কিডনি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস বন্ধ, স্বজনদের বিক্ষোভ
এফই অনলাইন ডেস্ক | Wednesday, 2 February 2022
রাজধানীর জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।
ক্ষুব্ধ স্বজনরা ঢাকার শেরে বাংলা নগরে এ হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। ফলে মিরপুর সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
রোগীরা বলছেন, হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবার দায়িত্বে থাকা কোম্পানি স্যানডোর ডায়ালাইসিস সার্ভিস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড বকেয়া টাকার জন্য সেবা বন্ধ করে দিয়েছে।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আল আমিন বারী সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস নিতে এ হাসপাতালে আসেন। কিন্তু মঙ্গলবার এসে জানতে পারেন, ডায়ালাইসিস বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা সকাল ৬টার সময় এসেছি। দেখি তালা মারা। বলছে ডায়ালাইসিস দিতে পারছে না। কারণ জিজ্ঞেস করলাম, তারা বলে সরকারের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছে না। তাই ডায়ালাইসিস দিতে পারবে না।”
দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগ হলে তা সাধারণত সারে না। এমন ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা কিডনি ফেইলিউরের শেষ ধাপে পৌঁছে গেলে তখন রোগীর ডায়ালাইসিস করাতে হয়।
সুস্থ মানুষের দেহে রক্ত শোধন করে খনিজ ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখে কিডনি। সেটা যখন কাজ করে ন, তখন ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে রক্ত শোধন করতে হয়।
গত ১৩ বছর ধরে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয় আল আমিন বারী বলেন, “আমাদের যখন ডায়ালাইসিস নিতে দেরি হয়, তখন শ্বাসকষ্ট অনেক বেড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ডায়ালাইসিস করাতে না পারলে জীবনমরণ সমস্যা হয়ে যায়।”
জসিম উদ্দিন লিটন নামে আরেকজন রোগী বলেন, “কিছু দিন পরপরই এরা টাকার জন্য ডায়ালাইসিস বন্ধ রাখে। তাতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।”
এ বিষয়ে স্যানডোর ডায়ালাইসিস সার্ভিস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের কারো বক্তব্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানতে পারেনি।
জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, “হাসপাতালের নিয়মিত রোগীদের ডায়ালাইসিসের বিল বাকি নাই। করোনাভাইরাসের কারণে অন্যান্য হাসপাতাল থেকেও এই হাসপাতালে এসে ডায়ালাইসিস করিয়েছে অনেক রোগী। অতিরিক্ত রোগীর জন্য যে বিল হয়েছে, সেটা বাকি আছে।”
কোভিডের কারণে কুর্মিটোলা ও মুগদা হাসপাতাল থেকেও রোগী এসেছে জানিয়ে পরিচালক বলেন, “এজন্য এক্সট্রা পেমেন্ট দিতে হবে, সেটা তারা চাচ্ছে। এই পেমেন্টও তারা পেয়ে যাবে, কিছুটা সময় দরকার।”
দেশে কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় এই বিশেষায়িত হাসপাতালে একজন রোগীর একবার ডায়ালাইসিস নিতে দুই হাজার ৭০০ টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে রোগীর কাছ থেকে নেওয়া হয় ৫১০ টাকা। বাকি টাকা হাসপাতাল বহন করে। সপ্তাহে সোমবার এবং বুধবার কম টাকায় ডায়ালাইসিস করানো যায় এই হাসপাতালে।
পরিচালক বলেন, “ডায়ালাইসিস সেবা যাতে বন্ধ না থাকে, সেজন্য আমার পক্ষ থেকে যতদূর চেষ্টা করা দরকার তা করব।”