logo

চাইলে ভালো অভ্যাস গড়া যায়

অনিন্দিতা চৌধুরী | Monday, 22 March 2021


কথায় আছে, মানুষ অভ্যাসের দাস। আর তাই পুরোনো অভ্যাস ছাড়া যেমন কঠিন, তেমনি নতুন অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ায় সহজ নয়। নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে আপনাকে অবশ্যই কিছু চর্চার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আজকের এ লেখায় এমনই কিছু বিষয় জানবো, যার মাধ্যমে নতুন ও ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হতে পারে।

সময়

সময় এমন একটি নিয়ামক যা ব্যক্তির মন ও জীবনে গভীর ছাপ ফেলতে সক্ষম। নতুন অভ্যাসের ক্ষেত্রেও সময়কে কাজে লাগানো যায়। সকালবেলার সাধারণ অভ্যাসগুলোর কথাই ধরা যাক না কেন। আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে কিছু অভ্যাস এমনিতেই গেঁথে আছে সকালের সময়টাতে। হাতমুখ ধোয়া, দাঁত ব্রাশ, স্নান করা, নাশতা বানানো/খাওয়া ইত্যাদি। এর পেছনের ফর্মুলাটি হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ে একই কাজের দৈনন্দিন পুনরাবৃত্তি। এভাবে পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে সময়ের ভিত্তিতে একটি প্যাটার্ন সৃষ্টি হয়।

তো, এসব প্যাটার্নের মধ্যে আমাদের অনেক মন্দ অভ্যাসও রয়ে যেতে পারে। আমরা চাইলেই প্রতিদিন সচেতন হওয়ার মাধ্যমে মন্দ অভ্যাসের সময়গুলোতে নতুন ভালো কোনো অভ্যাসকে জায়গা করে দিতে পারি।

স্থান বা পরিবেশ

আমাদের আচরণের ওপর স্থান তথা পরিবেশের বড় একটি প্রভাব কাজ করে থাকে। কোন বিষয়ে আমরা কেমন করে সাড়া দিই, তার পেছনেও স্থান-পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা পালন করে। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিড নীল এবং ওয়েন্ডি উড বেশ কিছু গবেষণার মাধ্যমে আবিষ্কার করেছেন, নতুন পরিবেশেই সাধারণত নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হয়। এর কারণ হচ্ছে, পুরোনো পরিবেশের সঙ্গে পুরোনো অভ্যাসের বিষয়টি জুড়ে থাকে। আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর একটি শূন্যস্থান সৃষ্টি হয়, যেখানে নতুন অভ্যাসগুলোকে জায়গা করে দেওয়া যায়। একটি তত্ত্বমতে, আমরা মানসিকভাবে নির্দিষ্ট স্থান বা পরিবেশের সঙ্গে নির্দিষ্ট অভ্যাসগুলোকে জুড়ে দিই। যেমন নিয়মিত আসা-যাওয়া করা হয় এমন স্থানগুলোর জন্য (অফিস, নিজের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিচিত আড্ডার স্থান) আমাদের নির্দিষ্ট ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কিছু অভ্যাস নির্ধারণ করাই থাকে। এক স্থানের অভ্যাস অন্য স্থানে হয়তো পালন করা হয় না।

পূর্ববর্তী ঘটনা

আপনার বেশির ভাগ অভ্যাসই জীবনে ঘটে যাওয়া পূর্ববর্তী কোনো ঘটনার অভিজ্ঞতাপ্রসূত বিষয়। কোনো বিশেষ বা সাধারণ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আপনি যে সাড়া দেন, তা থেকেও হয়তো গড়ে উঠতে পারে আপনার জীবনের অনেক ছোটবড় অভ্যাস।

একটি ঘটনা পর আপনার দেওয়া সাড়াটুকু অনেকটা ছাঁচে-ঢালা হয়ে যায়, কেননা তার মাধ্যমে আপনাকে একটি পরিচিত প্যাটার্নের মুখোমুখি হতে হয়। আর সেই ছাঁচে-ঢালা সাড়ার মাধ্যমে নতুন অভ্যাসের আবির্ভাব ঘটতে পারে।

আবেগীয় অবস্থা

মূলত বদভ্যাসগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হয়ে থাকে এই নিয়ামকটি। বিষণ্ণতায় ভোগা ব্যক্তিরা অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়া করেন যা কিনা সুস্থ জীবনের আওতায় পড়ে না।

আচরণের ক্ষেত্রে বা অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের মানসিক কিংবা বিশেষত, আবেগীয় অবস্থা অনেকাংশেই দায়ী। আমরা কখন কেমন বোধ করছি, তার সঙ্গে আমাদের বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া জড়িত এবং সে প্রতিক্রিয়া থেকে আমরা ক্রিয়ার দিকে যাই। প্রতিক্রিয়া থেকে আগত ক্রিয়াই আমাদের অভ্যাসের নতুন নতুন প্যাটার্ন তৈরি করে দেয়। অর্থাৎ আমরা যদি নতুন ভালো কোনো অভ্যাস গড়তে চাই, তবে প্রথমে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। সুস্থ মনই গড়ে তুলতে পারে সুস্থ অভ্যাস।

অন্যান্য ব্যক্তি

বিষয়টি জেনে আপনার অবাক লাগতে পারে যে, আপনার আশপাশের লোকেদের দ্বারা আপনার জীবনের অভ্যাসগুলো অনেক বেশি প্রভাবিত। যাদের সঙ্গে আপনার নিত্য ওঠাবসা, তাদের একটা ছাপ আপনার চরিত্রে থেকেই যায়, সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হোক বা না হোক।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অভূতপূর্ব মেডিসিনের একটি গবেষণায় জানা গেছে, আপনার কাছের কোনো বন্ধু যদি স্থূলতার শিকার হয়, তবে এতে করে আপনার স্থূল হওয়ার সম্ভাবনা ৫৭ শতাংশ বেড়ে যায়। আপনার বন্ধু আপনার কতটা আশপাশে থাকে, সেটি এখানে কোনো কার্যকর বিষয় নয়।

এখন উপায় এটাই যে আপনি নতুন ভালো কোনো অভ্যাস শুরু করতে চাইলে আপনাকে আপনার আশপাশের মানুষজন, বন্ধুবান্ধবের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে–বুঝতে হবে। যদিও এই নিয়ামকটি অন্যান্য নিয়ামকের চাইতে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।

নতুন অভ্যাস, আপনার জীবনকে অবশ্যই ইতিবাচক মাত্রায় গতি এনে দিতে সক্ষম, যদি অভ্যাসটি নিজেই ইতিবাচক হয়। নতুন অভ্যাস গড়ার জন্য আপনাকে নিজের সঙ্গে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট বা পরীক্ষা চালাতে হবে। আপনার চাওয়ার সঙ্গে পাওয়ার মেলবন্ধন ঘটাতে হলে কোন পথে কীভাবে এগোতে হবে, এ বিষয়টি এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই আপনার সামনে ধরা দেবে। তাই নতুন অভ্যাস গড়তে চাইলে নিজের মধ্যে নতুন কিছু খুঁজে বের করুন। ভালো অভ্যাসের সঙ্গে ভালো থাকুন।