logo

তথ্য সংগ্রহ আর চুরি এক নয়: তথ্যমন্ত্রী

Wednesday, 9 June 2021


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য চুরি দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

টিআইবির সমালোচনা করতে গিয়ে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ ধরে বুধবার সচিবালয়েবঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’ অ্যালবাম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই মন্তব্য করেন তিনি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

সম্প্রতি এক গবেষণায় প্রতিবেদন প্রকাশকালে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তথ্য প্রকাশের প্রতিবন্ধকতা সরকার কোভিড শুরু হওয়া থেকেই শুরু করেছে। তথ্য নিয়ন্ত্রণের যে প্রবণতা তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

“তার কিছু দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি, ব্যাপকভাবে আলোচিত ঘটনা যেটি রোজিনা ইসলামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি।”

সাংবাদিকরা এর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “রোজিনার ঘটনাটি অনভিপ্রেত। এটা আমরা আগেও বলেছি, এখনও একই কথা বলব।

“কিন্তু দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করার একটা নিয়ম আছে। দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ আর তথ্য চুরি এক জিনিস নয়। টিআইবি এক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য চুরি দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলেছে।”

রাষ্ট্রীয় গোপন নথিচুরির চেষ্টার’ অভিযোগ তুলে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে গত ১৭ মে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা দিয়ে তাকে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়। কয়েকদিন পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

রোজিনাকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সারা দেশেই রাস্তায় নামেন ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা। বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো।

জাতিসংঘ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, সাংবাদিকদেরহয়রানিমুক্তভাবে’ কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

আবদুল গাফফার চৌধুরীসহ বিশিষ্টজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়ে বলেন, “তথ্য প্রাপ্তির অধিকার এবং দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা; সরকারের ঘোষিত এই দুই নীতির সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, “তথ্য সংগ্রহ করার জন্য যে কেউ যে কোনো অফিসে আবেদন করতে পারে। সেটি না পেলে তথ্য কমিশন আছে। তখন তথ্য কমিশনের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। তখন তথ্য কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য সংগ্রহের জন্য বলে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যদি কোনো গাফিলতি হয়, অনেক সময় তথ্য কমিশন জরিমানা ছাড়াও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তথ্য কমিশন এ পর্যন্ত এক লাখ ২০ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করেছে।”

রাষ্ট্রীয় গোপন নথির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “তথ্য কোনো রাষ্ট্রীয় গোপন নথি হলে সেই অপরাধটা আরও বড়। প্রত্যেক মন্ত্রীকে মন্ত্রী হিসেবে শপথের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার শপথ নিতে হয়।”

টিআইবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টিআইবির মতো সংগঠন থাকার দরকার আছে। তারা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে এটিই স্বাভাবিক। আমরাও চাই সেটি।

“টিআইবি বিভিন্ন সময় যে গবেষণার কথা বলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গবেষণা না করে একটি রিপোর্ট তৈরি করে, সেটিকে গবেষণা বলে চালিয়ে দেয়, এটি সমীচীন নয়।”

বাংলাদেশ টিকার জন্য একটি উৎসের উপর নির্ভর করে ছিল- টিআইবির এ বক্তব্যর প্রতিক্রিয়ায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ কখনও একটি সূত্রের ওপর নির্ভর করেনি। বাংলাদেশ সব সূত্রের সাথে, যেখান থেকে টিকা পাওয়ার সম্ভবানা ছিল, সবার সাথে যোগাযোগ করেছে। অনেকের সাথে যোগাযোগ রাখার কারণেই চীন থেকে টিকা এসেছে, অন্য দেশ থেকে টিকা আসছে। হঠাৎ করে যোগাযোগ করলে এত দ্রুত টিকা আসত না।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে এক হাজার ৩০০ ছবি নিয়েছবির ভাষায় মহানায়ক বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী। বর্ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহামরা নাসরীন হোসেন লুইজার সম্পাদনায় এই অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।