logo

গানে গানে হোক মেডিটেশন

অনিন্দিতা চৌধুরী | Saturday, 27 November 2021


মন ভালো থাকলে যেমন গান শুনি, মন খারাপেও গানের সুরে মুখ গুঁজি। বন্ধুত্ব-প্রেম ও জীবনের মোড়ে পাওয়া নানাবিধ সম্পর্কের গলিতে জুড়ে থাকে প্রিয় কিছু গানের সুর। এই গান মানে কিন্তু শুধু গানের কথাই বোঝায় না। মেডিটেশনের ক্ষেত্রে বরং লিরিক্সবিহীন সঙ্গীতই বেশি কাজে লাগে। মনের কোণে ঝঙ্কার তোলা রবিশঙ্করের সেতার কিংবা মোজার্টের সিম্ফোনিও হতে পারে পেতে পারে প্রিয় গানের তকমা।

কখনো কখনো গান শুধু বিনোদনই নয়, রক্ষকের ভূমিকায়ও অবতীর্ণ হতে পারে। হোক গোলমেলে রাস্তায় মন ঘুরিয়ে নিতে নয়েজ ক্যান্সেলিং হেডফোন বা বিচ্ছেদের অব্যবহিত পর কান্নাকাটির সাথী হিসেবে বিষাদের কোনো সুর- গান সবেতেই মনের জানালায় বইয়ে দেয় এক পশলা মুক্ত বাতাস।

অনুভূতির রদবদলে আমাদের প্লেলিস্টও ঘুরে যায় বেশ কিছু ডিগ্রি। অশান্ত মনে শান্তি আনার জন্য সেই সঙ্গীতের কাছেই আশ্রয় খুঁজি। ওদিকে আজকের এই কর্মব্যস্ত জীবনে একটু মনোযোগ ধরে রাখার জন্য, দেহমনে প্রশান্তি আনয়নের তুলনা নেই। তাই দুই শান্তির আধার- সঙ্গীত ও মেডিটেশনকে একসাথে মিলিয়ে দিয়ে ‘মিউজিক মেডিটেশন’ নামে মেডিটেশনের এক বিশেষ পদ্ধতির জন্ম হয়। এই সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে মানসিক চাপমুক্তির সর্বোচ্চ সুযোগ ঘটে।

শুরুর জন্য

প্রথমেই বেছে নিতে হবে সঙ্গীতের ধরন। আর এই বাছাইয়ে সবচাইতে বেশি গুরুত্ব পাবে ব্যক্তি আপনার পছন্দ ও আরামের বিষয়টি। মেডিটেশন করতে হবে বলেই যে ভাবালু রাগের আশ্রয় নিতে হবে কিংবা অতি ধীরে বওয়া কোনো সুরের কাছে যেতে হবে, এমনটা নয়। আপনার পছন্দের সঙ্গীতকে প্রাধান্য দিন।

নেই বাঁধাধরা

সময় কিংবা নিয়মকানুনের দিক দিয়ে একদমই বাঁধাধরা নয় এই মেডিটেশন। আধাঘণ্টা ধরে ধ্যান করলেও যে ফলাফল মিলবে, তা ১০ মিনিটেও মিলতে পারে। বিষয়টা মানের, পরিমাণের নয়। এবং খুব যে আয়োজন করে বসতে হবে, তাও নয়। নিজের ব্যস্ত রুটিন থেকে যেকোনো সময়েই বিরতি নিতে পারেন এই মেডিটেশনের মাধ্যমে। অনেকসময় একটানা কাজ করতে করতে কাজের গতিও কমে যায়, এমন একটি বিরতি নিলে ক্লান্তি দূর হবে ও কাজে নতুন করে শক্তিও পাওয়া যাবে। 

মিউজিক মেডিটেশনের সময় ঠিক কীভাবে বসলে ভালো হয়, তা নিয়েও কড়াকড়ি নেই। এমনকি বসতেই হবে, এমন কথাও নেই। তবে অনেকে শুয়ে পড়ার বিষয়টি এড়িয়ে চলেন, কেননা ক্লান্তির কারণে ঘুম চলে আসতে পারে। তাই প্রাথমিক পদ্ধতি ছাড়া এ মেডিটেশনের অন্য সবকিছু আপনি নিজের জন্য ‘কাস্টমাইজ’ করে নিতে পারেন।

মনে রাখা ভালো

তবে কিছু বিষয় মনে রাখলে আপনার মিউজিক মেডিটেশনের সময়টি হতে পারে আরো কার্যকর, আরো উপভোগ্য। সঙ্গীতের ক্ষেত্রে কোনো গান বা বাজনা যদি আপনাকে অনেক বেশি ভাবিয়ে তোলে বা অনেক বেশি স্মৃতিকাতর করে তোলে, তবে সে গান এই পর্ব থেকে বাদ দেয়াই ভালো। কেননা মেডিটেশন বা ধ্যানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে অস্থিরতা দূরীকরণ। প্রক্রিয়ার মধ্যেই যদি স্থিরতা না থাকে, তবে সেটা পাওয়া মুশকিল। তাই এ দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

সময়ের হিসেব যদি রাখতেই চান, তবে মেডিটেশনের জন্য বানিয়ে ফেলুন একটা আলাদা প্লেলিস্ট। এতে করে একটা নিয়মের মধ্যে থাকা যাবে, প্রতিদিন নতুন করে সময় নিয়ে ভাবতেও হবে না। আর একঘেয়ে লাগা শুরু হলে কিছুদিন পর পর নতুন প্লেলিস্ট তৈরির সুযোগ তো রইলই।

মন স্থির করা এই প্রক্রিয়ার পথ ও গন্তব্য দুটোই। অন্য কিছু না ভেবে মনকে সঙ্গীতের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করতে হবে। যারা আগে কখনো মেডিটেশন করেননি কিন্তু অনেকদিন ধরে করবেন বলে ভাবছেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সহজ হবে। নিয়মিত চর্চার ফলে মানসিক চাপ থেকে মুক্তির বেশ কার্যকর একটি উপায় হতে পারে ‘মিউজিক মেডিটেশন’।

অনিন্দিতা চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

anindetamonti3@gmail.com