ঢাকা মেডিকেলে বছর শেষে কোভিড রোগী বেড়েছে ছয়গুণ
Sunday, 30 January 2022
গত বছরের শুরুর তুলনায় শেষ মাসে এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কোভিড রোগী ছয়গুণ বেড়েছে এবং তাদের ‘বেশিরভাগই’ ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
শনিবার প্রতিষ্ঠানটির সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক।
দেশের সবচেয়ে বড় এ হাসপাতালটিতে গত এক বছরে কোভিড রোগী বাড়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “জানুয়ারি মাসে যে পরিমাণ করোনা রোগী ভর্তি ছিল, তা ডিসেম্বরে এসে এর ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।”
মহামারীর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় গত নভেম্বরের শেষে করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক নতুন ধরন ওমিক্রনের আবির্ভাবের পর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশেও সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে।
নাজমুল হক বলেন “করোনাভাইরাস নিয়ে প্রথম দিকে যত রোগী ভর্তি হয়েছিল, তারা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হলেও বর্তমানে যত রোগী পাওয়া যাচ্ছে, এর মধ্যে অধিকাংশই ওমিক্রনে আক্রান্ত।
“এ সমস্ত রোগীর তেমন কোনো অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে না। যার ফলে মৃত্যুর সংখ্যাও কম। যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে দেখা গেছে তারা শুধু মাত্র ওমিক্রনে আক্রান্ত নয়, সাথে বিভিন্ন রকমের সমস্যাও রয়েছে।”
অতি সংক্রামক ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়লেও এতদিন মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখে অনেকের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদাসীনতা দেখা গেলেও বিশেষজ্ঞরা বরাবরই সতর্ক করে আসছিলেন।
আক্রান্তের সংখ্যা ‘দ্রুত হারে বাড়ছে’ জানিয়ে সচেতনতার উপর জোর দিয়ে হাসপাতাল পরিচালক বলেন, “প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।”
হাসপাতালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেলে গত একবছরে কোভিড-১৯ রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৬০০ জন। প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন মারা গেছেন।
“এর কারণ, এখানে মুমূর্ষু রোগী বেশি আসে। অন্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। অনেকের অবস্থা জটিল থাকে। তাই কাউকে কাউকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।”
বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এক বছরে পাঁচ লাখেরও বেশি করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হয়েছে এবং এখনও প্রতিদিন পাঁচ হাজার টিকা দেয়া হচ্ছে।”
মতবিনিময় সভায় ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসা কার্যক্রম তুলে ধরে জানানো হয়, গত বছর বহির্বিভাগে ৭ লাখ ৩০ হাজার রোগী দেখা হয়েছে। জরুরি বিভাগে দেখা হয়েছে আড়াইলাখের বেশি রোগী।
জরুরি বিভাগ থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪ হাজারের বেশি রোগী। প্রায় ১৯ হাজার বড় অপারেশন হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৪ হাজার ছোট ছোট অপারেশন করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক।
এসময় অভিযোগ করা হয়, জরুরি বিভাগে প্রতিদিন সকালে এক ধরনের ‘অরাজকতা সৃষ্টি হয়’ এবং অ্যাম্বুলেন্স যেখানে সেখানে রাখায় জটিলতা তৈরি হয়ে রোগীদের ‘চরম দুর্ভোগে’ পড়তে হয়।
অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতাল পরিচালক নাজমুল হক বলেন, “মেডিকেলের সামনের পরিবেশ ভাল রাখতে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনায় একটি অ্যাপের ও টোকেন সিস্টেম চালু করা হবে। যার অধিকাংশ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।”
এসব চালু হলে জরুরি বিভাগে অরাজকতা থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আমরা জরুরি বিভাগে ইমার্জেন্সি কমপ্লেক্স চালু করব, যেখানে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি করা হবে।
“সেখান থেকে তাদের পর্যায়ক্রমে ওর্য়াডে পাঠনো হবে। যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেই হয়, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।"
এছাড়া বহির্বিভাগে রোগীদের টিকেটের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার ভোগান্তি কাটিয়ে উঠতে একাধিক কাউন্টার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান পরিচালক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক টিটো মিঞা বলেন, “পৃথিবীতে এটা বিরল, যেখানে কোনো রোগী ফেরত পাঠানো হয় না। সকল ধরনের রোগীকে সিটের বাহিরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়…।”
সভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেবেশ চন্দ্র তালুকদার, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আশরাফুল আলম, মেডিসিন স্টোরের কর্মকর্তা (এসএলপিপি) মশিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।