logo

জলাধার সংরক্ষণ: নতুন ২ মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ হাইকোর্টের

Monday, 19 July 2021


নদী, খাল, বিল, হাওরসহ সব জলাভূমি ও জলাধার সংরক্ষণ ও রক্ষায় ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ ও ‘জলাভূমি’ নামে দুটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে হাই কোর্টের এক রায়ে। জলাধার সংরক্ষণ: নতুন ২ মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ হাইকোর্টের

একই সঙ্গে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ ও ‘জলাভূমি রক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে পৃথক আইন প্রণয়নেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রায়ে জলাধার বা জলাভূমি দূষণ বা ক্ষতিগ্রস্ত করে উন্নয়ন প্রকল্প ও শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আবাসন ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ‘সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি ও সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের’ মাটি ভরাট কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব নির্দেশনা ও সুপারিশ এসেছে।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর এই রায় দিয়েছিল।

রোববার রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ১৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মো. আমরাফুল কামাল। রায়ের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন বিচারপতি রাজিল আল জলিল।

রায়ে সুপারিশের পাশাপাশি কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আদালত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলেছে, “এই রায়ের অনুলিপি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণের জন্য পাঠানো হোক, যাতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশের সব জলাভূমি রক্ষায় জরুরিভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।“

হাই কোর্ট গত ডিসেম্বরে শুনানি শেষে রায়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর, জৈনপুর, চরহিস্যা, চরভবনাথপুর, ভাটিয়াবান্দা ও রতনপুরের কৃষিজমি, নিচু ভূমি ও জলাভূমিতে মাটি ভরাট অবৈধ ঘোষণা করে।

ইউনিক প্রপার্টিজ এই ছয় মৌজার কৃষিজমি, জলাভূমি ও মেঘনা নদীর অংশবিশেষ ভরাট করে সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি নির্মাণের কাজ শুরু করে।

এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৪ সালে রিট করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।

শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২ মার্চ হাই কোর্ট রুল জারির পাশাপাশি ওই এলাকায় ইউনিক প্রপার্টিজের মাটি ভরাট কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

এরপর সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের জন্য প্রাক্-যোগ্যতার অনুমোদন পেয়েছে জানিয়ে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড হাই কোর্টের আগের আদেশ সংশোধন চেয়ে আবেদন করে।

এই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট নিষেধাজ্ঞার আদেশ সংশোধন করে কার্যক্রম পরিচালনার আদেশ দেয়।

এই আদেশের বিরুদ্ধে বেলা আপিল করলে আপিল বিভাগ হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞার আদেশ বহাল রাখে। পরে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ ডিসেম্বর রায় দেওয়া হয়।

আদালতে বেলার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মিনহাজুল হক চৌধুরী, আলী মুস্তফা খান ও সাঈদ আহমেদ কবীর।

সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের পক্ষে রুল শুনানি করেন আইনজীবী মুরাদ রেজা ও আহসানুল করিম। ইউনিক প্রপার্টিজের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আবু তালেব।

রায়ে ওই ছয় মৌজার কৃষিজমি, নিচু ভূমি ও জলাভূমি কী পরিমাণ দখল ও বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে, সেটির পরিমাণ ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করার জন্য যৌথভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে ওই ছয়টি মৌজায় বালু দিয়ে ভরাট করা কৃষিজমি, নিচু ভূমি ও জলাভূমি সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি ও সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের খরচে পুনরুদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফেরত আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে রায়ে বলা হয়, “সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ১১ ও ১২ নম্বর প্রতিপক্ষ থেকে আদায় করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হল।“