তৃতীয় দেশ থেকে চালানের ক্ষেত্রে শুল্কছাড় সুবিধা দেবে না বাংলাদেশ
ভারত থেকে আমদানির জন্য সাফটার সুবিধা চায় নেসলে
দৌলত আকতার মালা | Tuesday, 24 August 2021
পণ্য আমদানির চালানের কাজ সার্ক বহির্ভূত কোনো দেশে সম্পন্ন হলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) অনুযায়ী সে দেশকে শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দেবে না বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা সার্কের সব দেশ- অর্থাৎ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা এবং আফগানিস্তানের জন্য প্রযোজ্য।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউসিও) প্রতিটি সদস্য দেশে থার্ড কান্ট্রি ইনভয়েসিং (টিসিআই) বা তৃতীয় দেশ থেকে চালান একটি স্বীকৃত মডেল।
এই মডেল অনুযায়ী, আমদানিকারকেরা শুল্ক ছাড়ের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
তবে রুলস অফ অরিজিনে (আরওও) শুল্ক ছাড় সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক কোনো বিধি না থাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (এমওসি) টিসিআই-এর এই শর্ত অনুসরণে অপারগ।
সাফটা চুক্তিতেও শুল্ক সুবিধা আদায়ের উপযোগিতা নিয়ে একটি সর্বজনীন রুলস অফ অরিজিন রয়েছে।
তাই রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক বিভাগ দেশের সব কাস্টম হাউজকে সাফটা চুক্তির সুবিধা আদায়ের জন্য টিসিআই প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছে।
শুল্ক ছাড়ের সুযোগ পাওয়ার জন্য টিসিআই অনুমোদনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে নেসলে বাংলাদেশকে।
গত ১৯ আগস্টের ফরমান জারির পরিপ্রেক্ষিতে দ্রব্যের উৎপত্তিস্থল সার্কভুক্ত দেশ হলেও এক্ষেত্রে শুল্কছাড় দেওয়া হবে না।
কাস্টম থেকে ফিল্ড অফিস নির্দেশনা পেয়েছে যে, এখন থেকে সার্টিফিকেট অফ অরিজিনের ভিত্তিতে কাস্টম এই সুবিধা মঞ্জুর করবে না, যদি ইনভয়েস, প্যাকিং তালিকা অথবা চালানের কাজ থার্ড কান্ট্রিতে হয়ে থাকে।
সাফটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০০৪ সালে এবং কার্যকর হয় ২০০৬ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে।
বহুজাতিক কোম্পানি (এমএনসি) নেসলে বাংলাদেশ সুইজারল্যান্ড থেকে পাঠানো ইনভয়েসের ভিত্তিতে ভারত থেকে আমদানির উপর শুল্কছাড় সুবিধার অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে এ বিষয়টি নজরে আসে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, এই খাদ্য ও পানীয় প্রক্রিয়াজাতকারক বহুজাতিক সুইস কোম্পানিটি নিজের পরিচালনা কার্যক্রমে পরিবর্তন আনে, যার ফলে পণ্য আমদানির পুরো প্রক্রিয়া তার অভিভাবক কোম্পানির দেশ থেকে সম্পন্ন করতে হয়।
অর্থাৎ, পণ্যের আমদানি ভারত থেকে হলেও প্রত্যয়ন পত্রসহ লেনদেনের সকল কাগজপত্রের কাজ সুইজারল্যান্ড থেকে করতে হবে।
বহুজাতিক কোম্পানির এক সূত্র থেকে জানানো হয়, তারা পুরো বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা করতে রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করেছিল, যেটা পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তদারকি করে।
একই সূত্র থেকে আরো জানা যায়, সরকার পরবর্তী আন্তঃদেশীয় আলোচনায় এ ব্যাপারটি উত্থাপন করবে বলে নেসলেকে আশ্বস্ত করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রুলস অফ অরিজিন হালনাগাদ করা বিষয়ক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমানে কাস্টম নেসলের আবেদন মঞ্জুর করবে না, কারণ রুলস অফ অরিজিন অথবা সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিধিমালায় এ ব্যাপারে কোনো অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন যে,শুল্কছাড়ের সুবিধা অনুমোদনের জন্য একটি পণ্য তার শেষ রপ্তানির দেশের অর্থনীতিতে কীভাবে মূল্য সংযোজন করছে, সেটা শুল্ক কর্তৃপক্ষ একটি দেশের এই সুবিধা ভোগ করার ফলে জনতহবিল ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
ফিল্ড অফিসগুলোকে কাস্টম বিভাগের কর্মকর্তারা সাফটার শুল্কছাড়ের সুবিধা অনুমোদন করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন।
সাফটার শর্তানুযায়ী, সার্ক দেশগুলো নিজ দেশ হতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কাচামাল সংগ্রহ করলে এই শুল্ক ছাড় সুবিধা পাবেন।
তবে চীন ও পেরুর মতো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য দেশগুলোতে টিসিআই-এর অগ্রাধিকার রয়েছে। কফির আকর আমদানি করতে হলে আমদানিকারক দেশকে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রদান করতে হবে। তবে সাফটার শর্ত মোতাবেক, নেসলে এই লেনদেনে ছাড় পাবে ৫ শতাংশ।
কিন্তু যেহেতু সুইজারল্যান্ড সার্কভুক্ত দেশ নয় এবং নেসলের অভিভাবক কোম্পানি সেখান থেকে খরচ পরিশোধ করবে, শুল্কছাড়ের সুবিধাটি এই কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, জানান শুল্ক কর্মকর্তা।
সাফটার অধীনে ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্য উদারীকরণ প্রোগ্রাম (টিএলপি) শুরু হয়। সদস্য দেশগুলোকে সংবেদনশীল পণ্যের একটি তালিকা মেনে চলতে হয়। তালিকার অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে তারা ০ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কছাড়ের সুবিধা ভোগ করতে পারে না।
doulot_akter@yahoo.com