জমি ফেটে চৌচির, শঙ্কিত গাইবান্ধার কৃষক
এফই অনলাইন ডেস্ক | Thursday, 21 July 2022
ভরা মৌসুমে আমন রোপন করতে না পারায় গাইবান্ধায় কৃষকদের উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বর্ষার এই সময় চারা রোপন করলে ফলন ভালো হয়। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় চারদিক খটখটে শুকনো। খরার কারণে জমি ফেটে চৌচির। বীজতলাও ফেটে গেছে। কেউ কেউ সেচ দিয়ে চাষ চালিয়ে গেলেও উদ্বেগ কাটছে না।
এ সময় চাষ করতে না পারলে সময়মতো বোরো চাষ করা যাবে না। তাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সেচ দিয়ে হলেও চাষ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর গাইবান্ধার সাতটি উপজেলার এক লাখ ২৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত (২০ জুলাই) মাত্র ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমন চাষের উপযুক্ত সময়।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের তালক মন্দুয়ার গ্রামের কৃষক রেজাউর করিম (৫০) চার বিঘা জমি চাষাবাদ করেন। পাঁচ সদস্যের সংসার। ফসল দিয়ে খাওয়া-দাওয়া চলে। দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচও এবং বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসা ব্যয় চালান ধান বেচে।
বোরো ধান দিয়ে বছরের দায়দেনা মেটে না। তাই আমনের উপরও নির্ভর করতে হয়। কিন্তু পানির অভাবে এবছর আমন রোপন করতে পারছেন না। চার বিঘা জমিই অনাবাদি রয়ে গেছে।
রেজাউর করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চার বিগেত (বিঘা) বোরো ও আমোন আবাদ করি সোংসার চালাচি। কিনতো পানির জন্যে এবার এখনও আমন ধান নাগব্যার পাই নাই। সগ জমি পড়ি আচে। ঝরি হয় না, ট্যাকার অবাবে মেসিন দিয়্যা পানিও নিব্যার পাচ্চিনে। এব্যারক্যা যে ক্যামন করি চলমো তাই নয়্যা চিনতাত আচি।”
একই গ্রামের কৃষক আবদুল লতিফ (৪৮) বললেন, “তিন বিগা জমিত আমোন চাষ করি। এব্যারক্যা পানির জন্যে ধান নাগব্যার পাচ্চিনে। এ্যাক হাজার ট্যাকা দেনা করি এক বিগেত পানি নিচি। বেশি অদের (রোদ) জন্যে সেই পানিও শুকি গেচে। তাই এখনও তিন বিগে জমি পড়ি আচে।”
তিনি আরও বলেন, “সমায় পালটি গেচে, আসার (আষাঢ়) মাসোত ঝরি হবি, সাবোন (শ্রাবণ) মাসোত বান হবার কতা। কিনতো জমিতই পানি নাই।”
কৃষক ময়নুল ও রশিদের মতো বুধবার অন্তত ৪৫ জন কৃষক খড়ার কারণে আমন রোপন না করতে পারার কথা জানালেন।
কৃষকরা বলছেন, এ সময়ে চারা রোপন করলে ফলন ভালো হয়। কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না। চারদিকে খা খা করছে। খড়ার কারণে জমি ফেটে চৌচির হয়েছে। বীজতলাও ফেটে গেছে। কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ জমিতে পানি সেচ দিয়ে আমন রোপন করছেন।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের বারুইপাড়া গ্রামের কৃষক আছির উদ্দিন (৫৮) বলেন, “পোত্তেক বচর দুই বিগে জমিত আমোনের আবাদ করি। দশ শতোক জমিত বেচন (বীজতলা) ফেলাচি। খরাত সেই বেচনের জমি ফাটি গেচে। বেচন নসটো হবার নাগচে।
“একন সাবোন (শ্রাবণ) মাস। ঝরি হবে, জমিত পানি থাকবে, আমোন নাগামো। কিনতো এব্যারক্যা ঝরি (বৃষ্টি) নাই, আমন রোপন করব্যার পাচ্চিনে।”
একই গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪৬) বলেন, “এ্যাকনা ছাগোল বেচি দুই বিগে জমি চাষ করি নিচি। পানির জন্নে ধান নাগব্যার পাচ্চিনে। মেসিন দিয়া জমিত পানি দিলে ম্যালা ট্যাকা নাগে। ট্যাকা খরোচ করি পানি দিলে বেচন কিনি কামলা নিয়া ধান নাগব্যার পাবার নই। তাই হাত গোটেয়া বসি আচি।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, আমন ধান রোপনের সময় আছে। কিন্তু আমন রোপনে বিলম্ব হলে বোরো চাষ বিলম্ব হবে। তাই কৃষকদের নিজ উদ্যোগে জমিতে পানি সেচ দিয়ে আমন রোপনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।