logo

টাকা-গয়নার লোভেই ধানমণ্ডির অ্যাপার্টমেন্টে জোড়া খুন: পিবিআই

Wednesday, 9 February 2022


টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করতেই দুই বছর আগে ধানমণ্ডির অ্যাপার্টমেন্টে ৬৫ বছর বয়সী আফরোজা বেগম এবং তার গৃহকর্মী দিতিকে ছুরি মেরে হত্যা করার হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আলোচিত এ মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংস্থা পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, আফরোজা বেগমের বাসার কর্মচারী মো. বাচ্চু মিয়া এবং গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদাকে আাসমি করেই তারা অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

“ওই ঘটনার পর পাঁচজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল দুজন। বাচ্চু ও নাহিদা পরস্পর যোগসাজশে দুইজনকে খুন করে গয়না নিয়ে যায়।”

২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাতে ধানমণ্ডির ২৮ নম্বর (নতুন ১৫) রোডে ‘লোবেলিয়া হাউজ’ নামের একটি ভবনের পঞ্চম তলা থেকে টিমটেক্স গ্রুপের এমডি ও ক্রিয়েটিভ গ্রুপের ডিএমডি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি আফরোজা বেগম (৬৫) এবং তার গৃহকর্মী দিতির (১৮) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের দুজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়।

আফরোজা যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, আর তার উল্টো দিকের ফ্ল্যাট এবং তার ঠিক উপরে ছয়তলার ফ্ল্যাট নিয়ে ডুপ্লেক্সে বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন তার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা। তিনিই এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন।

সেখানে নতুন গৃহকর্মী নাহিদাকে প্রধান আসামি করে কর্মচারী মো. আতিকুল হক বাচ্চু, ভবানের নিরাপত্তা কর্মী নুরুজ্জামান, কেয়ার টেকার বেলায়েত হোসেন এবং বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি গাউসুল আজম প্রিন্সকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে তাদের সবাইকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলাটির তদন্তভার পরে যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআইয়ের হাতে। বুধবার পুলিশ সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে মুজিবুর রহমান বলেন, তারা তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গৃহকর্ত্রী আফরোজার বাসায় ১০ বছর ধরে কাজ করতেন বাচ্চু মিয়া। তিনিই ঘটনার দিন নাহিদাকে ওই বাসায় নতুন গৃহকর্মী হিসাবে নিয়ে এসেছিলেন।

“দীর্ঘদিন ধরে আফরোজার বাসায় বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন বাচ্চু। পরে বিলাসী জীবনের জন্য আফরোজার বাসার অর্থ সম্পদর প্রতি ও লোভ জন্মায় তার। সেই লোভ থেকে কৌশল খুঁজতে থাকে বাচ্চু। মূলত সোনা-গয়না ও টাকা পয়সা লুট করতেই নাহিদাকে ওই বাসায় নিয়ে আসে সে।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নাহিদা বাসায় কাজ খুঁজতে ধানমণ্ডি এলাকায় গেলে বাচ্চুর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং ফোন নম্বর আদান-প্রদান হয়। এরপর নাহিদাকে নিয়ে পরিকল্পনা সাজান বাচ্চু।

পরিদর্শক মুজিবুর বলেন, “বাচ্চু মিয়া প্রলোভন দিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী নাহিদাকে দিয়ে আগারগাঁও মার্কেট থেকে ছুরি কেনেন। ঘটনার দিন দুপুরে নাহিদাকে নতুন কাজের লোক সাজিয়ে সেই বাসায় নিয়ে যান।


“নাহিদা প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করে সেখানে কিছু কাজ করেন। বিকাল ৪টার দিকে বাচ্চু বাসায় প্রবেশ করে আফরোজার কাছে আলমারির চাবি চান। এ সময় নাহিদাও ছুরি নিয়ে নাহিদাও শয়ন কক্ষে যান।”

তিনি বলেন, “চাবি দিতে অস্বীকার করলে বাচ্চু ও নাহিদা ছুরি দিয়ে আফরোজার গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। পরে আফরোজার বালিশের নিচ থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে একটি সোনার চেইন, দুটি সোনার চুড়ি ও একটি মোবাইল নিয়ে যায় বাচ্চু।”

বাসায় থাকা অপর গৃহকর্মী দিতি ঘটনা দেখে ফেলায় তাকেও নাহিদা ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন বলে জানান পরিদর্শক মুজিবুর।

আফরোজার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলা করার পর ধানমন্ডি থানা ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২৬ দিন তদন্ত করে বাচ্চু ও নাহিদাকেসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে নাহিদা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার আহসান হাবীব পলাশ বলেন, পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর এ মামলার তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
“নাহিদার দেওয়া তথ্যমতে তার আগারগাঁওয়ের ভাড়া বাসার মাটি খুঁড়ে লুট করা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।”

শিগগিরই এ হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।