খাদ্যাভ্যাসের যে ভুলগুলো প্রত্যেক রমজানেই হয়
শবনম জাবীন জেবা | Monday, 11 April 2022
শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। সংযম ও আত্মশুদ্ধির এই মাসে সমগ্র বিশ্বের মুসলিমগণ আত্মসংযমের অংশ হিসেবে রোজা রাখেন। রমজান মাসে দিনে দুবেলা খাবারের সময়ে পরিবর্তন আসে; ইফতারি এবং সেহরির সময়। অর্থাৎ দৈনন্দিন খাদ্যাভাসের উপর এর একটা প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।
সারাদিন রোজা রেখে তাই খাবারের তালিকায় থাকা উচিত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার যা দেহকে সতেজ ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। তবে এই সময় নিজের অজান্তেই কিছু ভুল সকলের খাদ্যাভাসের অংশ হয়ে উঠছে না কি সেদিকেও লক্ষ্য রাখা জরুরি।
রোজার রাখার ফলে দিনের একটি লম্বা সময় সব ধরনেরর খাবার এবং পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকা হয়। এর অনেকগুলো সুবিধার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরীরের পরিপাকতন্ত্রের কর্মক্ষমতা উন্নত হয়। তাই রোজার মাসে ঠিকমত খাওয়া দাওয়া না করলে বা সঠিক খাবার গ্রহণ না করলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত চিনি ও লবণ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
ইফতারিতে অনেকেই উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয় বা খাবার এবং অতিরিক্ত সোডিয়াম ও লবণ রয়েছে এমন খাবার গ্রহণ করে থাকেন। এর ফলে হৃদরোগ, কোলেস্টেরল এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মেদের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
জাঙ্ক ফুড খাওয়া
এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ইনস্ট্যান্ট নুডলস, বার্গার বা পিজার কথা বলা যেতে পারে। সময়ের সাথে সাথে ইফতারির তালিকায় এই খাবারগুলোও জায়গা করে নিয়েছে। এই খাবারগুলোর পুষ্টিগুণ একেবারেই কম, অনেকক্ষেত্রি শূন্য। যার ফলে দীর্ঘসময় রোজা রেখে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণে ব্যর্থ এই খাবারগুলো।
তেলে ভাজা খাবার
রোজার মাসে তেলেভাজা খাবার বলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠে গরম গরম পিঁয়াজু, বেগুনি, ডিপচপসহ আরো কত কি! ভেজে তোলার পরও এই খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে তেল থেকে যায়। তাই এই খাবারগুলো সহজে হজম হয় না, বিশেষত সারাদিন খালি পেটে থাকার পর ইফতারির সময় এই খাবারগুলো গ্রহণের ফলে তা স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর হয়ে উঠে।
সেহরির সময় প্রচুর পরিমাণে শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ
‘সেহরির সময় পেট পুরে খেলে দিনের বেলা রোজা থাকার সময় ক্ষুধা লাগবে না ’- এটি একটি খুব সহজাত চিন্তা যা কমবেশি সকলের মধ্যে কাজ করে। এর ফলে সেহরির সময় শর্করা জাতীয় খাবার বিশেষত ভাত অনেক পরিমাণ গ্রহণ করা হয়। বিপত্তিটা বাঁধে এখানেই। বেশি পরিমাণে শর্করা গ্রহণের ফলে তা সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং স্থূলতাকে স্বাগত জানায়।
চা এবং কফি গ্রহণ
রোজার মাস কি, বছরের বাকি এগারো মাস, চা বা কফি ছাড়া একটি দিনও ভাবা যায় না এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। ইফতারির পর বা সেহরির আগে চা বা কফি পানের ফলে দিনের বেলা পানিশূন্যতা এবং দ্রুত ক্ষুধার উদ্রেক হতে পারে। এছাড়াও ক্যাফেইনের কারণে অনেকসময় মাথাব্যথা হতে পারে।
ইফতারিতে প্রচুর খাওয়া
ইফতারির সময় বিভিন্ন ধরনের প্রচুর পরিমাণে খাবার গ্রহণ করার ফলে ডায়রিয়া, বমি, তলপেটে ব্যথা বা আলসারের সমস্যা দেখা দেয়। তাই ইফতারি সময় অল্প পরিমাণে হালকা খাবার গ্রহণ করাই উত্তম।
সেহরি না করা
সংখ্যায় খুব কম হলেও অনেকের মধ্যেই সেহরি না করার প্রবণতা থাকে। এমনটি করার ফলে পানিশূন্যতা, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ বা হজমে সমস্যা হতে পারে। কারণ ভোর হওয়ার আগের এই সময়টাতে গ্রহণ করা খাবার দিনের বাকি সময়টুকুর জন্য দেহের পুষ্টি চাহিদা সরবরাহ করবে।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com