নওগাঁয় ঝড়-বৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম | Sunday, 1 May 2022
গত দু'দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয় কৃষকেরা ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন ।
ইরি ধান কাটামারার প্রাক্কালে বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়ন ও গ্রামে ধানের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে ।
বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন এর শ্রীরামপুর, দেউকুড়িসহ অনেক এলাকায় বিগত দুদিনের থেমে থেমে বৃষ্টি এবং ঝড়ে বেশিরভাগ ধানের গাছ নুয়ে পড়েছে । অনেক জায়গায় ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে যার কারণে ধান কাটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জিরা ধান। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ধানের মধ্যে রয়েছে কাটারি ও আটাশ।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, এই বৃষ্টির কারণে তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে এবার।
মোঃ বাদশা মিয়া নামের এক সাবেক সেনা সদস্য জানিয়েছেন যে, তিনি এবার ১০ বিঘা জমিতে ইরি ধান চাষ করেছেন এবং প্রতি বিঘা জমিতে ধান রোপন করা থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত খরচ প্রায় ১৭,০০০ টাকা । স্বাভাবিক সময়ে প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৪ মন ধান উৎপাদন হয় এবং প্রতি মণ ধান প্রায় ১০০০ টাকায় বিক্রি হয় । কিন্তু এবারের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন । ঝড়-বৃষ্টির কারণে প্রতি বিঘা জমিতে ১৪ থেকে ১৫ মণ ধান পাওয়াই কঠিন এবং এই ভেজা ধান বাজারে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হতে পারে, যে কারণে উৎপাদন খরচ তোলায় কঠিন, উল্টো অনেক টাকা লোকসান গুনতে হবে এবার ।
একই কথা শোনালেন ইউনুস সরদার নামে আরেকজন কৃষিজীবী । তিনিও এবার বেশ কয়েক বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন এবং লোকসানের আশঙ্কা করছেন ।
এলাকায় আরও কথা হয় নজরুল নামে আরেকজন কৃষকের সঙ্গে । প্রত্যেকেই তারা উদ্বেগের কথা জানান।
টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট জেলার কৃষি অফিস এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝড়-বৃষ্টির কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের নওগাঁ, জয়পুরহাট, নাটোর জেলাসহ বিভিন্ন এলাকা ধান, আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসলের মধ্যে ধান উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও এ এলাকায় বিভিন্ন প্রকার দেশীয় ফলের চাষ করা হয় যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
jalam.dew@gmail.com