ছাত্রজীবনেই যে কয়টি সফটওয়্যারের কাজ শিখে রাখতে পারেন
খাদিজাতুল কোবরা | Monday, 18 October 2021
স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে সদ্য চাকরি জীবনে প্রবেশ করেছেন আদনান সাহেব। তবে অফিসের কলিগদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না তিনি, ভুগছেন হীনমন্যতায়। নিত্যকার অফিসের কাজগুলো করতে যে কম্পিউটার দক্ষতার প্রয়োজন, তার অনেক কিছুতেই তার ভাসা ভাসা জ্ঞান। তাই কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই দিশেহারা বোধ করছেন তিনি।
গল্পটি কাল্পনিক হলেও বাস্তবে অনেকের জীবনের সাথেই মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। নিছক অবহেলা ও আলসেমির বশে ছাত্রজীবনে বেশ কিছু কম্পিউটার বিষয়ক দক্ষতা অর্জন করেন না অনেকেই, যার বিরূপ প্রভাব পরবর্তীতে কর্মজীবনে পড়তে বাধ্য। তাই ক্যারিয়ার গঠনে ছাত্রাবস্থায় নিম্নোক্ত কয়েকটি সফটওয়্যারের কাজ শিখে রাখলে পরবর্তী জীবনে তার সুফল মিলবে।
মাইক্রোসফট ওয়ার্ড
যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের মধ্যে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড অন্যতম। যে কোনো ডকুমেন্ট তৈরি করতে বা চিঠিপত্র, দলিলপত্র তৈরিতে এই সফটওয়্যারটির ভূমিকা অনন্য। এর ব্যবহার ও শিখনপদ্ধতি বেশ সহজ, কিন্তু শিখে রাখার ফল ব্যাপক। সাধারণ টীকা থেকে শুরু করে সিভি, চার্ট - সবই মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করে করা যায়।
মাইক্রোসফট এক্সেল
গাণিতিক হিসাব-নিকাশ বা কাজের নিয়মিত রেকর্ডকিপিং-এ এমএস এক্সেলের জুড়ি মেলা ভার। এই সফটওয়্যারটির সাহায্যে সরল অথবা জটিল বিভিন্ন গাণিতিক ও পরিসংখ্যানবিষয়ক কাজ দ্রুত করে ফেলা যায়। যেমন, কোনো একটি কোম্পানির যত কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে তাদের সকলের হাজিরা থেকে বেতনসংক্রান্ত সমস্ত কিছু এক্সেলের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ, পরিচালনা এবং সংরক্ষণ করা সম্ভব।
সহজে ড্যাটা এন্ট্রি, খুব দ্রুততার সাথে কাজ করা, আয়কর ও অন্যান্য হিসাব নিকাশ সবকিছুতেই এক্সেলের ব্যবহার বিদ্যমান। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিয়া ইসলাম বলেছেন, “বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে এক্সেলের উপর দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। যে কোন প্রাতিষ্ঠানিক কাজে যোগদানের ক্ষেত্রে এসব সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারাকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।”
মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট
অনলাইন ক্লাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে হোক বা অফিসে আকর্ষণীয়ভাবে নিজের আইডিয়া উপস্থাপনের জন্য হোক - পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের কোন বিকল্প নেই। এই সফটওয়্যারের সাহায্যে জটিল ও খটমটে আলোচনাও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায় এবং অল্প কিছু কথা বা চিত্রের সাহায্যেই তা দর্শক-শ্রোতার কাছে সহজভাবে তুলে ধরা যায়। পাওয়ার পয়েন্ট দক্ষতা যেমন কাজকে সহজেই লক্ষ্যের কাছে উপস্থাপনে সাহায্য করে তেমনই আত্মবিশ্বাসেরও স্ফূরণ ঘটায়।
এসপিএসএস
অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা কোনো না কোনো সময় গবেষণাজনিত কাজে জড়িয়ে পড়ে। গবেষণার কাজে প্রায় সবময়ই তথ্য বিশ্লেষণের দরকার হয়। অন্যন্য বেশ কয়েকটি সফটওয়্যারে এই কাজ করা গেলেও এস পি এস এস-কে এর নির্ভরযোগ্যতার জন্য গুরুত্ব দেন শিক্ষার্থীরা।
“স্ট্যাটিস্টিক্যাল ড্যাটা অ্যানালাইসিসে এটি সত্যি চমৎকার একটি সফটওয়্যার,” বলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক সৈকত। তিনি আরো বলেন, “প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন প্রাথমিকভাবে হলেও এসপিএসএস সফটওয়্যারের সাথে পরিচিত হতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশ্চিত করা উচিত। এত শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমি মনে করি।”
খাদিজাতুল কোবরা বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদে অধ্যয়নরত।
khadizatulkobra333@gmail.com