কৃষিপণ্য উৎপাদনের ৬ খাতে মিলবে ১০ বছরের কর অবকাশ
Thursday, 3 June 2021
করোনাভাইরাসের এই সময়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং নতুন বিনিয়োগ খরা কাটাতে উদ্যোক্তাদের জন্য বেশ কিছু খাতে কর ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল; এর মধ্যে কৃষিপণ্যের ছয় খাতে থাকছে ১০ বছরের কর অবকাশ, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট উপস্থাপনকালে বলেন, “শর্তসাপেক্ষে ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন, সম্পূর্ণ দেশীয় কৃষি হতে শিশু খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্প এবং কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগে থাকবে ১০ বছরের করমুক্তি সুবিধার প্রস্তাব করছি।
এর যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, “দেশীয় কৃষিভিত্তিক শিল্পে বাংলাদেশে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিজাত পণ্যের আমদানি বিকল্প তৈরির মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ও কমর্সংস্থান সম্ভব।
“একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের এ যুগে কৃষ পণ্যে মূল্য সংযোজন ও বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক রপ্তানি বাণিজ্যের দখল নেওয়া সম্ভব।“
মহামারীকালে অর্থনীতি গতিশীল করার পাশাপাশি নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে এমন উদ্যোগ। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন উদ্যোগ সৃষ্টি ও তরুণদের আরো সেখানে অর্ন্তভূক্ত করাই এর উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: পিএমওকরোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: পিএমওশর্তের মধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যারা এ খাতে বিনিয়োগ করবেন, তারা এই আয়কর অব্যাহতির সুবিধা পাবেন বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা বলেছেন।
করমুক্তি সুবিধা নিতে ন্যূনতম এক কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বিডার নিবন্ধন নিতে হবে। কাঁচামাল পুরোটাই দেশে উৎপাদিত হতে হবে।
কৃষির পাশাপাশি ইলেকট্রনিকক্স খাতের স্থানীয় শিল্পের সম্প্রসারণেও থাকছে বিশেষ ছাড়।
অর্থমন্ত্রী হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স পণ্যে শর্ত সাপেক্ষে ১০ বছরের কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
তিনি আগামী অর্থবছরে হালকা প্রকৌশল শিল্পেও ১০ বছর কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
কর অবকাশের ক্ষেত্রে অন্য খাতের মত এসব শিল্পেও প্রথম থেকে দশম বছর পর্যন্ত ১০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কর মওকুফের সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা।
দেশে ইলেকট্রিক সামগ্রী উৎপাদনে ২০১০ সালে প্রথম ভ্যাট ও কর ছাড় দেওয়া হয়। এর পর থেকে এ খাতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। আমদানিনির্ভরতা ও দাম কমেছে। দেশে ব্যবহারও বেড়েছে।
আবার কর ছাড়ের সুবিধা নিতে স্যামসাং, এলজি বাটারফ্লাই, কনকার মতো ব্র্যান্ডের বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান দেশে কারখানা স্থাপন করেছে।