logo

জেব্রার মৃত্যু: দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত

এফই অনলাইন ডেস্ক | Wednesday, 23 February 2022


গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রার মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

এক মাসে ১১ জেব্রার মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগে মামলা হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লিখিত মতামত অনুযায়ী দায়ীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিতপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

”একইসাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হবে।”

গত জানুয়ারি মাসে সাফারি পার্কে ১১টি জেব্রা, একটি বাঘ এবং একটি সিংহ মারা যায়। একসঙ্গে এত প্রাণীর মৃত্যুতে পার্কের শীর্ষ পর্যায়ের তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর প্রাণীগুলোর মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিককে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি সভা হয়।

তবে কাদের বিরুদ্ধে এই মামলা হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

মন্ত্রণালয় বলছে, তদন্ত কমিটির মতামত বিবেচনায় নিয়ে ’প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিতপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ’ করতে ফৌজদারী মামলা ও বিভাগীয় মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়।

তবে প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে ‘দায়িত্বে অবহেলা’ এবং জেব্রার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ‘ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার’ কথা তুলে ধরা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  “তদন্ত কমিটির প্রদন্ত মন্তব্য বা মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘাসে অতিরিক্ত নাইট্রেটের প্রভাব ও মিশ্র ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে সকল জেব্রার মৃত্যু ঘটেছে মর্মে তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।”

মন্ত্রণালয় বলছে, ২ ও ৩ জানুয়ারি তিনটি জেব্রার মৃত্যু ধামাচাপা দেওয়া এবং ‘আঘাতজনিত কারণে মৃত্য হয়েছে’ দেখাতে তিনটি জেব্রার পেট ধারালো কিছু দিয়ে কাটা হয় বলে কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

”কে বা কারা উক্ত মৃত তিনটি জেব্রার পেট কেটেছে তা উদঘাটন করার জন্য নিবিড় তদন্তের প্রয়োজন মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তব্যরত ভেটেরিনারি অফিসারের চাহিদা অনুযায়ী সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেডিকেল বোর্ডের সভা ডাকতে পারেন। কিন্তু এতগুলো জেব্রার অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরও জরুরিভিত্তিতে মেডিকেল বোর্ডের সভা ডাকা হয়নি।

বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ‘দায়িত্বহীনতার শামিল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

সেখানে বলা হয়, কোনো প্রাণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জিডি করার রেওয়াজ থাকলেও এক্ষেত্রে থানায় কোনো জিডি করা হয়নি, যা ‘রহস্যজনক’।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ২২ জানুয়ারি সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেও তাকে জেব্রার মৃত্যুর ঘটনা জানানো হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “উক্ত তারিখ পর্যন্ত ৮টি জেব্রা মারা গেলেও প্রকল্প পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা কর্মরত অন্য কেউ জেব্রার মৃত্যুর ঘটনাটি সচিবকে অবহিত করেননি।

”এতে প্রতীয়মান হয়, প্রথম থেকেই জেব্রা মৃত্যুর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি অস্বাভাবিক, অগ্রহণযোগ্য ও সরকারি কর্মচারী আচরণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যা দায়িত্ব অবহেলার শামিল।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রাণীর মৃত্যুরোধ এবং ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে তদন্ত কমিটি ১১টি স্বল্প মেয়াদী,  চারটি মধ্য মেয়াদী এবং নয়টি দীর্ঘ মেয়াদী সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

অন্যদের মধ্যে উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সচিব মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মিজানুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ও তদন্ত কমিটির আহবায়ক সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) কেয়া খান এবং উপসচিব ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।