logo

খাবার নিয়ে যত মিথ

ফরহাদুর রহমান | Monday, 1 March 2021


বাঙালি খাবারপ্রিয় জাতি। প্রিয় খাবার পেলে তা খাওয়া যেকোনো ভোজনপ্রেমীর জন্যই মহা আনন্দের বিষয়। তবে মাঝে মাঝে সেটি সামনে পেলেও দেশে প্রচলিত কিছু মিথের কারণে তা থেকে দূরেই থাকতে হয় অনেককে। এই লেখায় দেশে প্রচলিত কিছু মিথ পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।

জোড়া কলা খেলে যমজ সন্তান হয়

অনেক সময় কলার কাঁদিতে এক সঙ্গে লেগে থাকা জোড়া কলা থাকে। প্রচলিত আছে, এসব কলা খেলে যমজ সন্তান হয়। কিন্তু বস্তুত এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, যমজ সন্তান হওয়ার পেছনে জাতিগত কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন-এশিয়ানদের চাইতে আফ্রিকানদের অনেক বেশি যমজ সন্তান হয়। এ ছাড়া মায়ের বয়সটা একটা ব্যাপার। যেমন মায়ের বয়স ৩০-৩৫ এর মধ্যে হয়, তাহলেও যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গ্রহণের সময় খাওয়া ও গর্ভবতী নারীদের ঘর থেকে বের হওয়া ক্ষতিকারক

আমাদের দেশে প্রচলিত আছে, চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া গ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীরা ঘর থেকে বের হলে তাদের সন্তানের ক্ষতি হয়। কিন্তু এসব ধারণার পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই।

পরীক্ষার আগে ডিম খেলে গোল্লা পায়

অনেকেই মনে করেন, ডিম খেয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে পরীক্ষায় গোল্লা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ডিমের সঙ্গে পরীক্ষার নম্বরের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলাফল হয় পরীক্ষা ভালো বা মন্দ হওয়ার ওপরে। তবে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে অনেক সময় ডিম খেলে পেটে গুড়গুড় শব্দ হতে পারে। মাথা ঝিমঝিম করতে পারে। তখন মনে এমনিতেই মনে ভয় চলে আসতে পারে।

খাবার ঢিল মারা উচিত নয়

অনেকে মনে করেন, খাবার ঢিল মারা উচিত নয়। সেটা ফল বা অন্য যেকোনো খাবার। খাবার ঢিল মারলে রোগ-বালাই হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের কথার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে বাচ্চাদের খাবার নষ্ট করা থেকে বিরত রাখতে এমন কথা বলা হতে পারে।

কিছুক্ষণ পরপর খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

প্রতি দুই বা তিন ঘণ্টা পরপর খাবার গ্রহণ করলে তা শরীরের বিপাকীয় কাজকে কার্যকর রাখে বলে একটা ধারণা প্রচলিত আছে। কিন্তু দেখা যায়, কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বেশি খাওয়া কেবল ক্ষুধাই তৈরি করে। সিলভারম্যান নামক এক আমেরিকান পুষ্টিবিদের মতে, আমাদের যে পরিমাণ ক্যালরির প্রয়োজন, কেবল ততটুকুই গ্রহণ করা উচিত। এর বেশি নয়। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর খাবার খাওয়া বা কখনো কখনো উপবাসও শরীরে শক্তি তৈরি করতে ও ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ওভেনে খাবার গরম করা খাবারে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়

অনেকে মনে করেন, মাইক্রোওভেনে খাবার গরম করে খেলে সেটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর এতে হজমেও সমস্যা হয়। এ ধারণা ভুল। কারণ ওভেনে যে রশ্মি থাকে, তা খুবই দুর্বল প্রকৃতির এবং এটি শুধু খাবার গরম করার জন্য সঠিক মাত্রায় থাকে।

দুধ ও আনারস একসঙ্গে খেলে মৃত্যু হতে পারে

কথাটির বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই, এটি আদতেই একটি কুসংস্কার। তবে আনারসে অনেক আঁশ থাকে। এ কারণে আনারস খেলে অনেকের অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে অনেকেই দুধ হজম করতে পারেন না। ফলে দুধ খেলে অনেকের বদহজম হয়। তবে সমস্যাগুলোও দুধ আর আনারস একসঙ্গে খাওয়ার জন্য তৈরি হয় না বরং সমস্যাগুলো ব্যক্তির শারীরিক কিছু সমস্যা বা সীমাবদ্ধতার কারণে হতে পারে।

মিষ্টি বেশি খেলে ডায়াবেটিস হয়

প্রচলিত আছে, বেশি মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয়। কিন্তু মিষ্টি ও ডায়াবেটিসের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ইতিমধ্যেই কারও ডায়াবেটিস হলে চিকিৎসকগণ মিষ্টি খেতে নিষেধ করে থাকেন।