logo

নতুন নির্বাচন কমিশনার খোঁজার দায়িত্ব যাদের, তারা কারা

এফই অনলাইন ডেস্ক | Saturday, 5 February 2022


ছয় ব্যক্তির সহযোগিতা নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। 

এই ছয় ব্যক্তি হলেন-  বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি কুদ্দুস জামান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ছহুল হোসাইন, অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক, পিএসসি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন ও মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক মুসলিম চৌধুরী। 

শনিবার রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী তাদের সার্চ বা অনুসন্ধান কমিটির সদস্য মনোনীত করে দিয়েছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান

দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে দুই বছর ধরে বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

ইসি গঠনের সার্চ কমিটিতে এর আগেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এই বিচারকের। ২০১৭ সালের সার্চ কমিটিতে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে সদস্য ছিলেন তিনি।

ওবায়দুল হাসান ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।

৬২ বছর বয়সী ওবায়দুল হাসানের বাবা ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তিনি গণপরিষদ সদস্য হিসেবে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সংবিধান রচনায় সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ও বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ছোটভাই ।

ওবায়দুল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেন। এর আগে বিএসএস ও এমএসএস করেছেন অর্থনীতিতে।

আইনজীবি হিসেবে জেলা আদালতে কাজ শুরু করেন ১৯৮৬ সালে। হাই কোর্ট বিভাগে ১৯৮৮ সালে এবং আপিল বিভাগে ২০০৫ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

২০০৯ সালে হাই কোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান

৬১ বছর বয়সী এস এম কুদ্দুস জামান চার বছর ধরে হাই কোর্ট বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজবাড়িতে জন্ম নেওয়া কুদ্দুস জামান ১৯৮৪ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন। ২০০৬ সালে জেলা জজ হন। সুপ্রিম কোর্টে রেজ্রিস্টারের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

২০১৫ সালে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হন কুদ্দুস জামান। ২০১৮ সালে হাই কোর্টে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।

মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন

মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ২০০৭-২০১২ সালে নির্বাচন কমিশনারেরর দায়িত্ব পালন করেন। জরুরি অবস্থার সময় দায়িত্ব নেওয়া সে কমিশনই সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন করার প্রথম খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন।

সিলেটের সন্তান ছহুল হোসাইন জেলা জজ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। পরে আইন সচিবও হয়েছিলেন তিনি।

অবসর নেওয়ার পর তিনি নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

একাদশ সংসদ সংসদের সময় তার নামে সিলেট-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহও করেছিলেন সমর্থকরা।

ছহুল বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন হিসেবে কর্মরত।

আনোয়ারা সৈয়দ হক

আনোয়ারা সৈয়দ হক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেশে এক নামে পরিচিত। লেখক হিসেবেও রয়েছে তার পরিচিতি। তার স্বামী প্রয়াত সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের খ্যাতি ছিল সব্যসাচী লেখক হিসেবে।

১৯৪০ সালে যশোর জেলায় জন্ম নেওয়া আনোয়ারা সৈয়দ হক পড়াশুনা করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে এবং লন্ডনের এম আর সাইক-এ। তিনি কিছুকাল বিমানবাহিনীতে চিকিৎসক হিসেবে ছিলেন।

গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও শিশুসাহিত্য রচনা করে যাওয়া আনোয়ারা সৈয়দ হক ২০১০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ২০১৯ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার।

মুসলিম চৌধুরী

মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই থেকে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন। তার আগে অর্থ সচিব পদে ছিলেন তিনি।

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অডিট অ্যান্ড একাউন্টস্ ক্যাডারে যোগ দিয়ে কন্ট্রোলার জেনারেল অব একাউন্টস্, কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স এবং অর্থ বিভাগের উপসচিব, যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন মুসলিম চৌধুরী।

চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া মুসলিম চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটি থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড একাউন্টিংয়ে ডিসটিংশনসহ এমএসসি ডিগ্রি নেন।

সোহরাব হোসাইন

৬১ বছর বয়সী সোহরাব হোসাইন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে।

১৯৮৪ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এ কর্মকর্তা সবশেষ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ছিলেন। অবসরোত্তর ছুটিতে যান ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে।

নোয়াখালীর সন্তান সোহরাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত সোহরাব বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য।

সোহরাব হোসাইনের স্ত্রী ড. মাহমুদা ইয়াসমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ।

এর আগে ইসি গঠনের জন্য দুটি সার্চ কমিটি গঠিত হলেও এবারই প্রথম আইনের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হল। সম্প্রতি সংসদে পাস হয় ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন’।

আইনেই বলা রয়েছে, আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, সাংবিধানিক পদ সিএজি এবং পিএসসির চেয়ারম্যানের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি দুজন বিশিষ্ট নাগরিককে নিয়ে ছয়জনের সার্চ কমিটি গঠন করবেন।

এই সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে উপযুক্তদের বাছাই করবে। তা থেকে ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করবে। তাদের মধ্য থেকে অনধিক পাঁচজনকে সিইসি ও ইসি হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

আইনে সার্চ কমিটিকে সময় দেওয়া হয়েছে ১৫ দিন। তবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসি বিদায় নেবে বলে সার্চ কমিটির হাতে সময় আছে ১০ দিন।

সার্চ কমিটি: ফিরে দেখা

ইসি নিয়োগে কোনো আইন আগে না থাকায় বরাবরই নিয়োগ নিয়ে হচ্ছিল বিতর্ক। তা্র অবসানে জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় প্রথম সার্চ কমিটি নিয়ে আসেন। পরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও তা অনুসরণ করে চলছিলেন। এখন তা আইনি ভিত্তি পেল।

২০১২ সালে ৪ সদস্যের কমিটি: সেবার আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটিতে ছিলেন হাই কোর্টের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান, পিএসসি চেয়ারম্যান এ টি আহমদুল হক চৌধুরী ও মহাহিসাব নিরীক্ষক আহমেদ আতাউল হাকিম।

সেই কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব কাজী রকিবউদ্দীনের নাম প্রস্তাব করেছিল। তাদের মধ্যে নিয়োগ পেযেছিলেন কাজী রকিব।

আর আটটি নামের সুপারিশ থেকে আবু হাফিজ, আবদুল মোবারক, জাবেদ আলী, মো. শাহনেওয়াজ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

২০১৭ সালে সদস্যের কমিটি: আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সেই কমিটিতে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য শিরীণ আখতার।

সিইসি হিসেবে সাবেক সচিব কে এম নূরুল হুদা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারের নাম প্রস্তাব করেছিল এই কমিটি। তার মধ্য থেকে নিয়োগ পান নূরুল হুদা।

আর আটটি নামের প্রস্তাব থেকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।