ক্লাসে ফিরেছেন আবরার হত্যায় আজীবন বহিষ্কৃত বিটু, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম | Thursday, 27 May 2021
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বিটু ক্লাসে ফেরায় তার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বুয়েটের একদল শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বুয়েটের শহীদ মিনারে এই মানববন্ধন থেকে বুয়েট পুনরায় অচল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মীর পিটুনিতে নিহত হন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার।
এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রায় দুই মাস অচল ছিল বুয়েট। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিটুসহ ২৬ জনকে আজীবন বহিষ্কার করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় হওয়া মামলায় বিটুকে আসামি করেনি পুলিশ।
এদিকে বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে বিটুর করা এক রিট আবেদনে উচ্চ আদালত গত ১০ ফেব্রুয়ারি বুয়েট কর্তৃপক্ষের বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করে।
আদালতের সেই আদেশ নিয়ে বিটু আবেদন করলে বুয়েট কর্তৃপক্ষ গত ৪ এপ্রিল তাকে ক্লাসে ফেরার অনুমতি দেয়। এরপর তিনি কেমিকৌশল বিভাগের লেভেল-৩ টার্ম-১–এর অন্তত চারটি কোর্সে নিবন্ধন করেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ২২ মে বিটু কেমিকৌশল লেভেল-৩ টার্ম-১ এর একটি কোর্সের অনলাইন ক্লাসে অংশ নেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে ক্লাসের সব শিক্ষার্থী তাদের প্রাতিষ্ঠানিক জুম ও টিমস অ্যাকাউন্টে ‘খুনির সঙ্গে ক্লাসে অংশগ্রহণ নয়’ লেখা প্রোফাইল ছবি দেন। তখন বিটু ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান।
পরে শিক্ষার্থীরা বিটুর কোর্স রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কেউ যাতে আর একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানায়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সপ্তদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আলী আহমেদ মুয়াজ বলেন, “বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশিকুল ইসলাম বিটুর সাথে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে কোনো শর্তেই ইচ্ছুক নই– এই মর্মে বুয়েট প্রশাসনের কাছে দাবি আমরা দাবি উত্থাপন করেছি।
“আগামী ২৯ মে এর মধ্যে কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিগুলো কার্যকর না করলে বুয়েটের সকল সাধারণ শিক্ষার্থী ৩০ মে হতে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে বাধ্য হব।”
এবিষয়ে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের জানিয়েছি, রেজিস্ট্রেশনের জন্য সে যে আবেদন করেছে, সেটা এপ্রুভ হয়নি।
“আমরা যে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছি, সে ওটা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। উচ্চ আদালত তার বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করেছে, সেটার রেসপেক্টেই আমাদের রেজিস্ট্রার অফিস তাকে ক্লাসে ফেরার অনুমতি দিয়েছে। যেহেতু সে আদালত থেকে আইনি অর্ডার নিয়ে এসেছে, সেটা আমাদেরকে আইনিভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। এবিষয়ে আপিলের প্রক্রিয়া চলছে। তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেনি বুয়েট।”
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের বলেছি, এটা আদালতে আপিল করার প্রচেষ্টা চলছে। আশা করি, দুয়েক দিনের মধ্যেই আপিল করা যাবে।”