logo

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে ডা.আখলাকুল হোসাইন স্মৃতি গ্রন্থাগার উদ্বোধন

শফিকুল ইসলাম | Sunday, 25 July 2021


নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শ নগরে শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদ স্মৃতি গ্রন্থাগার উদ্বোধন করেছেন স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদক প্রাপ্ত কবি নির্মলেন্দু গুণ।

রবিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে মোহনগঞ্জ আদর্শ নগরে শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে ভার্চুয়ালি এ গ্রন্থাগারের উদ্ধোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্মলেন্দু গুণ বলেন, হাওরের প্রতিটি শিক্ষার্থী যাতে পরবর্তী উচ্চতর শিক্ষার ভিতকে মজবুত করতে পারে তার জন্য উপযুক্ত মানের গ্রন্থাগার একান্ত প্রয়োজন ছিল। শিক্ষকদের পাঠাগারের গিয়ে বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে হবে। তাই শিক্ষকদের উচিত ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে নিয়ে পাঠাগারে বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করা। তিনি মোহনগঞ্জ  হতে সুনামগঞ্জ হাওর অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে  জন্য ট্রেন যোগাযোগ জরুরি বলে জানান।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায অধ্যাপক ড: লুৎফুল হাসান বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নেত্রকোণা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সাজ্জাদুল হাসানের প্রশংসা করেন। শিক্ষা ও যোগাযোগ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রতি জোর দেন তিনি। 

জানা যায়, ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। শিক্ষানুরাগী এই মানুষটি মোহনগঞ্জ উপজেলার অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিবেদিত এই মানুষটি কাজ করতেন। তাঁর পিতার স্বপ্ন ছিল আদর্শ নগরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। ২০১২ সালে পিতার মৃত্যুর আগে এলাকার জীবন চন্দ্র সরকারের কাছে কলেজ করার জন্য একটি চিঠি লিখে গিয়েছিলেন। পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য ২০১৫ সালে শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। কলেজের মধ্যে পিতার নামে গ্রন্থাগার স্থাপন করা হয়। 

গ্রন্থাগারটি  পাঁচ হাজার বইয়ের ধারণ ক্ষমতা আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সহ বিজ্ঞান ভিত্তিক বারো শত বই আছে।

হাওরের ছেলেমেয়েরা যাতে লাইব্রেরিতে গিয়ে জ্ঞান চর্চা  করতে পারে, সেজন্য  পিতার নামে বিমান পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের  সাবেক সচিব, শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হাওরপুত্র সাজ্জাদুল হাসান গ্রন্থাগার স্থাপন করেন।

শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়র গভর্নিং বডির সভাপতি কাজি আবদুর রহমান বলেন, গ্রন্থাগারের মাধ্যমে হাওর অঞ্চলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা বই পড়ার সুযোগ পাবে। তিনি এই মহতী উদ্যোগ কে সাধুবাদ জানান।

shafikul2002@gmail.com