কোভিডে মৃত্যু: সব শ্রমিকের জন্য ব্যাংককর্মীদের মত ক্ষতিপূরণ চান বিএনপি নেতা
Saturday, 1 May 2021
করোনাভাইরাসে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে যে অংকের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা হয়েছে, দেশের সকল শ্রেণির শ্রমিকের জন্য তা চালু করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান।
শনিবার মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ দাবি জানান, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তিনি বলেন, “আমরা সম্প্রতি দেখলাম যে, আমাদের ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিয়ম হয়েছে, কোভিডে মারা গেলে একটা পরিমাণ নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যে তারা ক্ষতিপূরণ পাবে। আমরা খুশি হয়েছি যে অন্তত একটা প্রতিষ্ঠানে এরকম একটা আইন, একটা নিয়ম করা হয়েছে।
“কিন্তু যারা মূল উৎপাদনশীল শ্রমিক, যারা বেশি পরিশ্রম করে, যারা অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে, সেইসব শ্রমজীবী মানুষের জন্যও একই নিয়ম হবে না কেন? কেন সাংবাদিক বন্ধুদের জন্য একই নিয়ম হবে না, কেন আমার পুলিশ ভাইদের জন্য একই নিয়ম হবে না?”
করোনাভাইরাসে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আক্রান্ত হলে যে বীমা সুবিধা দেওয়া হয়েছিল তা প্রত্যাহার করে গত মাসে শুধু মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদবী অনুযায়ী তিনটি ধাপে ফেলে তাদের পরিবারকে ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয় সেখানে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “যদি ৫০ লক্ষ টাকা পায়, ২৫ লক্ষ টাকা পায় কোভিডে মারা গেলে, অন্যরা কেন কম পাবে কিংবা পাবে না। স্বাধীন রাষ্ট্রে এ ব্যাপারে নানারকম নিয়ম থাকবে কেন? বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠান তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যা উচিত মনে করে, রাষ্ট্র সারাদেশের শ্রমিকদের জন্য তা উচিত মনে করবে না কেন?
“আজকে এই মে দিবসের সমাবেশ থেকে দাবি করছি, সব শ্রেণির শ্রমিকদের জন্য কোভিডে আক্রান্ত হলে তাদের সুচিকিৎসা এবং মারা গেলে তাদের জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যে নিয়ম করা হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।”
করোনাভাইরাস মহামারীর এই সঙ্কটের দিনে শ্রমিকদের জন্য ‘রেশন’ চালুর দাবিও জানান এই বিএনপি নেতা।
“আমরা শ্রমিকদের জন্য রেশন দাবি করেছিলাম। এটা নতুন কোনো দাবি নয়, ব্রিটিশ আমল থেকে আছে। আমরা নিজেরা যেসব কারখানায় চাকরি করেছি, সেসব কারখানায় রেশন শপ ছিল, ন্যায্যমূল্যের দোকান ছিল।
“সব সময় যদি নাও হয়, করোনার মতো দুযোর্গকালে শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশন ও ন্যায্যমূল্যের দোকান করা উচিত, যাতে করে তারা তাদের সীমিত আয়ের মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করতে পারে।”
শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদকে এই দাবি আদায়ে ‘প্রয়োজনীয় উদ্যোগ’ নেওয়ার আহ্বান জানান নজরুল ইসলাম খান।