logo

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী নিয়োগের ভাবনা সরকারের

এফই অনলাইন ডেস্ক | Tuesday, 15 February 2022


র‌্যাব এবং এর সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দেশটিতে আইনজীবী নিয়োগের 'ভাবনা' থেকে এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাদের পদক্ষেপের কথা অবহিত করে।

এদিনের বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়, আইনজীবী নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ পুরো বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দূতাবাস ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ কাজ করছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি সেখানে আমাদের দূতাবাস আগে থেকে কেন জানতে পারেনি?

“তারা তাদের মতো ব্যাখ্যা দিয়েছে। বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে গ্যাপ তৈরি হয়েছিল।”

সংসদীয় কমিটি লবিস্ট নিয়োগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “সেটা নিয়ে কাজ করছে। এর বাইরে পিআর ফার্ম, আইনজীবী নিয়োগের কথাও বলেছে।

“আমরা এ বিষয়ে বলেছি, যা যা করার করুক। দরকার হলে বাজেট বাড়িয়ে নিক। ফান্ড লাগলে বলুক। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের যে জায়গায় আছে, সেখানে এধরনের অনেক কথাবার্তা আসবে।”

আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্রে কী করবেন জানতে চাইলে ফারুক খান বলেন, "ওদের অর্থ দপ্তর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সেখানে আমাদের বা যাদের ভিসা বাতিল করেছে, তাদের বক্তব্য নেয়নি। কারণ দর্শানোর নোটিসও দেয়নি। তাদের এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা হবে।“

সোমবারের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারির বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা তুলতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘লবিস্ট’ নিয়োগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছিল সংসদের এই কমিটি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গত ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ‘গুরুতর’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমদসহ বাহিনীর সাত কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারকে তলব করে সরকারের অবস্থান জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠিও দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

সোমবারের বৈঠকের কার্যপত্রে আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টির পাশাপাশি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ নিয়েও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, শ্রম আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।

“যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা বাতিল করার পর বাংলাদেশ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও দেশটি পুনরায় সে সুবিধা চালু করেনি।”

মন্ত্রণালয় বলছে, “গত ২০ বছরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে কোনো দ্বিপাক্ষিক সফর হয়নি। তবে এ বছর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে উচ্চ পর্যায়ের সফর আয়োজনের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

গত ২৬ জানুয়ারি সংসদে এ নিয়ে বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র্রের ওই নিষেধাজ্ঞা উঠতে সময় লাগবে।

এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে এরকম নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সতর্ক থাকার জন্য বলেছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সভাপতি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র একটা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এরকম আরও আসতে পারে। দেখা গেল ইউরোপীয় ইউনিয়নও দিল। এজন্য আগে থেকে তৎপর হতে হবে।”

এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে স্বরাষ্ট্র, বৈদেশিক কর্মসংস্থানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন্ধু রাষ্ট্রকে কাজে লাগানোর পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে বাংলাদেশ ও দেশটির অভিন্ন বন্ধুদের কাজে লাগানোর পরামর্শও দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

এ বিষয়ে ফারুক খান বলেন, “জাপান, ভারত, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব আমাদের বন্ধু। এ দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেরও ভালো সম্পর্ক।

“কমন ফ্রেন্ডদের এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কাজে লাগানোর জন্য আমরা পরামর্শ দিয়েছি। মন্ত্রণালয় এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।”

এছাড়া সংসদীয় কমিটি বলেছে, বিভিন্ন দেশে নিখোঁজ হওয়া বা গুম বিষয়ে কোনো বৈশ্বিক ইনডেক্স থাকলে তা সংগ্রহ করতে হবে। অন্য দেশের সঙ্গে তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান কোন জায়গায় তা নির্ধারণ করতে হবে।

ফারুক খান বলেন, “আগামী এপ্রিলে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেটের মধ্যে বৈঠক হবে। এর আগে মার্চ মাসে তিনটি সংলাপ হবে। এসব জায়গায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য বলেছি। যদি দরকার হয় সংসদীয় কমিটিও যাবে।”

বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা উইং খোলার সুপারিশ করা হয়। 

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য তৎপর থাকার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মতো করে অন্য দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কি না, বাংলাদেশের বিপরীতে অন্য কোনো দেশের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না তা আগামী বৈঠকে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। 

বৈঠক থেকে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বাণিজ্য বাড়াতে দ্রুত ও সরাসরি নৌ যোগাযোগ স্থাপন করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। 

ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, মো. আব্দুল মজিদ খান, মো. হাবিবে মিল্লাত ও নাহিম রাজ্জাক অংশ নেন।