দেশের সবচেয়ে দ্রুতগামী অর্থনৈতিক খাতে দিকনির্দেশনার অভাব
দৌলত আক্তার মালা | Tuesday, 28 September 2021
কোটি কোটি টাকার লেনদেন করা ক্রমবর্ধনশীল ই-কমার্স এখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো ব্যবসা হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পায়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্র হতে জানা যায়।
কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স এবং কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিন) সংগ্রহ করতে কর নিবন্ধনের তালিকাবদ্ধ বিভাগগুলোতে ই-কমার্সের অস্তিত্ব নেই।
এই পরিস্থিতি দু’টি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে, যেখানে কর সংগ্রাহকেরা কর আইনের সামঞ্জস্য রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবার নতুন উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসায়ে আইনপ্রদত্ত সুবিধাগুলো কাজে লাগাতে পারছেন না।
দুই দশকেরও বেশি সময় আগে দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের সময় ই-কমার্স বাণিজ্য শুরু হয়। কিন্তু এখনো এই খাতটি কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ট্রেড লাইসেন্স আইন ২০১৬ এবং আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ থেকে একটি আলাদা ব্যবসায় বিভাগ হিসেবে কোনো স্বীকৃতি পায়নি।
নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারা ১৯৯৯ সালে ই-কমার্সের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং ২০০৯ পর্যন্ত সেগুলোকে পেশাদার ব্যবসায়ে উন্নীত করেছিলেন।
তবে গত বছর কোভিডজনিত লকডাউনের কারণে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে যায় এবং যোগান ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ই-কমার্স খাতে নতুন গতি বয়ে আনে।
এমতাবস্থায়, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের অধিদপ্তর (আরজেএসসি), সিটি কর্পোরেশন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) একটি নতুন বিভাগ তৈরি করতে হবে, যার অধীনে ই-কমার্স ব্যবসায়গুলো আলাদা নিবন্ধিত হতে পারবে।
বর্তমানে দেশের ই-কমার্স ব্যবসায়গুলো অন্য পথে হাঁটছে; তারা নিজেদের তথ্য-প্রযুক্তি চালিত সেবা প্রদানকারী ব্যবসায় (আইটিইএস) হিসেবে নিবন্ধন করছে।
আইটিইএস ব্যবসাগুলো ২০২৪ সালের পর থেকে করযোগ্য হবে এবং তার আগপর্যন্ত তারা কর রেয়াতের সুবিধা পাবে।
তাদের জন্য টিন সংগ্রহ ও কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এতে করে সরকারের পক্ষে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
সম্প্রতি ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে কর কর্তৃপক্ষ জানায় যে, আইটিইএস থেকে আলাদা করে ই-ব্যবসাগুলোকে শনাক্ত করা বেশ দুরূহ।
উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে জানা যায় যে, কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স বা কর নিবন্ধনের তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণে তাদেরও অনেক বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এনবিআর সভাপতি আবু হেনা মোহাম্মদ রহমাতুল মুনিমের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর সম্প্রতি কর কর্তৃপক্ষ দেশের ই-কমার্স খাতের ব্যবসায় পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়।
গত মঙ্গলবার ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সাথে কথা বলে তিনি বলেন যে, তারা এই ব্যাপারটি খতিয়ে দেখবেন এবং ই-টিন নিবন্ধনে ই-কমার্সকে পৃথক শ্রেণি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এছাড়াও উল্লিখিত আইনের ত্রুটি চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “আয়কর আইনটি ১৯২২ সালে প্রণয়ন করা হয় এবং উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ছাড়া ১৯৮৪ সাল থেকে এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে”।
এখনোপর্যন্ত কর কর্তৃপক্ষ দেশের ষোলশো ই-কমার্স ব্যবসায় থেকে দু’শোর বেশি কোম্পানি শনাক্ত করতে পেরেছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, যদিও কর অফিসগুলোতে ই-কমার্স ব্যবসায়গুলোর একত্রে কোনো হিসেব নেই, তবুও কর সংগ্রাহকেরা প্রাথমিকভাবে প্রায় চব্বিশটি কোম্পানি পেয়েছেন, যারা বার্ষিক কর রিটার্ন দাখিল করে।
ই-কমার্স ব্যবসায় অ্যাসোসিয়েশন ই-ক্যাবের সাধারণ ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম শোভন বলেন যে, আইটিইএস হিসেবে নিবন্ধন করার জন্য তাদেরকে বিভিন্ন সরকারি এজেন্সির কাছে জবাবদিহি করতে হবে।