জিয়ার কবর সরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, বললেন ওবায়দুল কাদের
Tuesday, 31 August 2021
রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর থাকবে কি না, এ নিয়ে সরকারের এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকার কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে কৃষক লীগের আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের দাবি করেন জিয়াউর রহমানের কবরে তার লাশ নেই, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তিনি বলেন, “জেনারেল এরশাদ বহন করেছে সেই কফিনে নাকি জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল, ফখরুল সাহেব এটা প্রমাণ হিসেবে এনেছে।
“আমি ফখরুল সাহেবের কাছে দু-বছর ধরে একটাই প্রশ্ন করে আসছি, চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গুনিয়া হয়ে যে লাশ ঢাকায় এল, এর একটা ছবি দেখান। সেই লাশের একটা ছবি দেখান।”
কাদের বলেন, “লাশ কোথায় পাবেন, লাশ তো পুড়িয়ে ফেলেছে। পাকিস্তানেও বিমান দুর্ঘটনায় নিহত জেনারেল জিয়াউল হকের লাশ পুড়ে গেছে। ওই কফিনেও জিয়াউল হক নেই, এই কফিনেও জিয়াউর রহমান নেই।”
তিনি বলেন, “এ নিয়ে আমি কোনেো বিতর্কে যেতে চাই না। কিন্তু আমার বক্তব্য হচ্ছে, ওই কফিনে কি কোনো লাশ ছিল?”
আওয়ামী লীগের শাসনে গত এক যুগে পাঁচশ’র বেশি মানুষ গুম হয়েছে বলে বিএনপির অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, দেশে গুম শুরু হয়েছিল বিএনপির শাসনামলে।
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সরকার গুম-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। দেশের মানুষ জানে এদেশে গুম খুনের রাজনীতি চালু করেছে বিএনপি।”
“ঢাকা সিটি ছাত্রলীগের নেতা মাহফুজ বাবু কোথায়? যে রাতে অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছে জিয়াউর রহমানের বাহিনী, চট্রগামে টর্চার করতে করতে মেরে ফেলা হয়েছে। তার লাশ আমরা দেখিনি।”
বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “২০০১ এর পর আপনারা কত হাজার মানুষকে গুম করেছেন? জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ওই নভেম্বর মাসে সেনাবাহিনীর কত অফিসারকে গুম করে হত্যা করেছেন? সেই ইতিহাস কি মুছে গেছে? গুমের ইতিহাস তো আপনাদের।
“আপনাদের দলের নেতা খালেদা জিয়ার আমলে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিনকে গুম করা হল। গুম শব্দটা আপনারাই চালু করেছেন জিয়াউর রহমানের আমলে, বেগম জিয়ার আমলে সেটা আরও ১০ গুণ বেড়েছে।”
বিএনপি গুমের ঘটনা সাজাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের।
“অনেকে মামলা থেকে, খুন-সন্ত্রাস থেকে বাঁচার জন্য নিজে নিজে গুম হয়ে যায়। অনেকে আবার পালিয়ে বিদেশে চলে যায়। নানা কারণে আত্মগোপন করে। কিছুদিন পরে আবার ফেরত আসে। ফখরুল সাহেবের গুমের লিস্টে এদের নামও আছে।”
“সেদিনও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিএনপির এক কর্মী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা অস্রসহ গ্রেফতার হয়েছে, ফখরুল সাহেব না বুঝেই বলে ফেলেছে- গুম হয়েছে।”