চাকরি ছেড়ে ‘ছিনতাই চক্রে’ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার
এফই অনলাইন ডেস্ক | Monday, 2 May 2022
ব্যবহার করেন দামি মোটরসাইকেল, সবার কাছে পরিচিত ‘টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে; তবে এসবের আড়ালে আসলে তিনি পেশাদার ছিনতাই চক্রের সদস্য বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
'এমন কোনো দিন নেই যে তিনি কারও ব্যাগ টান দেননি', আশরাফুল ইসলাম নামে এক বস্ত্র প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তারের পর এমনটাই ভাষ্য গোয়েন্দা পুলিশের।
দীর্ঘদিন ধরে প্রায় প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রিকশা যাত্রী বা পথচারীর ব্যাগ টান মেরে পালিয়ে যাওয়া ছিনতাই চক্রের চার সদস্য রোববার ধরা পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে; এই চার জনেরই একজন আশরাফুল, যিনি তিন বছর আগেও পেশায় ছিলেন বস্ত্র প্রকৌশলী।
সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার ছিনতাই চক্রের এসব তথ্য জানান। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
আশরাফুল সম্পর্কে তিনি জানান, এই বস্ত্র প্রকৌশলী ৩৫ হাজার টাকা বেতনে রাজধানীতে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে ওই কোম্পানির পিকআপ চালক লেলিন শেখের মাধ্যমে এ চক্রে জড়ান আশরাফুল।
"সেই চাকরি ছাড়ার পর বেশ চলছিল আশরাফুলের জীবন। চাকরি ছেড়ে লেলিনকে মোটরসাইকেলে পেছনে নিয়ে প্রতিদিন বাসা থেকে বেড়িয়ে পড়তেন।
“দামি ও গতিশীল মোটরসাইকেল দিয়ে প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে টান মেরে রিকশা আরোহী বা পথচারীর ব্যাগ নিয়ে পালাত।“
“এমন কোন দিন নেই যে, তারা কারও ব্যাগ টান দিয়ে নেননি,” যোগ করেন এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
আশরাফুল ছাড়া গ্রেপ্তার বাকিরা হলেন- লেলিন, জিল্লুর রহমান খান ও সাইফুল ইসলাম ওরফে শাওন।
রাজধানীর মগবাজার ও মোহাম্মদপুরের পশ্চিম কাঁটাসুর এলাকা থেকে তাদের রোববার গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটি মিরপুর, পল্লবী, বনানী, গুলশান, ধানমণ্ডি, তেজগাঁও ও আগারগাঁও এলাকায় শতাধিক ছোট-বড় ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে।
চক্রটির সন্ধান পাওয়া প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আক্তার জানান, রোজার আগে মিরপুর এলাকায় ১১ লাখ এবং ৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের দুটি ঘটনা ঘটে। দুই ঘটনাতেই পল্লবি থানায় পৃথক মামলাও হয়।
ডিবি গুলশানের একাধিক টিম মামলা দুটির ছায়া তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথম ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ ও লেনিন এবং দ্বিতীয় ঘটনায় জিল্লুর ও সাইফুলকে মোটরসাইকেল আরোহী হিসেবে শনাক্ত করে। এরপর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ছিনতাইয়ের কৌশল সম্পর্কে হাফিজ আক্তার বলেন, "এরা মূলত ভালো ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল নিয়ে রিকশারোহী বা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারীর নিকট থেকে আচমকা টান মেরে হাই স্পিডে পালিয়ে যায়।"
তিনি জানান, লেলিন শেখ ও শাওনের বিরুদ্ধে ডিএমপির শাহবাগ, মিরপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরে বাংলা নগর, মোহাম্মদপুর ও পল্লবী থানায় একাধিক ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল, ছিনতাই করা ৩৪ লাখ টাকা, ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের এ সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, "এবার রমজানে দু’একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ছাড়া অনকাঙ্খিত কোন ঘটনা ঘটেনি।"
এছাড়া ঈদের ছুটিতে ঢাকার ফাঁকা রাস্তায় দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনগুলোকে বেপরোয়াভাবে না চালানোরও পরামর্শ দেন হাফিজ আক্তার।