পরিবর্তনকে ‘হ্যাঁ’ বলুন
সঞ্জয় দত্ত | Thursday, 20 May 2021
জীবনে যেকোনো পদক্ষেপ যদি শুরুর কথা হয়, তবে জীবনে ‘পরিবর্তন’ই হলো শেষ কথা। কিন্তু, নদীর মতো বহমান জীবনের প্রতিটি বাঁক অনেকেই হয়তো খুব সহজে মেনে নিতে পারে না, আবার কেউ কেউ পরিবর্তনকে ভুল তর্জমা করে দুঃখকে ডেকে আনে খুব কাছে। এই মেনে নেয়া বা না নিতে পারার ক্ষুদ্রতম পার্থক্যটুকুর জন্যই মানুষের জীবনে নেমে আসে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। তাই, বলাই বাহুল্য, ‘পরিবর্তন’ শব্দটির তাৎপর্য বুঝতে পারলে, এবং তার সাথে পাল্লা দিয়ে হাঁটতে পারলে, জীবনের অনেক মুশকিল খুব নিমেষেই সহজ হতে পারে।
আমরা আমাদের আজকের লেখায় পরিবর্তনকে মেনে নেয়ার সুফলসমূহ আলোচনা করব।
যেকোনো বিষয়ে ভয় পাওয়া আমাদের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। করতে পারব, কি পারব না; আমার দ্বারা হবে কি হবে না— এজাতীয় প্রশ্ন হরহামেশাই অনেকসময় মনে আসে। খুব গভীরভাবে না ভেবে তখন অনেকেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কেন এমনটা হয়? আসলে, যখন কেউ তার জীবনে পরিবর্তন শব্দটির গ্রহণযোগ্যতা আনতে ব্যর্থ হয় বা চায় না, ঠিক তখনই জেঁকে বসে ভয়। আর ভয়কে জয় করতে, অবশ্যই আমাদের যাবতীয় যা-কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, তা মেনে নিয়ে ‘যখন যা, তখন তা’— এই সূত্রে সামনে এগিয়ে যাওয়া দরকার।
যেকোনো কর্ম সুন্দরভাবে শেষ করতে, আত্মবিশ্বাসের মতো শক্তিশালী বোধহয় কিছু আর নেই। কিন্তু, সবাই কি সব কাজে আত্মবিশ্বাসী হতে পারে? হয়তো পারে, হয়তো না। এই না পারার পেছনেও যার হাত, সবচেয়ে বেশি তা হলো: পরিবর্তনকে মেনে নিতে না পারা। যখন কেউ, যেকোনো পরিবর্তনকে প্রাকৃতিক সত্য বলে জানবে। অর্থাৎ, ‘এটা আসবেই, এটা ঘটবেই’ ধরনের মনোবৃত্তি ধারণ করে, তখন ব্যক্তি তার যেকোনো নতুন কাজ বা যেকোনো কিছুতে প্রচণ্ড বিশ্বাস রাখতে পারে। ফলে, পরিবর্তনকে মেনে নেয়ার মধ্য দিয়ে, আত্মবিশ্বাসের কল্যাণে; নিজের জন্য ইতিবাচক একটা গল্প লিখে ফেলা সম্ভব হয়।
এমন অনেকেই আছে, যারা প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন পদক্ষেপ নিয়ে ভাবে। এবং সেগুলোর বাস্তবায়নে হাতও দেয়। কিন্তু, করতে গিয়ে বোধ হয়, সেগুলো তার জন্য নিতান্তই বেমানান। অতঃপর, ব্যক্তিটি তখন চরমভাবে জীবনের খেই হারিয়ে ফেলে। অথচ, প্রতিটি ব্যর্থতার গোপনে এমন কিছু নতুন ধারণা থাকে, যা সত্যিকার অর্থেই সফলতা দিতে সক্ষম। আর ঠিক এভাবে, নতুন কিছু পদক্ষেপ, মানে নতুন কিছু পরিবর্তন, আমাদের সঠিক দিশা খুঁজে দেয়।
যেকোনো বিষয়ে সর্বোচ্চ সৌন্দর্য আহরণের পথ আসলে কী? ঠিক কী উপায়ে আমরা আমাদের চলার পথকে আরও মসৃণ করতে পারি? সহজ উত্তর হতে পারে— একাগ্রচিত্তে লেগে থাকা৷ আর এই মনোভাবটি আসে কেবলমাত্র পরিবর্তনকে মেনে নেয়ার মধ্য দিয়ে। যখন আমরা জীবনের যেকোনো উত্থান বা পতনকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিই, তখন জীবনে স্বস্তি বহাল থাকে। ইতিবাচক এই দিকটি তখন, ভালো হোক আর মন্দই হোক— তোয়াক্কা না করে, শুধু লেগে থাকাটাই ব্যক্তির মনোবলকে দারুণভাবে উসকে দেয়। বিষয়টি সবসময়ই সফলতার পথে দারুণ প্রভাব রাখে।
নিজেকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তোলার মানে হচ্ছে, নিজেকে আরও বেশি পরিপক্বতার দিকে নিয়ে যাওয়া। আর চলার পথে অধিক অভিজ্ঞতাই আমাদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতে পারে। কিন্তু, এমন বৈশিষ্ট্য অর্জন করা যায় কী করে? এ-ও সম্ভব পরিবর্তনকে সাদরে গ্রহণের মধ্য দিয়ে। যখন আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে মেনে নিতে পারব, তখন সম্মুখে যা-ই আসুক না কেন; তা মোকাবিলা করার শক্তি সহজাতভাবে ভেতর থেকে আসে, যা কিনা জীবনের সফরে নানাবিধ অভিজ্ঞতাও দিয়ে যায়।
আমরা যতটুকু জানি বা জানতে পারি তার সবটাই কি সত্যি? ঠিক কী উপায়ে জানা বিষয়গুলোর উপর আমরা আস্থা রাখতে পারি? গুরুত্বপূর্ণ দু'টো প্রশ্ন। যার উত্তরটা এমন— আমরা যা-কিছু নিজে ব্যবহারিক কৌশলে সম্পাদন করে জানি, তা-ই আমাদের জন্য সত্য এবং আস্থার। সবকিছু সবার জীবনে সত্য ও আস্থার হয় না। আর এই কঠিন ব্যাপারটিকে সহজ করে দেয়ার যোগ্যতা কেবল: পরিবর্তনকে মেনে নেয়া না নেয়ার মধ্যেই নিহিত। নতুন কোনো জ্ঞানকে মন খুলে গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা কেবল তখনই অনুভূত হয়। নিদেনপক্ষে যখন কেউ পরিবর্তকে সাদরে মেনে নিয়ে কাজ করতে থাকে, তখন তার নানা ধরনের বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা হয়, যা পরবর্তী সময়ে যেকোনো দরকারে খুব বেশি বাস্তবসম্মত ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে বলতে হয়, সাগরপাড়ে বসে যদি স্রোত স্থির হবার বাসনা নিয়ে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার রসদ যোগাতে হয়, তবে স্রোতই কেবল বয়ে যাবে আজন্মকাল, আর আমাদের ওই পারে বসেই দেখতে হবে স্রোতের চলে যাওয়া। জীবন তো স্রোতই, আর সে বয়ে যাবেই, তাইতো আমাদেরও বয়ে যাওয়া দরকার, সবসময় প্রতিদিন!
সঞ্জয় দত্ত বর্তমানে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
sanjoydatta0001@gmail.com