চট্টগ্রামে চিকন ও সুগন্ধি চালে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা
এফই অনলাইন ডেস্ক | Saturday, 26 March 2022
সরবরাহ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে কাটারি ও চিনিগুড়া চালের ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে অন্য জাতের চালের দাম রয়েছে আগের মতোই। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এর প্রভাবে খুচরা বাজারে এক মাস আগের চেয়ে চিকন ও সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দিতে হচ্ছে।
বন্দরনগরীর আড়তগুলোতে সুগন্ধি হিসেবে পরিচিত চিনিগুড়া চালের ৫০ কেজির প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৪৯০০ থেকে ৫০০০ টাকায়; সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ছে ১০০ টাকা।
অপরদিকে আতপের সবচেয়ে সরু কাটারি চালের ৫০ কেজির বস্তা আড়তে বিক্রি হচ্ছে ৩৪০০ থেকে ৩৬০০ টাকার মধ্যে। মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়।
এক মাস আগেও এ দুই জাতের চালের দাম পাইকারিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কম ছিল বলে মহানগরীর চালের সবচেয়ে বড় পাইকারি আড়ত চাক্তাই ও পাহাড়তলীর ব্যবসায়ীরা জানান।
আড়তদাররা বলছেন, এ দুই ধরনের চালের সরবরাহ উত্তরাঞ্চলের মোকামগুলো থেকে কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে অন্য চালের বাজার আগের মতই রয়েছে।
চাক্তাই ও পাহাড়তলী বাজারে মোটা ইরি প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ১৭২০ টাকা, বেতি ২৩০০ থেকে ২৬০০ টাকা, মিনিকেট ২৫৮০ থেকে ২৬০০ টাকা, মোটা সিদ্ধ ২০০০ থেকে ২১০০ টাকা ও জিরাশাইল ৩১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আর নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার ও অন্যান্য এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে চিনিগুড়া চাল কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। কাটারি ৭৫ থেকে ৭৬ টাকায়। অন্যান্য চালের মধ্যে মিনিকেট ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা, বেতি ৫৫ টাকা, ইরি ৪০, জিরাশাইল (সিদ্ধ) ৬৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মোমিন রোডের শরিফ স্টোরের স্বত্ত্বাধীকারী মো. শরিফ বলেন, চিনিগুড়া ও কাটারি বাদে অন্যান্য চালের দাম আগে বেড়েছিল। এখন সেগুলোর দাম কমে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু চিকন চাল আড়ত থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
“মোকাম থেকে চাল কম আসায় দাম একটু বাড়তির দিকে বলে আড়তদাররা আমাদের বলেছেন।“
দামে বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিভিন্ন শিল্পগ্রুপে চালের ব্যবসায় নামার বিষয়টি সামনে এনেছেন কোনো কোনো ব্যাবসায়ী। তারা ছোট ও বড় চাষীদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণে ধান সংগ্রহ করার কারণে বাজারে সরবরাহ কিছুটা কমেছে।
বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ সুগন্ধীর পাশাপাশি এখন চিকন চালও প্যাকেটজাত আকারে বাজারজাত করছে। আকিজ, সিটি ও এসিআই গ্রুপসহ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান চালের ব্যবসায় নেমেছে। আগে থেকেই স্কয়ার, প্রাণ, রূপচাঁদাসহ বেশ কিছু বড় ব্র্যান্ডের সুগন্ধি চাল বাজারে আছে। খোলা চালের সঙ্গে এসব ব্র্যান্ডের প্যাকেটের দামে ফারাকও বেশ।
পাহাড়তলী বাজারের আড়তদার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মোকাম থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পড়তা বেশি পড়ছে। এর প্রভাব খুচরা ও পাইকারি বাজারে রয়েছে। তবে অন্যান্য চালের দাম কিছুটা পড়তির দিকে বলে জানান তিনি।
চিকন চালের বাড়তি দামের বিষয়ে চাক্তাইয়ের আড়তদার ও চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরবরাহ কম থাকায় চিকন চালের দাম একটু বাড়তি আছে। মৌসুম শেষ হয়ে আসায় সরবরাহ কমেছে।