ছুটির দিনে শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখর বইমেলা প্রাঙ্গন
Friday, 18 February 2022
মহামারীর কারণে এবারও ছুটির দিনে ‘শিশু প্রহর’ এর আয়োজন না থাকলেও আনন্দ আর উচ্ছ্বাস নিয়ে শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখর ছিল বইমেলা প্রাঙ্গন।
শুক্রবার বেলা ১১টায় বইমেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই শিশু-কিশোররা তাদের পরিবারের সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বটতলায় শিশু চত্বরের স্টলগুলোতে ভিড় জমায়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বিধিনিষেধের মাঝেও বাহারি রঙের বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখে নেওয়ার পাশপাশি বাড়তি আনন্দ দিতে কয়েকটি স্টল সাজানো হয়েছে প্রজাপতি, বাঘ আর নানা ধরনের পুতুল দিয়ে।
বইয়ের পাতা উল্টিয়ে দেখার পাশাপাশি বইমেলার আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখতে এসব পুতুলের সঙ্গে সেলফিও তুলে রাখেন কেউ কেউ।
শিশু চত্বরে কথা হয় পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌভিক ঘোষের সঙ্গে।
সৌভিক জানায়, সায়েন্স ফিকশন তার খুব পছন্দ। স্কুল বন্ধ থাকায় এতদিন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার সময় কেটেছে। মেলা থেকে এবার কিছু বই কিনে সে বইয়ের প্রতি মনযোগী হতে চায়।
সৌভিকের বাবা সনজিত ঘোষ বলেন, “কোভিড পরিস্থিতিতে বাচ্চারা এক প্রকার ঘরবন্দি ছিল বলা যায়। স্কুল বন্ধ থাকায় তারা বইয়ের প্রতি অনেকটা বিমুখ ছিল। মোবাইলের প্রতি তারা ঝুঁকে পড়েছিল।
“বইমেলায় রঙবেরঙের অনেক বই পাওয়া যায়। তাদেরকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এই মেলার ভূমিকা অনেক।”
বাবা-মায়ের সঙ্গে বইমেলায় আসা পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ান খান জানায়, গত কয়েক বছর ধরে সে বইমেলায় আসছে। তবে এবার ‘শিশু প্রহর’ না থাকায় মন খারাপ।
“একবার বইমেলায় হালুম, টুকটুকি-ইকরিদের সাথে খেলা করেছিলাম। এবার তাদেরকে মেলায় দেখছি না। তাদেরকে অনেক মিস করছি।"
মহামারীর আগে বইমেলায় জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান সিসিমপুরের চরিত্র হালুম, টুকটুকি, ইকরিদের নিয়ে শিশু চত্বরে খেলাধুলা ও আড্ডার জায়গা রাখা হলেও এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার তা রাখা হয়নি।
আয়ানের বাবা আরিফ খান বলেন, “বইমেলাটা আসলে একটা উৎসব। এটা শিশুদের মননশীলতা বিকাশ ও আনন্দের খোরাকও বটে। এবার ‘শিশু প্রহর’ না থাকায় আনন্দ একটু কম অনুভূত হচ্ছে আয়ানের। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বাস্তবতা মানতে হবে আমাদের।”
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন একুশে বইমেলা শুরু হলেও করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের দাপটে এ বছরের শুরুতে দেশে রোগীর সংখ্যা আবার বাড়তে থাকায় বইমেলা পিছিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়।
ঢাকার হাতিরপুল এলাকা থেকে মায়ের সঙ্গে বইমেলায় এসেছে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া হাসিন এবং তার বড় বোন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান।
তাসমিয়া জানায়, ছবির সঙ্গে গল্পের বই তার অনেক পছন্দ। “ছবি দেখে গল্প পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। দুটি গল্পের বই কিনেছি।”
তাসমিয়ার বড় বোন নুসরাতের পছন্দ কবিতা আর উপন্যাস।
তাসমিয়া বলেন, “এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি। পড়ালেখার তেমন চাপ নেই। এই সময়টা কয়েকটা বই পড়ে কাটানোর জন্য মেলায় এসেছি বই কিনতে।”
তাদের মা শাহানা বলেন, “বই কেনা বড় বিষয় না। মেলায় আসলে শিশুদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। নতুন বইয়ের পাতা উল্টে দেখাটাও অনেক আনন্দের। তাই তাদেরকে মেলায় নিয়ে এসেছি।”
বইমেলায় শিশু-কিশোরদের পদচারণায় খুশি স্টলের মালিক ও বিক্রয়কর্মীরা।
‘ইকরি মিকরি’ স্টলের কর্মকর্তা মো. বিপ্লব বলেন, “শিশু প্রহর না থাকলেও শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। আসলে শিশু প্রহরের ঘোষণাটা নাই, কিন্তু তাদের উপস্থিতি, আনন্দ-উচ্ছ্বাস কোনোটাই কম ছিল না।
“শিশুরা বইমেলায় আসবে, বই কিনবে আর চলে যাবে, আমরা আসলে সেটা প্রত্যাশা করি না। এটা একটা উৎসব, প্রাণের মেলা। এই মেলায় যাতে শিশুরা আনন্দ-বিনোদন করতে পারে, সেজন্য বইয়ের পাশাপাশি প্রজাপতি ও বাঘের পতুল রাখা হয়েছে।”
‘ঘাসফড়িঙ’ স্টলের বিক্রয়কর্মী শাবনাজ বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতেও এত শিশু-কিশোরদের বইমেলায় আগমন, সত্যিই অবাক করার মতো। আজকে স্টলে ভিড় অনেক বেড়েছে, বিক্রিও হচ্ছে ভালো।”
টুনটুনি প্রকাশনীর কর্মকর্তা এম তানভীর বলেন, “আমাদের এই স্টলটা হচ্ছে শিশুদের জন্য। তারা আসলে আমাদের খুব ভালো লাগে। আমরা আশাবাদী, বইমেলা শিশু-কিশোরদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে, সুন্দর ও সুষ্ঠু মানসিকতার মানুষ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।”