logo

কাপড়ের দাম বাড়ানোর দাবি নিট মালিকদের

Saturday, 30 October 2021


উৎপাদন খরচ বাড়ার কথা তুলে ধরে তৈরি পোশাকের জন্য সরবরাহ করা কাপড়ের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন কারখানা মালিকরা।

বিভিন্ন ধরনের সুতার তৈরি কাপড়ের বর্ধিত দাম ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন ওভেন ও নিটের তৈরি পোশাক খাতের সহযোগী এই শিল্প মালিকরা।

তাদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেওএ) শনিবার বিশেষ সাধারণ সভা থেকে মূল্য বৃদ্ধির এই ঘোষণা দেয়, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

গার্মেন্টস মালিকরা সুতা থেকে প্রস্তুত কাপড় নিটিং মালিকদের কাছ থেকে বানিয়ে নেন; এক্ষেত্রে সুতা সরবরাহ করেন গার্মেন্টস মালিকরা। প্রতিকেজি হিসেবে এখানে কাপড়ের উৎপাদন মজুরি নির্ধারিত হয়।

সংগঠনটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান স্বপন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০১৪ সালে নিট কাপড়ের দাম প্রতিকেজি সুতার হিসাবে সর্বোচ্চ দুই টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এরপর কাপড়ের উৎপাদন ব্যয় অনেক বাড়লেও তৈরি পোশাক মালিকরা তাদের বাড়তি দাম দেননি।

তিনি বলেন, নিটিং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিনির্ভর। এই শিল্পের কাঁচামাল ও নিডলসহ যন্ত্রাংশের দাম অন্তত ৪০ শতাংশ বেড়েছে।  কিন্তু নিটিং শিল্পের উৎপাদন মজুরি বাড়েনি।

এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে সুতা থেকে তৈরি কাপড়ের দাম বৃদ্ধির দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গেল জার্সির সুতার কেজি ১৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা, ফ্লিসের সুতার কেজি ২২ টাকা থেকে ২৪ টাকা এবং স্লাব ও ভিসকসের সুতার কেজি ১৭ টাকা থেকে ১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিকেওএ সভাপতি স্বপন জানান।

তাদের হিসাবে, দেশের এক হাজারের বেশি নিটিং কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ কেজি কাপড় উৎপাদন হয়। তাদের বোনা কাপড় ব্যবহার করছে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো। দুটি খাত পরস্পরের উপর নির্ভরশীল।

নতুন মজুরি, দুই বছরে কয়েক দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, কারখানা ভাড়া, অগ্রিম বৃদ্ধি, নিটিং মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি মূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে প্রতিকেজি সুতা থেকে কাপড় উৎপাদনে ২০১৪ সালে ১৫ টাকা খরচ হতো বলে তাদের দাবি। কিন্তু তখন তারা কেজি প্রতি ১০ টাকা করে পেতেন। প্রতি কেজিতে ৫ টাকা করে লোকসান দিতে হতো। পরে ওই বছরই সর্বোচ্চ তিন টাকা বাড়ানো হয়। গত সাত বছরে তাদের উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটিতে অবস্থিত বিসিক শিল্প নগরীতে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে বিকেওএর সভা হয়।

সংগঠনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল বাশার, সহ-সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি(অর্থ) কবির হোসেন ভুঁইয়াসহ পরিচালকবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু তাহের শামীম ও সাবেক সভাপতি সেলিম সারোয়ারসহ পরিচালকবৃন্দ। নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আঞ্চলিক শাখার সদস্য ও কর্মকর্তারা এই বিশেষ সভায় যোগ দেন।

স্বপন বলেন, বর্তমানে শ্রমিকদের মজুরি ও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধিসহ সব ধরনের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে মালিকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নতুন ঘোষিত উৎপাদন মজুরি বাস্তবায়নে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সহযোগিতা চান তিনি।

এ বিষয়ে বিকেএমইএ সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স এসোসিয়েশন বাস্তবসম্মতভাবে মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। এই শিল্প টিকে না থাকলে আমরা গার্মেন্টস মালিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।

“এখনই সময় গার্মেন্টস মালিকদের বিদেশি বায়ার ও ব্রান্ডদের সাথে তৈরি পোশাক উৎপাদন মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। মজুরি বৃদ্ধি করা হলে এর ফল গার্মেন্টস মালিকদের সাথে পাবে শ্রমিকেরাও। তাই যেকোনো শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।”