গাজীপুরের রাস্তায় দূরপাল্লার বাস, যানজট
এফই ডেস্ক | Wednesday, 12 May 2021
ঈদযাত্রায় গাজীপুরের মহাসড়কে যানজট দেখা দিয়েছে; নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নেমেছে কিছু দূরপাল্লার বাসও। তাদের ‘নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না’ বলে পুলিশের ভাষ্য।
গাজীপুর সিটি পুলিশের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) মো. মেহেদী হাসান বলেন, মঙ্গলবার বিকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ি ও মানুষের চাপ বেড়ে গেছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
“লোকাল গাড়ির সঙ্গে মাঝেমধ্যে দূরপাল্লার গাড়িও নেমে পড়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এলাকায় আরও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। দূরপাল্লার বাস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
তবু কিছু বাস রেকার দিয়ে টেনে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। চেষ্টা চলছে জনসঙ্গম এড়াতে কিন্তু তা সর্বাত্মক কার্যকর হচ্ছে না।
বুধবার সকালে চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় দেখা গেছে, পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য। ঘরমুখো মানুষ গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। কোনো গাড়ি আসা মাত্রই ওঠার জন্য একরকম যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। মাইক্রোবাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিক-আপ, কভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন গাড়িতে করে গন্তব্যে ছুটছে সবাই। স্বাস্থ্যবিধিও মানছে না সবাই।
কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত গাড়ির চাপ কম থাকলেও বিকেল থেকে গাড়ি ও মানুষের চাপ বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, “চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও মাস্ক পরায় আগ্রহ নেই সবার। তাদের সতর্ক করা হচ্ছে।”
হঠাৎ করে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যানজট দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, “ঢাকার দিক থেকে যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার বাস আসছে। থামাতে গেলেই যানজট বেড়ে যায়।
“তাই এখন আর দূরপাল্লার গাড়ি আটকাচ্ছি না। চন্দ্রা এলাকায় গাড়ি ও মানুষের প্রচুর চাপ রয়েছে। মাঝেমধ্যেই এখানে যানজট ও জনজট হচ্ছে। মঙ্গলবার অনেক কারখানা ছুটি হয়েছে। তাই চন্দ্রায় বুধবার ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। তাদের সঙ্গে গাড়িও বেড়ে গেছে। মহাসড়কে যাতে জটলা না বাধে সেজন্য আমরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল সম্পর্কে গাজীপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান উদ্দিন সরকার বলেন, “কেউ লুকোচুরি করে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু দূরপাল্লার বাস চালালেও তা আমার নলেজে নেই। আমরা সরকারি সিদ্ধান্তে অটল আছি।”