গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আর রাজনীতিবিদদের কর্মকাণ্ড সামাল দিতে গিয়ে বেশ বেকায়দাতেই ছিল সামাজিক যোগাযোগের কোম্পানিগুলো। ট্রাম্পের আগে ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রনেতাকে নিষিদ্ধ করার কথা কোনো কোম্পানিই ভাবেনি।

তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয় নিয়ে ফেইসবুকের ‘মাথা ঘামানো’ উচিত নয় বলে যারা মনে করেন, তাদের তোপের মুখে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি।

ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু আইনপ্রণেতা এবং কিছু মুক্তচিন্তার পক্ষের আইনজীবীরা বিষয়টিকে দেখছেন বিরক্তিকর ‘সেন্সরশিপ’ হিসেবে।

ওভারসাইট বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্ব নেতাদের কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সে বিষয়েও তারা নিয়ম তৈরি করছে। অনেক সময় উসকানিমূলক বা আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েও রাজনীতিবিদরা ফেইসবুকের নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেয়ে আসছিলেন এই যুক্তিতে যে, তাদের সেসব বক্তব্যের ‘সংবাদমূল্য আছে’। সেই অবস্থান থেকেও ফেইসবুক সরে আসছে। কোনো ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলে তাও ফেইসবুক জানাবে।