logo

প্রণোদনা প্যাকেজে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পেলেন নারী উদ্যোক্তারা

সিএসএমই'র জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ


মুনিমা সুলতানা | Tuesday, 9 March 2021


বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে খাতে প্রণোদনা প্যাকেজের ২০ হাজার কোটি টাকার ৫.৭ শতাংশ পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা।

নারী উদ্যোক্তাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থাগুলো বেশি বিতরণ করেছে, তবে তাদের অভিযোগ, তারা কোভিড-১৯ মহামারির এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার জন্য দেওয়া এই প্যাকেজে প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রণোদনা প্যাকেজের নীতিমালা অনুসারে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (সিএসএমই) উদ্যোগের জন্য নারীদের অন্তত ৫ শতাংশ সহায়তা প্যাকেজ পাওয়ার কথা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, "সুতরাং, আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বিতরণ করতে পেরেছি।"

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ২৫ ফেব্রুয়ারি অবধি প্যাকেজটির ৬২ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছিল।

তবে, নারী উদ্যোক্তাদের সমিতিগুলো অভিযোগ করেছে, জটিল পদ্ধতি এবং ব্যাংকারদের নারীদের অগ্রাধিকার দিতে অনীহা প্রকাশের কারণে তাদের সদস্যদের খুব কম মানুষই এই সুবিধা পেয়েছিলেন।

গত বছরের ১৩ এপ্রিল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পর থেকে ব্যাংকগুলোর টাকা ফেরত পাওয়ার আস্থা না থাকায় সব ধরনের ফার্মে মাসিক বিতরণ খুব কম ছিল।

কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পে আধিপত্যশীল নারী উদ্যোক্তারা ব্যাংকারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

ব্যবসায়ের আত্মবিশ্বাস সূচক নিয়ে সানেম পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে আরও দেখা গেছে, জরিপকৃত ফার্মের ৫৫ শতাংশ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ পেয়েছে।

গত জানুয়ারিতে জরিপটি ৫০২টি ফার্মে পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে কেবল ১১০টি ফার্ম প্যাকেজটির সুবিধা ভোগ করে। এই ফার্মগুলোতে পুরুষ অংশীদারদেরও আধিপত্য ছিল; এর অর্থ হলো, নারীরা আংশিকভাবে ফার্মগুলোর মালিক।

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সেলিমা আহমাদ বলেছেন, নারী উদ্যোক্তারা যেহেতু সীমিত সম্পদ এবং তহবিল নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন, তাই মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ব্যবসা পরিচালনার জন্য সরকারের কাছ থেকে তাদের আরও বেশি সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি এক ফোনালাপে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, "বেশিরভাগ নারী ব্যবসায়ীদের কম সুদে ঋণ সরবরাহ করা খুব জরুরি।"

এসএমই ফাউন্ডেশনের সাধারণ ব্যবস্থাপক ফারজানা খান বলেন, ফাউন্ডেশন নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের নীতিমালা তৈরির চেষ্টা করছে।

ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিতরণ করতে ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রাধান্য পাবেন নারীরা।"

সেলিমা আহমাদ নারীর নুন্যতম ৫.০ শতাংশ কোটা অর্জন প্রসঙ্গে বলেন বাংলাদেশ বাংককে নারী উদ্যোক্তাদের প্রনোদনা প্যাকেজের প্রাপ্তির বিস্তারিত তথ্যের দিকে নজর দিতে হবে যাতে করে চাহিদা সহ গ্রামীন, শহর এবং সেক্টর বিভাজনসহ দিকগুলোর সঠিক চিত্র পাওয়া যায় এবং নজরদারি বাড়ানো যায়। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৫.০ শতাংশ নুন্যতম হার চাহিদার তুলনায় কত তা বুঝে নীতি গ্রহণ করার উপর তিনি জোর দেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বাংকের এক কর্মকর্তা বলেন একটা ড্যাশবোর্ড তৈরীর কাজ চলছে তাতে প্রনোদনা ফান্ড সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যগুলো সন্নিবেশিত করার নির্দেশ থাকবে প্রত্যেক বাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে।