নেত্রকোণায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হাওরাঞ্চলের মানুষ
নেত্রকোণা থেকে শফিকুল ইসলাম | Tuesday, 27 April 2021
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওর এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। অভিযোগ আছে, আকাশে মেঘ দেখা দিলেই বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে কখন ফিরবে তারও নিশ্চয়তা থাকে না। দিন-রাত, সময়ে-অসময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া এখন বিদ্যুৎ অফিসের নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেন।
বর্তমান সময়ে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে এমনিতেই বিপদে আছে বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। উপরন্তু, বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ার পর থেকে লোডশেডিং চরম মাত্রা ধারণ করে। সারাদিন কাজ করে বিদ্যুতের এমন অবস্থার কারণে রাতের বেলা শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। তাছাড়া শিক্ষার্থীরাও রাতের বেলা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারছে না। শুধু তাই নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ও মাঝারি কল-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা, ব্যাংকিং সেবা ও গৃহস্থালির কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। সন্ধ্যার পরপরই মোহনগঞ্জ বাজরে, এমনকি অধিকাংশ গ্রাম ও হাটবাজারে বিদ্যুৎ না থাকায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের দরুন ফ্রিজ, মোটর, কম্পিউটার, বাল্বসহ যান্ত্রিক ও ইলেকট্রিক সামগ্রী নষ্ট হবারও অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে রাতে চার্জ দিতে না পারায় উপজেলার অসংখ্য ইজিবাইক চালকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দিন-রাত বিদ্যুতের এরূপ যাওয়া-আসা দেখতে দেখতে অতিষ্ঠ স্থানীয় গ্রাহকেরা। স্থানীয় এক সাংবাদিক প্রতিদিন বিদ্যুৎ চলে গেলে ফেইসবুকে অনুমাননির্ভর পোস্ট দিয়ে বলেন, এক ঘন্টা পর বিদ্যুৎ আসবে। তাৎক্ষনিকভাবে এটা নিয়ে অনেকে হাসি-ঠাট্টা করলেও দেখা যায় বাস্তবে এমনটাই ঘটছে। বিদ্যুতের এমন লুকোচুরি খেলা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।
উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, "আমাদের এখানে প্রায় ১ বছর ধরে বিদ্যুতের এমন সমস্যা। বিশেষ করে সন্ধ্যায় যায় আর আসে, রাত ৯ টায় কিছুক্ষণ থেকে আবার চলে যায়। রাতে ঠিক মতো ঘুমাতে পারি না। সারাদিন কাজ করে রাতের বেলা লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারি না।"
একই উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের কৃষক করিম মিয়া বলেন, "আগে বিদ্যুৎ ছিল না, ভালোই ছিলাম। এখন বিদ্যুৎ এসে আরো সমস্যার মধ্যে আছি। বিদ্যুৎ বারবার যায় আর আসে।"
মোহনগঞ্জ বাজারের ধান ব্যবসায়ী রানা বলেন, "সারা দিনে বিদ্যুৎ কতবার যে আসে আর যায় তার হিসেব নেই। সন্ধ্যায় বাজারে বিদ্যুৎ না থাকাতে মানুষ ধান বিক্রি করতে আসে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাইকারি ধান ব্যবসায়ীরাও চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে আছে। আমরা এর একটা সুষ্ঠু সমাধান চাই।"
মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতি জোনাল অফিসের ডিজিএম আবুল কালাম জানান, উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১২ মেগাওয়াট, এখন পাওয়াও যাচ্ছে ১২ মেগাওয়াট।
তাহলে ঠিক কী কারণে লোডশেডিং হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিদ্যুৎ জিনিসটা এই রকমই। এই আছে, এই নাই।"
এই লোডশেডিংয়ের সমাধান কবে হবে এমন প্রশ্নের জবাবেও কোন সদুত্তর দিতে পারেননি জনাব আবুল কালাম।