logo

ডিজিটাল বিজনেস আইডির নিবন্ধন শুরু

Sunday, 6 February 2022


ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যারা ব্যবসা করতে চান, তাদের ডিজিটাল বিজনেস আইডি বা ডিবিআইডি নিবন্ধন শুরু হয়েছে দেশে।

এই নিবন্ধনের আওতায় না এলে সরকার ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানের দায় নেবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

রোববার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় ডিবিআইডি নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত আরজেএসসি থেকে এই নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে।

এই সনদ কী কাজে লাগবে বা সনদ না নিলে কী সমস্যা হবে- সেসব প্রশ্নের উত্তর অনুষ্ঠানে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এটা আপাতত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যারা ব্যবসা করে তাদেরকে এক ধরনের স্বীকৃতি হিসাবে এই সনদ দেওয়া হচ্ছে। এই সনদ দিতে গিয়ে হয়ত অনেক ভুলত্রুটি দেখা দেবে।

“ধীরে ধীরে আমরা সেগুলোর সমাধান করব। এটা পাইলটিং ভিত্তিতে শুরু হল। যারা এই নিবন্ধনের আওতায় আসবে না, ভবিষ্যতে সরকার তাদের দায় দায়িত্ব নেবে না।”

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ই-কমার্স খাতে এখন বছরে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। এটি একটি বৃহৎ বাজারে পরিণত হওয়ার পরও কিছু কারণে এখানে বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

“অনেকে প্রতারণার শিকার হয়েছে। সেই জায়গা থেকে পুরো লেনদেন কীভাবে ডিজিটাল করা যায় আমরা সেই উদ্যোগ নিয়েছি।”

ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের একটা নিবন্ধনের মধ্যে নিয়ে আসা এবং প্রতারকদের প্রতারণার সুযোগ বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে পলক বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যেই চারটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ আমরা নিয়েছিলাম সেখানে প্রথমই ছিল ই-কমার্স কোম্পানিগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা।

“দ্বিতীয়ত অভিযোগ নিষ্পত্তির জায়গা তৈরি করার উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। কেন্দ্রীয় অভিযোগ নিষ্পত্তি প্ল্যাটফর্ম সিসিএমএস ও সেন্ট্রাল লজিস্ট্রিকস ট্র্যাকিং সিস্টেম-সিএলটিসি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি বলেন, “চতুর্থত, আমরা ই-কমার্সে যত ধরনের লেনদেন হচ্ছে সেগুলোকে ট্র্যাকিং করতে, ট্রানজেকশন হিস্ট্রি রেকর্ড করতে ইন্টার অপারেবল ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি।

“প্রধানমন্ত্রী নিজেই এটির নাম দিয়েছেন বিনিময়। বিনিময় অ্যাপের ডেমোনেস্ট্রেশন হয়ে গেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিনিময় ও ট্র্যাকিং সেবা দুটো চালু করতে পারবো বলে আশা রাখি।”

ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার বলেন, “ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে যে ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে সেখান থেকে সঠিক উদ্যোক্তাদের তুলে আনতে চাই। ভোক্তারাও যেন তাদের সেবা পায়। কোভিডের মধ্যে প্রচুর ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও বায়ার তৈরি হয়েছে। তাদের সুরক্ষা দিতে আমরা কাজ করছি।”

চালডাল ডটকমের সিওও জিয়া আশরাফ, ডায়বেটিস স্টোরের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, রকমারি ডটকমের সিইও মাহমুদুল হাসান সোহাগ, আজকের ডিলের সিইও ফাহিম মাশরুর, সাজগোজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল শেখ, যাচাই ডটকমের সিইও আব্দুল আজীজ, তৃণাস ক্লোসেটের প্রোপাইটর ফারহা মাহমুদ তৃণা, নওরীনস মীররের প্রতিষ্ঠাতা হোসনে আরা খান নওরীন, ফেইসবুক শপ আখিস কালেকশনের প্রোপাইটর সালমা রহমান আঁখি, ফেইসবুক শপ নিথানের প্রোপাইটর ফারহা দিবা, ফেইসবুক শপ মম ফানুসের প্রোপাইটর মুসরেফা জাহানের হাতে অনুষ্ঠানে নিবন্ধন সনদ তুলে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রধানরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।