কেন টুইটার ব্যবহার করবেন
তানজিম হাসান পাটোয়ারী | Friday, 24 September 2021
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো অতি দ্রুত মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে আপনি যেমন আপনার যেকোনো মতামত সবার সামনে তুলে ধরতে পারবেন; ঠিক তেমনি অন্যদের মতামতও অতি দ্রুত পেতে পারেন। এমনই একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম হলো ‘টুইটার’, যা বিশ্বায়নের এ যুগে মানুষকে একে অন্যের আরো কাছাকাছি আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, জীবনধারা, কিংবা গণযোগাযোগের ক্ষেত্রেও বর্তমানে এই মাধ্যমটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, কিংবা টুইটার বেশ জনপ্রিয়। যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ মাধ্যমগুলোর প্রত্যেকটিরই রয়েছে আলাদা ব্যবহার ও গুরুত্ব। শিক্ষা ও মত প্রকাশের জায়গা হিসেবে যেমন মাধ্যমগুলো কাজ করে; ঠিক তেমনি কাজের প্রয়োজনে দূরে অবস্থান করা পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে অতি সহজে যোগাযোগ করার উপায় হিসেবেও এগুলোর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।
সংক্ষেপে টুইটার
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে খুব অল্প সময়েই মাইক্রোব্লগিং সাইট হিসেবে পৃথিবীব্যাপী জনপ্রিয়তা পেয়েছে টুইটার। একজন ব্যক্তি তার যেকোনো মতামত, ছবি, শিক্ষামূলক বক্তব্য ইত্যাদি টুইটারে পোস্ট করার মাধ্যমে তার অনুসারীদের জানাতে পারেন। আবার একইভাবে তিনিও এধরনের যেকোনো সংবাদ বা মতামত পেতে পারেন বিভিন্ন ব্যাক্তি কিংবা সংগঠনকে টুইটারে অনুসরণ করার মাধ্যমে।
টুইটারে পোস্ট দেওয়াকে বলা হয় টুইট। বর্তমানে চীনা, জাপানিজ, কিংবা কোরিয়ান ভাষা ছাড়া অন্য যেকোনো ভাষায় সর্বোচ্চ ২৮০ শব্দের টুইট করা যায়। আর চীনা, জাপানিজ, এবং কোরিয়ান ভাষার ক্ষেত্রে এ সীমা ১৪০ শব্দ পর্যন্ত, যেহেতু এসব ভাষায় অল্প লেখাতেই বেশি মতামত প্রকাশ করা যায়।
টুইটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনি প্রথমেই যে সুবিধাটি পাবেন, সেটি হলো দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্ব নেতাদের অনুসরণ করার সুযোগ। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে টুইটার বেশ জনপ্রিয় এবং বেশিরভাগ নেতাই টুইটারের মাধ্যমে তাদের বক্তব্যগুলোকে তুলে ধরেন। এতে করে বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কে আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন। আবার বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক টুইটও আপনি এখান থেকে পাবেন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি আপনি আপনার পছন্দের অভিনেতা-অভিনেত্রী কিংবা ক্রীড়াজগতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও এখানে খুঁজে পাবেন। স্বাভাবিকভাবেই বিনোদন ও ক্রীড়াজগত সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ সবসময় একটু বেশি থাকে। আর তাই এসব জগতের মানুষের মতামত, জীবনধারা, কিংবা পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে জানতে আপনি এই মাধ্যমটি ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি তারকারা তাদের সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র, নাটক, কিংবা টিভি সিরিজের কথা তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করে থাকেন দর্শকদের উদ্দেশে। ক্রীড়াঙ্গনের ব্যক্তিরাও তাদের ক্রীড়াজগতের আসন্ন ইভেন্ট কিংবা অর্জনের কথাগুলো টুইট করে তাদের ভক্তদের চাঙ্গা রাখতে চেষ্টা করেন।
এটি ব্যবহারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সংবাদ মাধ্যম কিংবা বিভিন্ন সংগঠনের নিজস্ব টুইটার অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ঘটে যাওয়া খবরগুলো অতি সহজেই পেতে পারেন। দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক জগতের খবরগুলো জানার সুযোগ থাকায় বর্তমানে বিশ্বব্যাপী টুইটারের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনীতি, শিক্ষা, সমাজকর্মসহ বিবিধ বিষয়গুলোও আপনি এখান থেকে জানতে পারবেন। এতে করে আপনার জ্ঞানের পরিধি যেমন বাড়বে; ঠিক তেমনি আপনি ঐসব টুইটের কমেন্ট অংশে গিয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামতটিও সবাইকে জানাতে পারবেন।
সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবেও টুইটার বিশ্বব্যাপী বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মানুষগুলোকে এক করতে যে মাধ্যমগুলো কাজ করছে, সেখানে টুইটারের ভূমিকাও কিন্তু কম নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মানুষগুলোকে অনুসরণ করার পাশাপাশি তাদের সাথে বার্তা বিনিময় কিংবা তাদের টুইটে কমেন্ট বা রিপ্লাই করার মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার যোগাযোগের পরিধি বাড়াতে পারবেন। আর পাশাপাশি টুইট করার মাধ্যমে নিজের মত প্রকাশের সুযোগ তো থাকছেই।
ছাত্রজীবনে টুইটার
ছাত্রজীবন হচ্ছে জ্ঞান অন্বেষণ এবং ভবিষ্যত জীবনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময়। আর এসময় একজন শিক্ষার্থী টুইটারের সাহায্যে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন, যেটি তার জ্ঞানার্জনের পথকে আরো সুগম করতে সাহায্য করে। তাছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনুসরণ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন, যেটি একইসাথে তাদের যোগাযোগের পরিধি আরো বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
টুইটার ব্যবহারকারীদের মধ্য থেকে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী তাসনিয়া ফেরদৌসের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমি মূলত রাজনীতি এবং বিনোদন জগতের খবর জানতে টুইটার ব্যবহার করি। তা ছাড়া, অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী আছেন যারা ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন না। তাদের মতামত জানার ক্ষেত্রেও টুইটার বেশ সাহায্য করে। আসলে নতুন বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে টুইটারের ভূমিকা সত্যি খুব প্রশংসনীয়।”
বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমের মতো টুইটারও তার স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য এবং সুযোগ-সুবিধার কারণে বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ব্যক্তিজীবনের সর্বত্রই এটি মানুষকে নতুন ও বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন তথ্য জানানোর মাধ্যমে তাদের জ্ঞানার্জনের পথ সুগম করতে সাহায্য করে। তাই দুর্বার গতিতে ছুটে চলা এ বিশ্বকে জানতে ও জ্ঞানের পরিধিকে আরো প্রসারিত করতে টুইটারের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে বৈ কমছে না।
তানজিম হাসান পাটোয়ারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।
tanjimhasan001@gmail.com