দাম স্থিতিশীল রাখতে বিএসএফআইসিকে চিনি আমদানির সুপারিশ
এফই অনলাইন ডেস্ক | Sunday, 31 October 2021
আগামী বছর রোজার আগেই বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনকে (বিএসএফআইসি) চিনি আমদানি করতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।
একই সঙ্গে চিনি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজাতে অতিরিক্ত জনবল ছাঁটাইয়েরও সুপারিশ করা হয়েছে।
রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চিনি শিল্প নিয়ে আলোচনায় এসব সুপারিশ করা হয়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বর্তমানে বাজারে চিনির দাম একটু বেশি। কমিটি বিষয়টি আমলে নিয়ে মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
“নানা কারণে আমাদের চিনি শিল্প সংকটে আছে। কিন্তু আগামী রমজানের আগে যেন বাজার স্থিতিশীল থাকে সেজন্য আমরা বিএসএফআইসির অধীনে চিনি আমদানি করতে বলেছি।”
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা বিএসএফআইসি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাটির আওতায় বর্তমানে ১৫টি চিনিকল পরিচালিত হচ্ছে।
রোববারের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বাজারে চিনির বাড়তি দাম নিয়েও আলোচনা হয়।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার চিনি শিল্পে সবসময় ভর্তুকি দিচ্ছে উল্লেখ করে কমিটির সদস্য সাহিদুজ্জামান বলেন, “সেজন্য আমরা সরাসরি বিএসএফআইসির অধীনে চিনি আমদানি করতে বলেছি। অন্য কোনো মাধ্যমে নয়।”
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের বরাত দিয়ে মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, রোজার সময় দেশে সম্ভাব্য চিনির চাহিদা থাকে তিন লাখ মেট্রিক টন। এ চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফআইসি, বেসরকারি সুগার রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান এবং টিসিবির কাছে মুজদ করা চিনি দিয়ে গত রমজানে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
বিএসএফআইসির আর্থিক সংকটের কারণে এর আগে চিনি আমদানির কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানায় মন্ত্রণালয়।
বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেল-চিনিসহ নিত্য পণ্যের দাম চড়া। খোলা বাজারে চিনি সরকার নির্ধারিত কেজিপ্রতি ৭৫ টাকার চেয়ে বাড়তি দরেই বিক্রি হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএসএফআইসি গত পাঁচ বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুণেছে।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৩ হাজার ১৪৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৮৬ কোটি ২ লাখ টাকা। লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
সাহিদুজ্জামান বলেন, “চিনি শিল্প করপোরেশনের সঙ্কট কমাতে সরকার কিছু টাকা দেবে। আমাদের চিনি কলগুলোতে মৌসুমী জনবল বাড়তি রয়েছে। তাদের বেতন-ভাতাও বাকি রয়েছে। সরকারের ভর্তুকির সঙ্গে নিজেদের ব্যায় হ্রাস করাও দরকার।”
চিনি ছাড়াও কমিটির বৈঠকে সার নিয়েও আলোচনা হয়। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসন্ন মৌসুমে নিরবচ্ছিন্নভাবে সার বিতরণে সার্বিক কাজ ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
বৈঠকে ঢাকা স্টিল ও ব্লেড ফ্যাক্টরিতে (সোর্ড ব্লেড) জরুরিভিত্তিতে উৎপাদন শুরুর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, একেএম ফজলুল হক, মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান, কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ এবং পারভীন হক সিকদার বৈঠকে অংশ নেন।