logo

তাজিয়া মিছিলে ছোরা, বল্লম, পটকাবাজি নয়: পুলিশ

Sunday, 7 August 2022


আশুরার তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও লাঠির মত বস্তু বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফাটানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

রোববার ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। 

কোভিড মহামারীর কারণে শিয়া মুসলমানদের তাজিয়া মিছিল দুই বছর বন্ধ ছিল। এবার আবার তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। ৯ অগাস্ট আশুরা হলেও আগের তিন দিনও কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকবে।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তাজিয়া মিছিলে পাইক দলভুক্ত ব্যক্তিদের দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণের ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়; যা ধর্মপ্রাণ ও নগরবাসীর মনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি স্বরূপ।”

এছাড়া আশুরা উপলক্ষে আঁতশবাজি ও পটকা ফোটানো হয়, যা ‘ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে সেখানে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ বলেছে, তাজিয়া মিছিলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

হিজরি মহররম মাসের ১০ তারিখ আশুরা মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক। বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।

এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন। সেই থেকে মুসলিম বিশ্বে কারবালার শোকাবহ ঘটনাকে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ‘

আশুরার দিন প্রধান তাজিয়া মিছিলে অংশ নিতে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ সকাল থেকেই হোসেনি দালানের সামনে জড়ো হতে থাকেন। ইমামবাড়ার সামনে থেকে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম তুলে শুরু হয় বিশাল তাজিয়া মিছিল।

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর তাজিয়া মিছিলের জন্য পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় সমবেত হয়েছিলেন ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ। সে সময় জঙ্গিদের বোমা হামলায় অর্ধশত মানুষ আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।