গবেষক হতে করণীয়
তানজিম হাসান পাটোয়ারী | Saturday, 18 December 2021
গবেষণায় অগ্রগতি একটি দেশের উন্নয়নের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। গবেষণার গুরুত্ব অনুধাবন করেই বর্তমানে এই খাতের সাথে যুক্ত হতে তরুণদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে, অনেকেই পড়াশোনা শেষে যুক্ত হচ্ছেন গবেষণায়।
এ বিষয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আদনান মান্নানের সঙ্গে। গবেষক হতে যে বিষয়গুলোতে জোর দিতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়
গবেষক হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়। গবেষণা একটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। আশানুরূপ ফলাফল পেতে একজন গবেষককে দীর্ঘদিন ধরে কাজে লেগে থাকার মানসিকতাসম্পন্ন হতে হবে।
গবেষণার ক্ষেত্র নির্বাচন
গবেষণা করার জন্য নিজের আগ্রহের বিষয় বেছে নেওয়াই ভালো। বিষয় নির্বাচনের পর ঐ বিষয়ের আরো নিগূঢ় পর্যায়ে যেতে হবে। যেমন, কারো যদি জীববিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহ থাকে তবে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় গবেষণা করতে চান।
কেউ হয়ত জিনোম সিকোয়েন্সের উপর গবেষণা করেন, আবার কেউ চাইলে মানব দেহের গঠন, কোষ কিংবা এ ধরনের কোনো বিষয়বস্তু ঠিক করে গবেষণা করতে পারেন।
সুপারভাইজার বা তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন
গবেষণার জন্য একজন সুপারভাইজারের অধীনে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একজন গবেষকের গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে যেমন সাহায্য করেন, তেমনি গবেষক কোনো কাজে সমস্যার সম্মুখীন হলে সেসব সমাধানেও সাহায্য করতে পারেন।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক শিক্ষক গবেষণার সাথে জড়িত। এছাড়া সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগেও দেশে বেশ কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করার মাধ্যমে একজন সুপারভাইজারের অধীনে কাজ করার সুযোগ মিলতে পারে।
পড়ার অভ্যাস তৈরি
একজন গবেষকের পড়ার অভ্যাস থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় গবেষণার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো তার পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।
এক্ষেত্রে একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ রিসার্চ আর্টিকেল পড়তে হবে।বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা গবেষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসরণ করার মাধ্যমেও অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রিসার্চ মেথডোলজি’ নামে একটি কোর্স পড়ানো হয় যেখানে গবেষণার মূল বিষয়বস্তুগুলো আলোচনা করা হয়। এছাড়া বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষণার উপর বিভিন্ন কোর্স করানো হয়। পাশাপাশি অনলাইনেও এ ধরনের অনেক কোর্স বর্তমানে চালু রয়েছে।
বিদেশে গবেষণার ক্ষেত্রে
যারা গবেষণার কাজে বিদেশে যেতে চান কিংবা সেখানে স্থায়ী হতে চান তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম কিংবা ২য় বর্ষ থেকেই এ লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে আইএলটিএস অথবা জিআরই কিংবা জিম্যাট স্কোর বেশ সহায়ক হতে পারে। এছাড়া তার যদি ভালো মানের কোনো গবেষণা কিংবা ‘আর প্রোগ্রামিং’ বিষয়ে জানা থাকে তাহলে তা বৃত্তিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ কাজে দিতে পারে।
গবেষণার ক্ষেত্রে একজন গবেষক কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন এবং সেগুলো সমাধানের উপায় নিয়েও কথা হয় ড. আদনান মান্নানের সাথে।
“আমাদের দেশে গবেষণার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অর্থায়নের সমস্যা। গবেষণা খাতে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া দরকার তার তুলনায় অনেক কম বরাদ্দ হয়। যদিও গত কয়েক বছরে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। তাই সরকারকে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে।”
ড. আদনান জানা, একজন গবেষক যখন দেশের বাইরে গিয়ে পিএইচডি কিংবা এম.ফিল করতে যান তখন প্রতি মাসে বৃত্তি বাবদ যে টাকা পান সেটি সন্তোষজন। অথচ বাংলাদেশে তা নগণ্য, যে কারণে এখানে পিএইচডি বা এম.ফিল করতে আগ্রহীর সংখ্যা কম।
“আবার অন্যান্য দেশে দেখা যায় ধনী কিংবা উচ্চবিত্তরা গবেষণা খাতে বিনিয়োগ করে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশে তা খুব একটা হয় না। তাই ধনী কিংবা উচ্চবিত্তদের গবেষণা খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন,” পরামর্শ দেন ড. আদনান
এছাড়া তিনি আরো বলেন, “পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রেও এদেশের গবেষকরা কিছুটা পিছিয়ে। তাই দেশে গবেষণা খাতকে সমৃদ্ধ করতে হলে অবশ্যই গবেষণাকে পেশা হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে যাতে করে এ ক্ষেত্রটিতে আরো অনেকে আগ্রহী হয়।”
তানজিম হাসান পাটোয়ারী বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।
tanjimhasan001@gmail.com