logo

তিলোত্তমার ছুটির আলস্য

এফই অনলাইন ডেস্ক   | Monday, 11 July 2022


কোরবানির ঈদের ছুটিতে রাজধানী ছেড়েছে পৌনে এক কোটি মানুষ, সদাব্যস্ত ঢাকার এখন অলস সময় কাটছে। 

সোমবার ঈদের পরদিনও ছুটি, অফিস-আদালত ও কল-কারখানা বন্ধ। বেড়ানো আর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তীব্র গরমের মধ্যে বের হচ্ছে না মানুষ।  

তিলোত্তমা ঢাকার সড়কগুলো সকালের দিকে ছিল একেবারেই ফাঁকা। নেই চিরাচরিত যানজট। কিছু গণপরিবহন চলাচল করলেও যাত্রীর চাপ নেই, বলতে গেলে ফাঁকা। 

অটোরিকশা আর রিকশাচালকরা মোড়ে মোড়ে বসে আছে যাত্রীর অপেক্ষায়। ফুটপাতগুলোও পথচারী শূন্য। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। 

ঈদের ছুটিতে যারা ঢাকায় আছেন, তারা স্বস্তিতে যাতায়াত করছেন। গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও কোথাও কোথাও বক্সে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। 

রামপুরা, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, কাকরাইল, ফার্মগেইট, বিজয় সরণী, নয়াপল্টনের সড়ক ঘুরে ঢাকার এমন চিত্রই দেখা গেছে। 

আগের দিনই ঈদ গেল, কাঁচাবাজারগুলোতে তাই ভিড়-ভাট্টা সেভাবে নেই। মালিবাগ রেইলগেট ও শান্তিনগরের বাজারের অধিকাংশ দোকান-পাট বন্ধ। কাঁচাবাজারেরও একই অবস্থা। অলি-গলিতে কিছু ফল-মূল, মুদি আর ওষুধের দোকান শুধু খোলা। 

শান্তিনগর মোড়ে ফল কিনতে এসেছেন বেইলি রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্টের বাসন্দিা গোলাম সারোয়ার। তিনি বললেন, “কোরবানির পরদিন সকালের ঢাকা এক রকম ফাঁকাই থাকে। ঈদের দিন কোরবানি দিয়ে মাংস প্রক্রিয়া করতে গিয়ে অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। বাসা-বাড়িতে গিয়ে দেখেন সকলে বিশ্রাম নিচ্ছে।” 

গোলাম সারোয়ার জানালেন, নাতনির জন্য আম কিনতে এসেছেন তিনি, নাহলে বের হতেন না। 

রিকশাচালক মোমিন মালিবাগ মোড়ে বসে ছিলেন যাত্রীর অপেক্ষায়। বললেন, “ঈদের পরের দিন সকাল বেলা এমনিতেই প্যাসেনজার একেবারে কম থাকে। তারপরও অপেক্ষায় আছি, যদি পাওয়া যায়। গরিব মানুষ ইনকাম না করলে খাব কী?” 

তবে বিকালে রোদ কমলে যাত্রী মিলবে, অনেকে বেড়াতে বের হবেন তখন; সেই আশাতেই আছেন মোমিন। জানালেন, ঈদের দিনও তেমনই হয়েছে।   

ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বনানীতে বোনের বাসায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন রফিকুল ইসলাম। অটোরিকশায় উঠছিলেন মলিবাগ থেকে। 

জিজ্ঞেস করতে বললেন, রাস্তায় যানবাহন আছে, ভাড়াও কিছুটা সহনীয়। যাত্রী কম বলে অটোরিকশা চালক বেশি ভাড়া হাঁকাননি। 

“আজকে ঢাকা শহরটা একটু অন্যরকম। ভালো লাগছে- যানজট নেই, রাস্তাগুলো ফাঁকা। দ্রুত গন্তব্যে যাওয়া যাচ্ছে।” 

অটোরিকশা চালক মোতালেব বললেন, “আগে মালিবাগ থেকে মহাখালী কিংবা গুলশান ১ নম্বরে যাত্রী নিতাম আড়াইশ, তিনশ টাকায়। আজকে দেড়শ টাকায় যাত্রী টানতে হচ্ছে।” 

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গরু ও ছাগল কোরবানি দিচ্ছেন কেউ কেউ। তবে সংখ্যাটা কম। শান্তিনগর মোড় ও তোপখানা রোডে এরকম পশু কোরবানি শেষে চামড়া আলাদা করতে দেখা গেছে রাস্তার পাশে। 

সেখানে ছিন্নমূল মানুষ ভিড় করেছে মাংসের আশায়। তাদেরই একজন সফিনা বেগম বললেন, “একটু গোস্ত পামু, হের লাইগা দাঁড়াইয়া আছি। এই এলাকায় আরো দুই জায়গায় গরু কোরবানি দিছে। যদি ভাগ্যে জুটে, রাইতে পাক কইরা পোলা-পাইন নিয়া খামু।” 

স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল আলম ঈদের দ্বিতীয় দিনও কোরবানি দিয়েছেন। তিনি বললেন, “এটা আমাদের পারিবারিক রেওয়াজ। ঈদের দিন ও পরের দিন কোরবানি দেওয়া। আজকে একটা গরু কোরবানি দিয়েছি। বেশিরভাগ মাংস অস্বচ্ছল মানুষকে বিলি করব।” 

সবার ছুটি, তাদের নেই 

ঈদের পরের দিনও রাজধানীকে সাফ করতে বিরামহীন কাজ করে চলেছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। কোরবানির পশু বর্জ্যের স্তূপ জমে আছে মালিবাগ, মৌচাক, রামপুরা এলাকার ডাস্টবিনগুলোতে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ছোট ছোট ঠেলা গাড়িতে করে বর্জ্য এনে ফেলছেন। সেখান থেকে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে ল্যান্ডফিলে। 

সোফিয়া বেগম নামে এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী বললেন, “গতকাল দুপুর থেকে কাজ শুরু করেছি। এখনো কাজেই আছি। আমাদের ছুটি নাই। আজকের মধ্যে ময়লা পরিষ্কার হলেই কালকে ছুটি পাব।” 

কাকরাইল, ফার্মগেইট, কারওয়ান বাজার, বনানী এলাকাতেও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের অবিরাম কাজ করতে দেখা গেছে। 

আরেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী জুলেখা বেগম বললেন, “ভোর থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। গলির ভেতর থেকে আমরা বর্জ্য নিয়ে মোড়ে রাখছি। এখান থেকে কিছুক্ষণ পর সিটি করপোরেশনের গাড়ি এসে নিয়ে যাচ্ছে।”  

ইতোমধ্যে বেশিরভাগ অলি-গলির ময়লা পরিষ্কার হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সুপারভাইজাররা অলি-গলি ঘুরে ইনসপেকশনও করছেন- কোথাও ময়লা আছে কিনা।”