প্রায়ই দেখা যায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পায় না: রাষ্ট্রপতি
Sunday, 20 March 2022
শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পছন্দমতো বিষয়ে পড়তে পারে সে বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, “প্রায়ই দেখা যায় শিক্ষার্থীরা নিজের আগ্রহ ও পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারে না।” খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তিনি বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে (শিক্ষার্থীরা) যে বিষয়ে সুযোগ পায়, সেটাই পড়তে বাধ্য হয়- এটা উচ্চশিক্ষার মাপকাঠি হতে পারে না। এ বিষয়টি নিয়ে আপনাদের ভাবতে হবে। কারণ শিক্ষার সাথে আগ্রহ আর আনন্দের সম্মিলন না ঘটলে সে শিক্ষা স্থায়ীরূপ পায় না, শিক্ষার উদ্দেশ্যও সফল হয় না।”
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বনানীতে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির আলোচনা সভায় বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন রাষ্ট্রপ্রধান।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে পারিবারিক বা মুনাফা অর্জনের প্রতিষ্ঠান নয়, সে কথাও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্মরণ করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়নে আপনাদের অবদান ও অংশীদারিত্ব প্রশংসনীয়। তবে একটা কথা পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ আর অন্যান্য বাণিজ্যিক খাতের বিনিয়োগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক হতে পারে না। ইদানীং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে নেতিবাচক খবর বেরিয়েছে।
“কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিনিয়োগকে মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নিয়ম-নীতি, অবকাঠামো ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে বছর বছর ছাত্র ভর্তি করছে আর সার্টিফিকেট বিতরণ করছে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের জন্য কতটুকু যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারছে, সেদিকে খেয়াল রাখার কোনো দায়িত্বই যেন তাদের নেই।
“আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেখানে কর্তৃপক্ষ মনে করেন- এটা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষায় কর্পোরেট কালচার প্রতিষ্ঠাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে- বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও অনুশীলনের স্থান।”
আলোকিত মানুষ গড়ার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সার্টিফিকেট-সর্বস্ব শিক্ষা নয়, পুঁথিগত বিদ্যার পাঠ নয়, নোট মুখস্ত করে পাশ করার শিক্ষা নয়, আমরা চাই সৃজনশীল মানুষ হবার শিক্ষা এবং কুসংস্কারমুক্ত আর খোলামনের আলোকিত ব্যক্তিত্ব গড়ার শিক্ষা। আমাদেরকে শ্রম বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিকল্পনা করতে হবে।”
আধুনিক পঠন-পাঠনের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার পাদপীঠ। এখানে মুক্ত চিন্তার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমান বিশ্ব একদিকে যেমন সম্ভাবনাময়, তেমনই তা চ্যালেঞ্জিংও বটে। শিক্ষার্থীরা যাতে এই চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতে পারে তা নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা যাতে কোনোভাবেই সার্টিফিকেট-সর্বস্ব না হয়, তা অবশ্যই নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।
“এর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ এবং সম্ভব হলে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
বনানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।