আইসিসিবির ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়
পদ্মা সেতু এক দুর্দান্ত অর্জন
এফই অনলাইন ডেস্ক | Thursday, 11 February 2021
পদ্মা সেতু এক বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্ন যার বাস্তবায়ন ঘটেছে। এটি বাংলাদেশের এক দুর্দান্ত অর্জন যা প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই জাতীয় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম। এভাবে উন্নয়ন অংশীদার ও সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিবাদনযোগ্য, অভিনন্দনপ্রাপ্য।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের (আইসিসিবি) ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এসব মন্তব্য করা হয়েছে। বুলেটেনটির হালনাগাদ (অক্টোবর-ডিসেম্বর) সংখ্যা এ মাসের শুরুতে প্রকাশিত হয়েছে।
’’পদ্মা সেতু: অভিনন্দন বাংলাদেশ’’ শিরোনামের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে: ’’পদ্মা সেতুটি সমাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের সাথে যুক্ত হবে। এই সেতু যোগাযোগ, বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটন এবং অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে অবদান রাখবে। বিশেষত এটি ভুটান, ভারত এবং নেপালের সাথে বাণিজ্য ও পর্যটনের জন্য আরো দ্রুত সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করবে।’’
আইসিসিবি বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে: ’’৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর মূল কাঠামোটি ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। রাস্তা ও রেলপথসহ দ্বিতল সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০০৭ সালে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৩.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ মূল প্রাক্কলিত ব্যায়ের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি। নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সময়মত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির পরিমাণ হ্রাস করা যেতে পারে।’’
পদ্মা সেতুর রেল লাইন সংযোগটি আশা করা হচ্ছে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে - এ তথ্য উল্লেখ করে আইসিসিবি আরো বলেছে: ’’এ সংযোগটি দেশের মধ্য ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাথে ঢাকার যোগাযোগকে উন্নত করবে।’’
বিশেষজ্ঞদের মতামত উদ্ধৃত করে আলোচ্য সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে: ’’২০২২ সালের জুনে পদ্মা সেতু পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে বার্ষিক জিডিপিতে এটি প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ অবদান রাখবে, দারিদ্র্য হ্রাস করবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাড়াবে। এটি দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগের দরজা খুলে দিবে এবং চট্রগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানতম স্থলবন্দর বেনাপোলের সাথে সংযুক্ত করবে।’’
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল শুধু বাংলাদেশের এক-চতুর্থাংশ ভূখ-ই নয়, এখানে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ বসবাস করে। এ তথ্য তুলে ধরে আইসিসিবি বলেছে, ’’মূলত দেশের অন্যান্য অংশের সাথে যোগাযোগের অভাবে এই অঞ্চলটি স্বল্পোন্নত রয়ে গেছে। এ অঞ্চলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দারিদ্র্যসীমার নিচে জনসংখ্যার অনুপাত প্রায় পাঁচ শতাংশ বেশি রয়েছে।’’
জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সমীক্ষা উদ্ধৃত করে এতে আরো বলা হয়েছে যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে ঢাকার যাতায়াত সময় ১০ শতাংশ কমলে অর্থনৈতিক আয় সাড়ে শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
আইসিসিবি ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে: ’’পদ্মা সেতু ছাড়াও, দেশে বর্তমানে ঢাকা মেট্রো রেল, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (এইচএসআইএ) এবং যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে ব্রিজ সহ বেশ কয়েকটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।’’
বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে এতে আরো বলা হয়েছে: ’’বাংলাদেশ বিবিআইএন মোটর যানবাহন চুক্তি, বিসিআইএম করিডোর এবং বিমসটেক জোটের মতো উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যা বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি করে এবং দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি সক্ষম পরিবেশ তৈরি করে।’’
এই প্রেক্ষিতে আইসিসিবি মনে করে, ’’বাণিজ্য প্রসারের জন্য, বাংলাদেশকে ইউএন কাস্টমস কনভেনশন অব আন্তর্জাতিক ট্রান্সপোর্টাল গুডস অফ টিআইআর কারনেটস (টিআইআর কনভেনশন, ১৯৭৫) এর অধীনে যোগদান করা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ টিআইআর কনভেনশনে যোগদান করেছে, পদ্মা সেতুর কাজ সমাপ্তির সাথে সাথে টিআইআর সিস্টেম দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংহতিকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারকে সহায়তা করবে।’’
আইসিসিবি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছে, ’’২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ তার ৫০ তম জন্মদিনে মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদায় পৌঁছানোর ভিশন অর্জন করতে চলেছে। উন্নয়নের গতিবেগ টিকিয়ে রাখতে উপযুক্ত অবকাঠামো তৈরি অত্যাবশ্যক। সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থাগুলিকে তফসিল অনুসারে চলমান এবং ভবিষ্যতের মেগা অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলি সমাপ্ত করতে একসাথে কাজ করতে হবে। কিছু মহলের আশংকা সত্ত্বেও উন্নয়নশীল অর্থনীতি হিসাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আরও মজবুত হবে।’’
[আইসিসিবির বুলেটিনটি পাওয়া যাবে এই ওয়েব ঠিকানায়: https://iccbangladesh.org.bd/wp-content/uploads/2021/02/ICC-Newsbulletin-Oct-Dec-2020.pdf]